আন্দোলনরত হাইস্কুলের শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনায়
ছবি সংগৃহীত: ফাইল ছবি
অনলাইন ডেস্ক : আন্দোলনরত হাইস্কুলের শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনায় বসার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ। পুরো দেশ যখন সপ্তাহের শেষে বড় আন্দোলনের প্রস্তুতি নিচ্ছে, ঠিক তখনই এমন সিদ্ধান্ত নিলেন তিনি। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।
এতে বলা হয়, শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) অনুষ্ঠেয় এই বৈঠকটি হতে যাচ্ছে ফরাসি রাষ্ট্রপ্রধানের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের প্রথম সরাসরি আলোচনা। গত সেপ্টেম্বর থেকে দেশটির শিক্ষা ব্যবস্থার সার্বিক সংস্কারের দাবিতে আন্দোলন করে আসছে এই শিক্ষার্থী সংগঠনগুলো।
আন্দোলনের চাপ বজায় রাখতে শিক্ষার্থীরা নতুন করে আরও বিক্ষোভের ডাক দিয়েছে। ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, রাস্তাঘাটে পুলিশের উপস্থিতি ২০ শতাংশ বাড়ানো হবে।
গত সপ্তাহের শেষে অধিকাংশ স্থানে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ সংঘটিত হলেও পরবর্তীতে তা সহিংস দাঙ্গায় রূপ নেয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কর্তৃপক্ষ যথাযথ প্রস্তুতি নিতে ব্যর্থ হয়েছে বলে অভিযোগ ওঠে। তাই আগামী শনিবারে প্রত্যাশিত নতুন বিক্ষোভের আগেই কোনো ধরনের ঝুঁকি নিতে চাইছে না প্রশাসন।
প্যারিসে চলাফেরার ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করতে সান্ধ্য আইন (কারফিউ) জারি করা থাকবে এবং মার্শেই ও লিওঁ শহরে বিক্ষোভ প্রদর্শন নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
হাইস্কুলের শিক্ষার্থীরা তাদের দাবিগুলো স্পষ্ট করে দিয়েছে। তাদের দাবি, স্কুলে পর্যাপ্ত অর্থায়ন, অধিক সংখ্যক শিক্ষক নিয়োগ এবং নিজেদের ভবিষ্যত সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে জোরালো ভূমিকা রাখার সুযোগ।
শিক্ষার্থীদের এই আন্দোলন কমার কোনো লক্ষণ না থাকায় এবং রাজনৈতিক অচলাবস্থা ও ক্রমবর্ধমান ঋণের চাপে দুর্বল হয়ে পড়া সরকার এখন এক কঠিন প্রশ্নের মুখোমুখি। ফ্রান্স সরকার এখন তরুণদের রাস্তা থেকে ফিরিয়ে আনতে কী করা যেতে পারে তার দিকেই বেশি মনোযোগী।
ফ্রান্সের ছাত্র সংগঠন লাইসি অ্যাসোসিয়েশনের অন্যতম নেতৃত্বস্থানীয় কর্মী ও ১৮ বছর বয়সী শিক্ষার্থী সুমাইয়া সারে বলেন, বছরের পর বছর ধরে আমাদের কেবল প্রতিশ্রুতিই দেওয়া হয়েছে, যা কখনোই রাখা হয়নি। আমরা চাই প্রতিশ্রুতির বদলে দৃশ্যমান ফলাফল। আমরা আমাদের হাইস্কুলগুলোতে প্রকৃত পরিবর্তন দেখতে চাই।
গত সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি সময় থেকে ফ্রান্সের হাইস্কুলের শিক্ষার্থীরা শিক্ষকের তীব্র সংকট, অতিরিক্ত শিক্ষার্থী ঠাসা শ্রেণিকক্ষ এবং জরাজীর্ণ স্কুল ভবনের প্রতিবাদে আন্দোলন চালিয়ে আসছে।