ই-পেপার

রাতে বাবাকে লাইভ লোকেশন, সকালে জমিতে মিলল কিশোরীর মরদেহ

কুমিল্লার লালমাইয়ে ফসলি জমি থেকে জান্নাতুল তাজমিন (১৫) নামে এক কিশোরীর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

আপডেট: ০৯ অক্টোবর ২০২৬, ০২:০৮
৬ ভিউ
রাতে বাবাকে লাইভ লোকেশন, সকালে  জমিতে মিলল কিশোরীর মরদেহ

ছবি সংগৃহীত: ফাইল ছবি

সপ্তম শ্রেণির এই ছাত্রীর গলায় গামছা পেঁচানো অবস্থায় মরদেহটি পাওয়া যায়। ঘটনাস্থলের কাছেই একটি পরিত্যক্ত সিএনজিচালিত অটোরিকশা উদ্ধার করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) সকাল ৮টার দিকে উপজেলার পেরুল উত্তর ইউনিয়নের জগতপুর উত্তরপাড়ার মানুমুড়া জঙ্গলসংলগ্ন একটি ফসলি জমি থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।

জান্নাতুল তাজমিন যশোর সদর উপজেলার চুড়ামনকাটি ইউনিয়নের ছাতিয়ানতলা এলাকার আবদুল আলীমের মেয়ে। পরিবারের সঙ্গে তিনি কুমিল্লা শহরের রেসকোর্স এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকতেন। তিনি কুমিল্লার ফরিদা বিদ্যায়তনের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিলেন।

পরিবারের সদস্যরা জানান, ৪ অক্টোবর বান্ধবীর বাসায় যাওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হন তাজমিন। পরে বিভিন্ন সময়ে ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বান্ধবীর বাসায় থাকার কথা জানান।

বুধবার দিবাগত রাত পৌনে ২টার দিকে বাবাকে একটি মেসেজের সঙ্গে লাইভ লোকেশন পাঠান তাজমিন। সেখানে গিয়ে তাকে নিয়ে আসার অনুরোধও করেন। তবে সে সময় তার বাবা ঘুমিয়ে ছিলেন। ভোরে উঠে মেসেজটি দেখতে পান তিনি। পরে পাঠানো লোকেশন অনুসরণ করে গিয়ে মেয়ের মরদেহ দেখতে পান।

স্থানীয়রা জানান, সকালে কাঁচিকাটা-হরিশ্চর বাজার সড়কের জগতপুর উত্তরপাড়ার মানুমুড়া এলাকায় একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে সন্দেহ হয়। পরে সড়ক থেকে প্রায় ৫০ গজ দূরে ফসলি জমির আইলের পাশে কিশোরীর মরদেহ দেখতে পান তারা। তার গলায় গামছা পেঁচানো ছিল এবং মুখ মাটির দিকে ছিল।

সদর দক্ষিণ সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মোস্তাইন বিল্লা ফেরদৌস জানান, তদন্তে পুলিশ জানতে পেরেছে, ৪ অক্টোবর কুমিল্লা থেকে বের হয়ে তাজমিন ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় যান। পরদিন কুমিল্লায় ফিরে ভোররাতে কক্সবাজারের উদ্দেশে রওনা হন। ৭ অক্টোবর দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে কক্সবাজার থেকে কুমিল্লার উদ্দেশে রওনা হয়ে রাত সাড়ে ১০টার দিকে পদুয়ার বাজারে নূরজাহান হোটেলের সামনে নামেন। এরপর তার সঙ্গে আর যোগাযোগ করা যায়নি।

পুলিশ জানায়, ঘটনাস্থলের কাছে পাওয়া সিএনজির ভেতর থেকে একটি ভ্যানিটি ব্যাগ ও জামা উদ্ধার করা হয়েছে। জামাটি তাজমিনের বলে শনাক্ত করেছেন তার বাবা। প্রাথমিকভাবে পুলিশ ধারণা করছে, গলায় গামছা পেঁচিয়ে তাকে হত্যা করা হয়েছে।

লালমাই থানার ওসি মিজানুর রহমান জানান, মরদেহ উদ্ধারের সময় তার পরিচয় জানা যায়নি। পরে পরিচয় শনাক্ত করা হয়। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হতে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

কুমিল্লার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) পঙ্কজ বড়ুয়া জানান, ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।