ই-পেপার

মার্কিন নির্বাচনে জয়ী পাঁচ হিজাবি মুসলিম নারী

যুক্তরাষ্ট্রের ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনে হিজাব পরিহিত পাঁচ মুসলিম নারী

আপডেট: ০৮ নভেম্বর ২০২৬, ২০:৩৪
১২ ভিউ
মার্কিন নির্বাচনে জয়ী পাঁচ হিজাবি মুসলিম নারী

ছবি সংগৃহীত: ফাইল ছবি

অনলাইন ডেস্ক : যুক্তরাষ্ট্রের ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনে হিজাব পরিহিত পাঁচ মুসলিম নারী নির্বাচিত হয়ে নতুন ইতিহাস গড়েছেন। তাদের চারজন অঙ্গরাজ্যের সিনেটর এবং একজন কংগ্রেস সদস্য হয়েছেন। দেশটির নির্বাচনী ইতিহাসে একসঙ্গে এতসংখ্যক হিজাব পরা নারীর জয় এবারই প্রথম।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন ক্ষমতায় আসার পর দেশজুড়ে মুসলিমবিরোধী বক্তব্য, বিদ্বেষ ও হুমকি বেড়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এমন প্রেক্ষাপটে পাঁচ নারীর বিজয়কে তাৎপর্যপূর্ণ মনে করছেন বিশ্লেষকেরা। তাদের মতে, প্রকাশ্যে মুসলিম পরিচয় ধারণকারী নারীদের নির্বাচিত হওয়া যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক বাস্তবতায় নতুন বার্তা বহন করছে।

নির্বাচিত পাঁচজনই প্রগতিশীল ঘরানার ডেমোক্র্যাট। তাদের একজন জর্জিয়ার অঙ্গরাজ্য প্রতিনিধি রুয়া রোমান। তিনি সিনেটে জয় পেয়েছেন। এর আগে জর্জিয়ার আইনসভায় প্রথম হিজাব পরা মুসলিম নারী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন তিনি।

২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের সময় ফিলিস্তিনপন্থি ডেমোক্র্যাটদের প্রতিনিধিত্ব করে জাতীয় পর্যায়ে আলোচনায় আসেন রোমান। ওই সময় ডেমোক্র্যাটিক পার্টির সম্মেলনে ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত একজন বক্তাকে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দেওয়ার দাবি উঠলেও দলীয় নেতৃত্ব তা নাকচ করে দেয়। জেরুজালেমে জন্ম নেওয়া দাদার নাতনি রোমানকে শেষ পর্যন্ত সম্মেলনে বক্তব্য দেওয়ার জন্য মনোনীত করা হয়েছিল।

নিউইয়র্ক থেকে অঙ্গরাজ্য সিনেটে নির্বাচিত হয়েছেন ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত আবের কাওয়াস। অভিবাসী হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রে আসা কাওয়াস রাজনৈতিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে আগে থেকেই পরিচিত ছিলেন।

২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বরের হামলার পর যুক্তরাষ্ট্রে মুসলিমদের বিরুদ্ধে নজরদারি ও ধরপাকড় বেড়ে যায়। সে সময় অনথিভুক্ত অভিবাসী হিসেবে থাকা তার বাবাকে গ্রেপ্তার করে অভিবাসন কর্তৃপক্ষ। প্রায় তিন বছর আটক রাখার পর তাকে জর্ডানে ফেরত পাঠানো হয়। বাবার বন্দিত্বের সময় মায়ের সঙ্গে কারাগারের কাচের দেয়ালের ওপাশ থেকে তার সঙ্গে কথা বলার স্মৃতি এখনো কাওয়াসের মনে গেঁথে আছে।

ইলিনয় থেকে নির্বাচিত হয়েছেন ২৭ বছর বয়সী নাবিলা সৈয়দ। রিপাবলিকান প্রার্থীর সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে ৫৭ শতাংশ ভোট পেয়ে জয়ী হন ভারতীয় বংশোদ্ভূত এই রাজনীতিক। ২০২২ সালে একটি শূন্য আসনে মনোনয়নের মাধ্যমে অঙ্গরাজ্য আইনসভায় যুক্ত হন তিনি। সবার জন্য সমান স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা এবং জীবনযাত্রার ব্যয় কমানো তার রাজনৈতিক অঙ্গীকারের অন্যতম।

২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের নেতৃত্বে ইসরাইলে হামলার পর ওয়াশিংটনকে যুদ্ধবিরতির উদ্যোগ নিতে আহ্বান জানিয়ে ইলিনয়ের কয়েকজন আইনপ্রণেতার সঙ্গে একটি চিঠিতে স্বাক্ষর করেন নাবিলা। চিঠিটি নিয়ে সমালোচকেরা একে হামাসের প্রতি সমর্থন হিসেবে অভিহিত করেন। তবে এতে বলা হয়েছিল, ফিলিস্তিনিদের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত না করে শান্তি প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়।

পাকিস্তানে জন্ম নেওয়া মেরিয়াম খান কানেকটিকাট থেকে অঙ্গরাজ্য সিনেটে নির্বাচিত হয়েছেন। রিপাবলিকান প্রতিদ্বন্দ্বীকে বড় ব্যবধানে পরাজিত করেন তিনি। ২০২২ সাল থেকে অঙ্গরাজ্য আইনসভায় দায়িত্ব পালন করা মেরিয়াম বিশেষ শিক্ষা, বিচার বিভাগ ও শিক্ষা-সংক্রান্ত বিভিন্ন কমিটিতে কাজ করেছেন।

চলতি বছরের শুরুতে কর্মস্থলের টেবিলে পাকিস্তানের ছোট পতাকা রাখায় রিপাবলিকানদের সমালোচনার মুখে পড়েন মেরিয়াম। নিজের পারিবারিক ও সাংস্কৃতিক শিকড়ের সঙ্গে পাকিস্তানের সম্পর্ক তুলে ধরে তিনি বলেন, ঐতিহ্য নিয়ে গর্ব করা যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি আনুগত্যের বিরোধী নয়।

এদিকে মিনেসোটা থেকে পঞ্চমবারের মতো মার্কিন কংগ্রেস সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন ইলহান ওমর। ২০১৮ সালে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি পরিষদে নির্বাচিত চার মুসলিমের একজন ছিলেন তিনি। একই সঙ্গে কংগ্রেসের প্রথম হিজাব পরা নারী সদস্যও ইলহান।

সোমালিয়ায় জন্ম নেওয়া ইলহান ১৯৯৫ সালে শরণার্থী হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রে আসেন। ১৭ বছর বয়সে তিনি মার্কিন নাগরিকত্ব লাভ করেন। দীর্ঘদিন ধরে ট্রাম্প ও রিপাবলিকান নেতাদের সমালোচনা ও আক্রমণের লক্ষ্যবস্তু হয়ে আসছেন তিনি।

সম্প্রতি ভোররাতে তার বাড়িতে অভিযান চালিয়ে মুঠোফোন, বহনযোগ্য কম্পিউটারসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম জব্দ করেন কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা সংস্থার কর্মকর্তারা। তার নাগরিকত্ব নিয়েও তদন্তের উদ্যোগ নেওয়ার খবর প্রকাশিত হয়েছে। ট্রাম্প একাধিকবার ইলহানের নাগরিকত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন এবং তাকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বের করে দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছেন ইলহান।

যুক্তরাষ্ট্রে মুসলিমবিরোধী প্রচারণা নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছে বিভিন্ন সংগঠন। মুসলিম জনসংযোগ পরিষদের নীতিবিষয়ক ভাইস প্রেসিডেন্ট হারিস তারিনের ভাষ্য, নির্বাচনে মুসলিম নারীদের জয় দেখিয়েছে যে ইসলামবিদ্বেষ ছড়িয়ে ভোটারদের প্রভাবিত করার কৌশল সফল হয়নি।

তিনি বলেন, আগের নির্বাচনের তুলনায় ইলহান ওমর এবার বেশি ব্যবধানে জয় পেয়েছেন। একই সঙ্গে প্রকাশ্যে মুসলিম পরিচয় বহনকারী আরও কয়েকজন নারী নির্বাচিত হয়েছেন। তার মতে, এবারের নির্বাচনে ইসলামবিদ্বেষ কার্যকর রাজনৈতিক কৌশল হিসেবে কাজ করেনি।