ই-পেপার

৫০৬ কোটি টাকার বিল নামলো ২ হাজার টাকায়

২৩৫ ইউনিটের বিল ৫০৬ কোটি টাকা, চারজনকে শোকজ

আপডেট: ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৮:২০
৭ ভিউ
৫০৬ কোটি টাকার বিল নামলো ২ হাজার টাকায়

ছবি সংগৃহীত: ফাইল ছবি

মাগুরায় মাত্র ২৩৫ ইউনিট বিদ্যুৎ ব্যবহারের বিপরীতে এক গ্রাহকের নামে ৫০৬ কোটি ৮৩ লাখ ১১ হাজার ৫৯৩ টাকার বিল করার ঘটনায় মাগুরা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির আড়পাড়া জোনাল অফিসের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজারসহ (ডিজিএম) চারজনকে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) রাতে ‘অস্বাভাবিক বিদ্যুৎ বিল’ নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশের পর বিষয়টি সামনে আসে।

মাগুরা সদর উপজেলার মঘি ইউনিয়নের কেচুয়াডুবি গ্রামের মোছা. আলেয়া খাতুনের নামে সেপ্টেম্বর মাসে ওই বিল ইস্যু করা হয়। বিলের তথ্য অনুযায়ী, এক মাসে তিনি ২৩৫ ইউনিট বিদ্যুৎ ব্যবহার করেছেন। কিন্তু ডিমান্ড চার্জ হিসেবে দেখানো হয় ৪৮২ কোটি ৬৯ লাখ ৬৩ হাজার ৪২২ টাকা। এর সঙ্গে ২৪ কোটি ১৩ লাখ ৪৮ হাজার ১৭১ টাকা ভ্যাট যোগ হয়ে মোট বিল দাঁড়ায় ৫০৬ কোটি ৮৩ লাখ ১১ হাজার ৫৯৩ টাকা।

নির্ধারিত সময়ে বিল পরিশোধ না করলে বিলম্ব মাশুলসহ ওই বিল বেড়ে ৫৩০ কোটি ৯৬ লাখ ৫৯ হাজার ৭৬৪ টাকা হওয়ার কথাও উল্লেখ ছিল।

অথচ ২৩৫ ইউনিট বিদ্যুৎ ব্যবহারের প্রকৃত বিল হওয়ার কথা ছিল ১ হাজার ৯৬৩ টাকা। বিলম্ব মাশুলসহ যার পরিমাণ দাঁড়াত ২ হাজার ৫৬ টাকা।

অস্বাভাবিক বিলটি দেখে গ্রাহক ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা হতবাক হয়ে যান। পরে বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তারা বিলটি সংশোধন করেন এবং ৫০৬ কোটি টাকার বিল কমে দাঁড়ায় প্রায় ২ হাজার টাকায়। সংশোধিত বিলটি মঙ্গলবার পরিশোধ করেন গ্রাহক।

গ্রাহক মোছা. আলেয়া খাতুন বলেন, ‘এটি শুধু ভুতুড়ে বিল নয়, আজগুবিও। এ ধরনের ভুলের কঠোর প্রতিকার হওয়া জরুরি।’

মাগুরা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির আড়পাড়া জোনাল অফিসের ডিজিএম মো. রেজাউল করিম ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, গ্রাহকের মিটার পরিবর্তনের সময় ভুলবশত মিটারের সিল নম্বরের ডিজিটগুলো ডিমান্ড চার্জের ঘরে পোস্টিং হয়ে যাওয়ায় অস্বাভাবিক বিলটি তৈরি হয়েছিল। পরে বিলটি সংশোধন করা হয়েছে।

সমিতির জেনারেল ম্যানেজার মো. মহিদুল ইসলাম জানান, বিল তৈরিতে এমন বড় ধরনের ভুলের ঘটনায় ডিজিএম মো. রেজাউল করিম, বিলিং সুপারভাইজার ও বিলিং সহকারী সোমা রানীসহ মোট চারজনকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে।