জামায়াতে ইসলামী কখনো জাতীয় ও জনগণের স্বার্থে রাজনীতি করেনি; বরং সব সময় দলীয় স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়েছে।
ছবি সংগৃহীত: ফাইল ছবি
এই মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।
শুক্রবার (৯ অক্টোবর) বিকেলে জিয়া স্মৃতি পাঠাগার আয়োজিত ‘কমল কুঁড়ি’ রচনা প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণী ও আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।
রিজভী বলেন, ১৯৭১ সাল, ১৯৮৬ সাল কিংবা ২০২৪ সাল—প্রতিটি সময়েই জামায়াত রাষ্ট্রীয় স্বার্থের চেয়ে দলীয় স্বার্থকে বেশি গুরুত্ব দিয়েছে।
শান্তিতে নোবেলজয়ী কে এই নাভি পিল্লে
মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানের গ্রেপ্তারের প্রসঙ্গ টেনে বিএনপির এই নেতা বলেন, একজন ব্যক্তির অপরাধের মাত্রা বিবেচনা না করেই বিষয়টিকে রাজনৈতিক রূপ দেওয়া হচ্ছে। তিনি অভিযোগ করেন, জামায়াতের অন্যতম প্রধান নেতা এখন রেমিট্যান্স বন্ধের আহ্বান জানাচ্ছেন। তবে এ ধরনের পদক্ষেপ কীভাবে বাস্তবায়ন করা হবে, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।
রেমিট্যান্স বন্ধের হুমকির সমালোচনা করে রিজভী বলেন, প্রবাসী আয় বাংলাদেশের উন্নয়ন ও জাতীয় অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি। এই আয় বন্ধ করার হুমকি দেশের উন্নয়নকে বাধাগ্রস্ত করার পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে। এ ধরনের রাজনীতির উদ্দেশ্য নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।
ছাত্ররাজনীতির ভূমিকা প্রসঙ্গে রিজভী বলেন, ছাত্ররাজনীতিকে শুধু মিছিল, মিটিং ও স্লোগানের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখলে চলবে না। শিক্ষার্থীদের সমাজ, রাষ্ট্র, দেশের অভ্যন্তরীণ প্রতিষ্ঠান এবং বিশ্বরাজনীতি সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন করতে হবে। মেধা, জ্ঞান ও গণতান্ত্রিক চর্চার মাধ্যমে ছাত্রদলকে নিজেদের বিকশিত করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, একসময় তরুণদের নিয়ে হতাশা প্রকাশ করা হলেও ২০২৪ সালের আন্দোলনে তাঁদের অগ্রসৈনিকের ভূমিকা সেই ধারণাকে ভুল প্রমাণ করেছে। তরুণদের শক্তি ও চেতনা যে সমাজ পরিবর্তনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে, ওই আন্দোলন তার প্রমাণ।
জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক ও ‘কমল কুঁড়ি’র আহ্বায়ক আমানউল্লাহ আমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উদ্বোধক হিসেবে বক্তব্য দেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ও জিয়া স্মৃতি পাঠাগারের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সালাম।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ও সংগীতশিল্পী বেবী নাজনীন, সংসদ সদস্য নিলোফার চৌধুরী মনি, বিএনপির সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক আশরাফ উদ্দীন আহমেদ উজ্জ্বল এবং প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী মো. রাশেদ খানসহ অন্যরা।