ই-পেপার

ইসরায়েলের পুরো রাষ্ট্রীয় কাঠামোর ওপর নিষেধাজ্ঞা চান ব্রিটিশ এমপি

অধিকৃত পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনিদের ওপর সহিংসতা, ভূমি দখল ও নিপীড়নের

আপডেট: ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ১৬:১৯
৭ ভিউ
ইসরায়েলের পুরো রাষ্ট্রীয় কাঠামোর ওপর নিষেধাজ্ঞা চান ব্রিটিশ এমপি

ছবি সংগৃহীত: ফাইল ছবি

অনলাইন ডেস্ক : অধিকৃত পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনিদের ওপর সহিংসতা, ভূমি দখল ও নিপীড়নের ঘটনায় শুধু অবৈধ ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের নয়, দেশটির সরকার ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধেও নিষেধাজ্ঞা আরোপের আহ্বান জানিয়েছেন এক ব্রিটিশ সংসদ সদস্য।

কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরা জানায়, এক নিবন্ধে তিনি বলেন, পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনিদের ওপর চলমান নির্যাতন বিচ্ছিন্ন কিছু বসতি স্থাপনকারীর কর্মকাণ্ড নয়।

বরং এর পেছনে ইসরায়েল সরকারের নীতি ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর ভূমিকা রয়েছে। এ পরিস্থিতিতে যুক্তরাজ্যের উচিত কেবল ব্যক্তিপর্যায়ে নয়, ইসরায়েলের রাষ্ট্রীয় কাঠামোর বিরুদ্ধেও কার্যকর নিষেধাজ্ঞা দেওয়া।

নিবন্ধে ওই এমপি জানান, চলতি সপ্তাহে আরো দুই ব্রিটিশ আইন প্রণেতা ও আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের নিয়ে গঠিত একটি প্রতিনিধিদলের সঙ্গে পশ্চিম তীরে প্রবেশের চেষ্টা করেছিলেন তিনি। কিন্তু ইসরায়েলি বাহিনী তাদের প্রায় আট ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদ ও আটকে রাখার পর প্রবেশের অনুমতি না দিয়ে ফিরিয়ে দেয়।

নিজেদের এই অভিজ্ঞতার সঙ্গে ফিলিস্তিনিদের দৈনন্দিন দুর্ভোগের তুলনা করা যায় না উল্লেখ করে তিনি বলেন, অধিকৃত অঞ্চলে ফিলিস্তিনিরা প্রতিনিয়ত সহিংসতা ও উচ্ছেদের শিকার হচ্ছেন। তার অভিযোগ, গাজায় ব্যাপক হত্যাযজ্ঞের পাশাপাশি পশ্চিম তীরেও ফিলিস্তিনিদের জনবসতি ও অস্তিত্ব নিশ্চিহ্ন করার প্রক্রিয়া চলছে।

নিবন্ধে ইসরায়েলের অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোট্রিচের সাম্প্রতিক বক্তব্যের কথাও তুলে ধরা হয়। সেখানে বলা হয়েছে, গত মাসে তিনি পশ্চিম তীরে গাজার মতো সামরিক অভিযান পরিচালনার আহ্বান জানিয়েছিলেন।

পশ্চিম তীরের পরিস্থিতি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম ও পর্যবেক্ষকদের সামনে আসা ঠেকাতেও ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ পদক্ষেপ নিচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন ওই ব্রিটিশ আইনপ্রণেতা। তার দাবি, গত ১৮ মাসে ব্রিটিশ সংসদ সদস্যদের দুটি প্রতিনিধিদলকে পশ্চিম তীরে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি।

সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনাও তুলে ধরেছেন তিনি। নিবন্ধের তথ্য অনুযায়ী, গাজায় গত তিন বছরে ইসরায়েলি হামলায় ২০০ জনের বেশি ফিলিস্তিনি সাংবাদিক নিহত হয়েছেন। এ ছাড়া গত সপ্তাহে হেবরনে বাড়িঘর ধ্বংসের চিত্র ধারণ করতে যাওয়া সাংবাদিকদের লক্ষ্য করে কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করে ইসরায়েলি বাহিনী।

এদিকে অধিকৃত পশ্চিম তীরের অবৈধ বসতি সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে যুক্তরাজ্যের নতুন নিষেধাজ্ঞার ঘোষণাকে ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন ওই এমপি। তবে তার মতে, ঘোষণার পর ছয় মাস অপেক্ষা না করে দ্রুত নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করা প্রয়োজন।

তিনি বলেন, শুধু বসতি স্থাপনকারী ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে তালিকাভুক্ত করলেই পরিস্থিতির পরিবর্তন হবে না। এসব বসতির সঙ্গে ব্যবসায়িক সম্পর্ক রাখা কম্পানি, অর্থায়নকারী প্রতিষ্ঠান, বিমা সরবরাহকারী এবং নজরদারি প্রযুক্তি প্রদানকারীদেরও নিষেধাজ্ঞার আওতায় আনতে হবে। বসতি স্থাপনের অর্থনৈতিক ভিত্তি দুর্বল করাই হওয়া উচিত যুক্তরাজ্যের পদক্ষেপের অন্যতম লক্ষ্য।

ইসরায়েলের কাছে অস্ত্র বিক্রির ক্ষেত্রেও বিদ্যমান বিধিনিষেধের ফাঁক বন্ধের দাবি জানিয়েছেন তিনি। বিশেষ করে এফ-৩৫ যুদ্ধবিমানের যন্ত্রাংশ সরবরাহ এবং ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীকে প্রশিক্ষণ দেওয়ার কাজে ব্যবহৃত উড়োজাহাজের লাইসেন্স বন্ধের আহ্বান জানিয়েছেন। তার বক্তব্য, গণহত্যা ও বর্ণবৈষম্যের অভিযোগে অভিযুক্ত কোনো সামরিক বাহিনীর কাছে অস্ত্র সরবরাহ অব্যাহত রাখা উচিত নয়।

এ ছাড়া গাজায় মানবিক সহায়তা প্রবেশে বাধা দেওয়ার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি এবং ইসরায়েলি মন্ত্রীদের বিরুদ্ধেও নিষেধাজ্ঞা চান তিনি। একই সঙ্গে গাজার ওপর অবরোধ প্রত্যাহার এবং যুদ্ধবিধ্বস্ত অঞ্চলটির পুনর্গঠনের সুযোগ তৈরির আহ্বান জানিয়েছেন। নিবন্ধের শেষাংশে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতের নির্দেশনার প্রসঙ্গ উল্লেখ করে ওই এমপি বলেন, ইসরায়েলের অবৈধ দখলদারিত্ব বজায় রাখতে সহায়তা করে এমন বাণিজ্যিক ও বিনিয়োগ কার্যক্রম বন্ধ করা যুক্তরাজ্যসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দায়িত্ব। এ কারণে নিষেধাজ্ঞার পরিধি কেবল অবৈধ বসতি স্থাপনকারীদের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে ইসরায়েল সরকারের সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান ও রাষ্ট্রীয় কাঠামো পর্যন্ত সম্প্রসারণ করা প্রয়োজন।