ই-পেপার

অভিশংসনের পরই গৃহবন্দি প্যারাগুয়ের সাবেক প্রেসিডেন্ট

ব্যাপক আর্থিক কেলেঙ্কারি ও তীব্র রাজনৈতিক সংকটের মুখে প্যারাগুয়ের

আপডেট: ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ১০:২৭
২৯ ভিউ
অভিশংসনের পরই গৃহবন্দি প্যারাগুয়ের সাবেক প্রেসিডেন্ট

ছবি সংগৃহীত: ফাইল ছবি

অনলাইন ডেস্ক : ব্যাপক আর্থিক কেলেঙ্কারি ও তীব্র রাজনৈতিক সংকটের মুখে প্যারাগুয়ের প্রেসিডেন্ট সান্তিয়াগো পেনিয়াকে অভিশংসনের পরপরই গৃহবন্দি করা হয়েছে। দেশটির ডিজিটাল ব্যাংক উয়েনোকে বিশেষ সুবিধা দেওয়ার মাধ্যমে রাজনৈতিক প্রভাব খাটানোর অভিযোগ উঠেছে তাঁর বিরুদ্ধে। ব্যাংকটির কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর প্রায় ৩০ লাখ গ্রাহক নিজেদের অর্থ ব্যবহার করতে পারছেন না। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, পেনিয়ার প্রশাসনের সময় উয়েনো ব্যাংক দ্রুত সম্প্রসারণের সুযোগ পায়। ব্যাংকটির সাবেক প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা কার্লোস কারভালহো স্প্যালডিংকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রধান হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার তিন মাস পর উয়েনো ডিজিটাল ব্যাংক হিসেবে কার্যক্রম পরিচালনার অনুমতি পায়। এরপর অল্প সময়ের মধ্যে এটি দেশটির অন্যতম বড় ব্যাংকে পরিণত হয়।

সম্প্রতি আর্থিক সক্ষমতার ঘাটতি দেখা দেওয়ায় দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংক উয়েনোর কার্যক্রমে হস্তক্ষেপ করে। এতে ব্যাংকটির প্রায় ২৯ লাখ গ্রাহক নিজেদের হিসাবে থাকা অর্থ ব্যবহারের সুযোগ হারান। এ সংখ্যা দেশটির মোট প্রাপ্তবয়স্ক জনসংখ্যার প্রায় ৬০ শতাংশ।

এর ফলে গ্রাহকরা নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য কেনাসহ দৈনন্দিন খরচ মেটাতে নিজেদের অর্থ তুলতে পারছেন না। এ ঘটনায় দেশজুড়ে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। বিভিন্ন স্থানে পুলিশের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটে।

গত সপ্তাহে পেনিয়ার বিরুদ্ধে অভিশংসন প্রক্রিয়া শুরু হয়। বৃহস্পতিবার তিনি পদত্যাগের ঘোষণা দিলেও পরদিন শুক্রবার দেশটির সিনেটে অভিশংসনের মাধ্যমে তাঁকে প্রেসিডেন্টের পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। ৪৪ জন সিনেটর তাঁর অপসারণের পক্ষে ভোট দেন। এরপর ভাইস প্রেসিডেন্ট পেদ্রো আলিয়ানা নতুন প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নেন।

অভিশংসনের পরপরই পেনিয়াকে গৃহবন্দি করার নির্দেশ দেয় দেশটির সরকারি কৌঁসুলির কার্যালয়। তাঁর বিরুদ্ধে আস্থাভঙ্গ, ক্ষমতার অপব্যবহার ও প্রভাব খাটানোর অভিযোগে তদন্ত চলছে। একই ঘটনায় সাবেক কেন্দ্রীয় ব্যাংকপ্রধান কার্লোস কারভালহোর বিরুদ্ধেও গ্রেপ্তারি নির্দেশ জারি করা হয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, উয়েনো ব্যাংকে রাষ্ট্রীয় ও পেনশন তহবিল থেকে প্রায় ৮০ থেকে ৮৬ কোটি ডলার জমা রাখা হয়েছিল। পেনিয়ারও ব্যাংকটির মূল প্রতিষ্ঠান উয়েনো হোল্ডিংয়ে প্রায় ১০ লাখ ডলারের শেয়ার ছিল। ২০২৫ সালের এপ্রিল মাসে তিনি এসব শেয়ার বিক্রি করেন।

ব্যাংকটির প্রতি সরকারের বিশেষ আনুকূল্য ছিল বলে অভিযোগ উঠেছে। এদিকে আর্থিক সংকটের প্রভাবে দেশটির খুচরা বিক্রি ৮০ শতাংশ পর্যন্ত কমে গেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে ব্যর্থ হওয়ায় পেনিয়া নিজ দলের সমর্থনও হারান।

বিরোধী সিনেটররা এ ঘটনাকে প্যারাগুয়ের গণতান্ত্রিক ইতিহাসের অন্যতম বড় দুর্নীতি ও জালিয়াতির ঘটনা বলে অভিহিত করেছেন।

এদিকে পেনিয়া আর্জেন্টিনায় পালিয়ে যেতে পারেন বলে গুঞ্জন ছড়ালেও তিনি নিজ বাড়িতেই অবস্থান করছিলেন। অভিশংসনের মাধ্যমে প্রেসিডেন্ট পদ ও সাবেক প্রেসিডেন্ট হিসেবে পাওয়া আইনি সুরক্ষা হারানোর পর এখন তাঁকে সাধারণ আদালতের মুখোমুখি হতে হচ্ছে। তথ্যসূত্র: দ্য গার্ডিয়ান, রয়টার্স, এপি