ই-পেপার

ক্যালিফোর্নিয়ার ব্যালট নিয়ে ট্রাম্পের আবেদন খারিজ, জরিপে এগিয়ে ডেমোক্র্যাটরা

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের এক দিন আগে ক্যালিফোর্নিয়ার ২০ হাজার ব্যালট

আপডেট: ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ১০:২৫
৩৯ ভিউ
ক্যালিফোর্নিয়ার ব্যালট নিয়ে ট্রাম্পের আবেদন খারিজ, জরিপে এগিয়ে ডেমোক্র্যাটরা

ছবি সংগৃহীত: ফাইল ছবি

অনলাইন ডেস্ক : যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের এক দিন আগে ক্যালিফোর্নিয়ার ২০ হাজার ব্যালট আলাদা করে রাখার আবেদন খারিজ করেছেন দেশটির সুপ্রিম কোর্ট। এসব ব্যালটের কিছু ভোট অ-মার্কিন নাগরিকরা দিয়ে থাকতে পারেন বলে দাবি করেছিল ট্রাম্প প্রশাসন।

তবে আদালত সেই আবেদন গ্রহণ করেননি। যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যমগুলো এ খবর জানিয়েছে।

বার্তা সংস্থা এবিসি নিউজ জানায়, বিচার বিভাগের মাধ্যমে সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করেছিল ট্রাম্প প্রশাসন। আবেদনে ২০ হাজার ব্যালট আলাদা করে রাখার নির্দেশ চাওয়া হয়।

ভারতীয় সংবাদসংস্থা এএনআই নিউজ জানায়, প্রশাসনের দাবি ছিল, এসব ব্যালটের মধ্যে এমন ভোট থাকতে পারে, যা যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক নন—এমন ব্যক্তিরা দিয়েছেন।

তবে সুপ্রিম কোর্ট আবেদনটি খারিজ করে দেন। এর ফলে ক্যালিফোর্নিয়ায় অ-মার্কিন নাগরিকদের ভোট দেওয়ার অভিযোগ নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের আইনি লড়াই কার্যত শেষ হলো। এদিকে মধ্যবর্তী নির্বাচনের প্রচারের শেষ দিনে সোমবার ব্যস্ত সময় কাটান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

রিপাবলিকান প্রার্থীদের পক্ষে সমর্থকদের ভোট দিতে কেন্দ্রে যাওয়ার আহ্বান জানান তিনি। একই সঙ্গে দলের জয়ের ধারা ধরে রাখার চেষ্টা করেন।

নিউইয়র্কে রিপাবলিকান প্রার্থীদের পক্ষে টেলিফোনে প্রচারের সময় ট্রাম্প বলেন, ‘আগামীকালের মধ্যবর্তী নির্বাচন আমাদের দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।’ তিনি সমর্থকদের আরো বলেন, ‘আপনাদের এমনভাবে ভাবতে হবে, যেন আমিও নির্বাচনে প্রার্থী। কারণ আমি নির্বাচনে থাকলে প্রায় ৫০ শতাংশ বেশি ভোটার ভোট দিতে আসেন।

’ সমর্থকরা ভোট দিতে কেন্দ্রে গেলে রিপাবলিকানরা বড় জয় পাবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।

এ সময় ডেমোক্র্যাটদের সমালোচনা করেন ট্রাম্প। তার অভিযোগ, ডেমোক্র্যাটরা যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধভাবে বসবাস করা ব্যক্তিদের ভোট দেওয়ার সুযোগ দিতে চান। সমর্থকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, যারা দেশকে ঘৃণা করে, তাদের নির্বাচনে জিততে দেওয়া উচিত নয়। ট্রাম্প বলেন, ‘এই নির্বাচনে আপনাদের ভোটের মাধ্যমে সিদ্ধান্ত হবে, উগ্রপন্থীরা ক্ষমতায় আসবে কি না। আমরা আমেরিকাকে শক্তিশালী রাখব। আমার মনে হয়, আমরা এখন আমেরিকার স্বর্ণযুগে আছি। আগে কখনো এমন কিছু ঘটেনি। আমরা যদি ভুল করি এবং যারা আমাদের দেশকে ঘৃণা করে, তাদের জিততে দিই, তাহলে সবকিছু নষ্ট হয়ে যাবে।’

অন্যদিকে নির্বাচনের আগে ডেমোক্র্যাট শিবিরেও আশার কথা শোনা যাচ্ছে। কংগ্রেস সদস্য হাকিম জেফরিস সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে লিখেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসে পরিবর্তন আসছে। সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্সও সব আমেরিকানকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, এবারের নির্বাচনের গুরুত্ব সবাইকে বুঝতে হবে। এক্সে প্রকাশ করা এক ভিডিওতে স্যান্ডার্স বলেন, কয়েক দশক আগে ভারমন্টের বার্লিংটন শহরের মেয়র নির্বাচনে তিনি মাত্র ১০ ভোটের ব্যবধানে জয়ী হয়েছিলেন। ভোট পুনর্গণনার পর এই ফল আসে।

তিনি বলেন, ‘মাত্র ১০ ভোট। আমার কথা হলো, প্রতিটি ভোটই গুরুত্বপূর্ণ।’ স্যান্ডার্স আরো বলেন, ‘আমরা আমাদের দেশের আধুনিক ইতিহাসের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মধ্যবর্তী নির্বাচনের মুখোমুখি। আমরা আমেরিকার ইতিহাসের সবচেয়ে বিপজ্জনক প্রেসিডেন্টকে জবাবদিহির আওতায় আনার চেষ্টা করছি।’ রিপাবলিকানদের নির্বাচনী প্রচারের জন্য বিপুল অর্থ ব্যয়ের বিষয়টিও তুলে ধরেন তিনি। স্যান্ডার্সের অভিযোগ, ইলন মাস্ক ও অন্য রিপাবলিকানরা কংগ্রেসের প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেটে দলের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে কোটি কোটি ডলার খরচ করছেন। তারা এমন একটি কংগ্রেস চান, যারা তাদের সব সিদ্ধান্তে সমর্থন দেবে।

স্যান্ডার্স বলেন, ডেমোক্র্যাটদের এই নির্বাচনে জয়ের সুযোগ রয়েছে। তবে সে জন্য বিপুলসংখ্যক ভোটারকে কেন্দ্রে যেতে হবে। তিনি পরিবার, বন্ধু ও প্রতিবেশীদেরও ভোট দিতে নিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান। ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্বাচনবিষয়ক গবেষণাগারের তথ্য অনুযায়ী, স্থানীয় সময় সোমবার বিকেল পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে ৫ কোটি ৭০ লাখের বেশি মানুষ আগাম ভোট দিয়েছেন। তাদের মধ্যে প্রায় ৩ কোটি ২০ লাখ মানুষ সরাসরি ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ভোট দিয়েছেন। আর ডাকযোগে ভোট দিয়েছেন ২ কোটি ৫০ লাখের বেশি মানুষ।

এদিকে নিউইয়র্ক টাইমস ও সিয়েনা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক জরিপে সিনেটের নিয়ন্ত্রণ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ সাতটি অঙ্গরাজ্যের চিত্র উঠে এসেছে। জরিপ অনুযায়ী, এসব অঙ্গরাজ্যের প্রায় সব কটিতেই রিপাবলিকানদের চেয়ে এগিয়ে রয়েছেন ডেমোক্র্যাটরা। জরিপে টেক্সাস ও কানসাসেও ডেমোক্র্যাটদের ভালো করার সম্ভাবনা দেখা গেছে। এই দুই অঙ্গরাজ্যে তারা উল্লেখযোগ্য ব্যবধানে এগিয়ে থাকতে পারেন। টেক্সাসে ১৯৮৮ সালের পর কোনো ডেমোক্র্যাট সিনেটর নির্বাচিত হননি। আর কানসাসে সর্বশেষ ডেমোক্র্যাট সিনেটর নির্বাচিত হয়েছিলেন ১৯৩২ সালে।

সিনেটে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে হলে ডেমোক্র্যাটদের নিজেদের দখলে থাকা সব আসন ধরে রাখতে হবে। পাশাপাশি রিপাবলিকানদের কাছ থেকে অন্তত চারটি আসন ছিনিয়ে নিতে হবে। অন্যদিকে প্রতিনিধি পরিষদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা ফিরে পেতে ডেমোক্র্যাটদের অন্তত তিনটি আসন বেশি পেতে হবে।