ই-পেপার

সৌদি রক্ষায় নামছে ফরাসি সেনারা!

হরমুজ প্রণালির সংকটে সৌদি আরবের তেল রপ্তানির বিকল্প পথ হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে লোহিত সাগরের ইয়ানবু বন্দর। তবে....

আপডেট: ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:৫৪
১৭ ভিউ
সৌদি রক্ষায় নামছে ফরাসি সেনারা!

ছবি সংগৃহীত: ফাইল ছবি

এবার সেই বন্দরও হুতিদের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার ঝুঁকিতে পড়েছে। এমন পরিস্থিতিতে গুরুত্বপূর্ণ তেলবন্দরটির নিরাপত্তা জোরদার করতে সৌদি আরবে সেনা পাঠানোর ঘোষণা দিয়েছে ফ্রান্স। সেনাদের পাশাপাশি পাঠানো হবে রাডার ও প্রতিরক্ষাব্যবস্থাও। বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) রাতে টেলিভিশনে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এ ঘোষণা দেন ফরাসি প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাখোঁ। রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

মাখোঁ জানান, ইয়ানবু বন্দর রক্ষায় সৌদি আরবের সঙ্গে একটি চুক্তি চূড়ান্ত করেছে ফ্রান্স। চুক্তি অনুযায়ী, সেখানে মোতায়েন করা হবে ফরাসি সেনাসদস্য, রাডার ও প্রতিরক্ষাব্যবস্থা। তবে তিনি স্পষ্ট করেছেন, ফরাসি সেনাদের পাঠানো হচ্ছে বন্দরটির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে, চলমান সংঘাতে সরাসরি অংশ নিতে নয়। প্রশ্ন হচ্ছে, সৌদি আরবের একটি তেলবন্দর রক্ষায় কেন ফ্রান্সকে সেনা পাঠাতে হচ্ছে?

এর মূল কারণ হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে চলমান সংকট। মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের কারণে এই প্রণালি দিয়ে জ্বালানি পরিবহন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হওয়ায় বিকল্প রপ্তানি পথ হিসেবে ইয়ানবু বন্দরের গুরুত্ব বেড়েছে। সৌদি আরবের পূর্বাঞ্চল থেকে ইস্ট-ওয়েস্ট পাইপলাইনের মাধ্যমে তেল পরিবহন করে লোহিত সাগরের এই বন্দরে আনা হয়। এরপর হরমুজ প্রণালি এড়িয়ে আন্তর্জাতিক বাজারে তেল রপ্তানি করা সম্ভব। তবে সাম্প্রতিক হামলায় এই বিকল্প ব্যবস্থাও হুমকির মুখে পড়েছে।

ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীরা সৌদি আরবের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুর পাশাপাশি ইয়ানবুতে সৌদি আরামকোর স্থাপনায় হামলার দাবি করেছে। অন্যদিকে, সৌদি কর্তৃপক্ষ ইয়ানবুসহ বিভিন্ন এলাকার দিকে ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার কথা জানিয়েছে। এর আগে ড্রোন হামলায় সৌদি আরবের ইস্ট-ওয়েস্ট পাইপলাইনের তিনটি পাম্পিং স্টেশন ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এর প্রভাবে ইয়ানবু বন্দর দিয়ে তেল রপ্তানিও বন্ধ হয়ে যায়। পরে পাইপলাইনটি সীমিত পরিসরে আবার চালু করা হয়।

এ পরিস্থিতিতে ইয়ানবু বন্দরের নিরাপত্তা এখন আর শুধু সৌদি আরবের নিজস্ব স্বার্থের বিষয় নয়। বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখার ক্ষেত্রেও বন্দরটির গুরুত্ব বেড়েছে। একই সঙ্গে জ্বালানি সংকটের চাপ অনুভব করছে ফ্রান্সও। মাখোঁ জানিয়েছেন, আগামী শীতের জন্য দেশটিতে পর্যাপ্ত তেল ও গ্যাসের মজুত রয়েছে। নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে তাঁর সরকার কাজ করছে।

এদিকে, যুক্তরাষ্ট্র ডিজেল রপ্তানি নিষিদ্ধ করার কথা বিবেচনা করছে বলে খবর প্রকাশিত হয়েছে। এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে তা বিশ্ব অর্থনীতি ও মার্কিন অর্থনীতির জন্য বিপর্যয়কর পরিণতি ডেকে আনতে পারে বলে সতর্ক করেছেন মাখোঁ। তবে হোয়াইট হাউস এমন কোনো পরিকল্পনার কথা অস্বীকার করেছে।


Do you like this personality?