ই-পেপার

বাইন্যান্স থেকে ৩৬০ কোটি ডলারের সম্পদ তুলে নিয়েছেন গ্রাহকরা

ইতিহাসের সবচেয়ে বড় হ্যাকিংয়ের ঘটনার পর কার্যক্রম পুনরায় চালু করেছে

আপডেট: ০২ নভেম্বর ২০২৬, ১৮:০৫
২ ভিউ
বাইন্যান্স থেকে ৩৬০ কোটি ডলারের সম্পদ তুলে নিয়েছেন গ্রাহকরা

ছবি সংগৃহীত: ফাইল ছবি

অনলাইন ডেস্ক : ইতিহাসের সবচেয়ে বড় হ্যাকিংয়ের ঘটনার পর কার্যক্রম পুনরায় চালু করেছে বিশ্বের বৃহত্তম ক্রিপ্টোকারেন্সি এক্সচেঞ্জ বাইন্যান্স। কার্যক্রম চালুর পর রোববার প্রতিষ্ঠানটি থেকে গ্রাহকেরা প্রায় ৩৬০ কোটি ডলারের (৩ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলার) সম্পদ তুলে নিয়েছেন। বার্তাসংস্থা বিবিসির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা যায়।

গত সপ্তাহে বাইন্যান্সের ওপর সাইবার হামলায় প্রায় ৬৩০ কোটি ডলারের ডিজিটাল সম্পদ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ঘটনার পর সাময়িকভাবে সব ধরনের লেনদেন বন্ধ করে দিয়েছিল প্রতিষ্ঠানটি। যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা এফবিআইসহ কয়েকটি বড় সংস্থা এ হামলার জন্য উত্তর কোরিয়াকে দায়ী করেছে।

বাইন্যান্স জানিয়েছে, হ্যাকিংয়ের ঘটনায় চুরি হওয়া সম্পদের প্রায় ৯৫ শতাংশের সমপরিমাণ অর্থের ব্যবস্থা করা হয়েছে। বাকি অর্থ সংগ্রহে আরও সময় লাগতে পারে। তবে গ্রাহকদের ক্ষতির পুরো অর্থ প্রতিষ্ঠানটি বহন করবে বলে বারবার আশ্বাস দিয়েছে।

বাইন্যান্সের তথ্য অনুযায়ী, ১ নভেম্বর গ্রিনিচ মান সময় সকাল ৬টা থেকে বিকেল ৩টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত গ্রাহকেরা ৪৬৪ কোটি ৯০ লাখ ডলারের সম্পদ উত্তোলন করেন। একই সময়ে জমা পড়ে ১০১ কোটি ডলার। ফলে নিট হিসাবে প্রতিষ্ঠানটি থেকে বেরিয়ে যায় প্রায় ৩৬৪ কোটি ডলার।

প্রতিষ্ঠানটি জানায়, শুরুতে ব্যাপক হারে অর্থ উত্তোলন হলেও পরে তা কমে এসেছে এবং পরিস্থিতি প্রত্যাশা অনুযায়ী স্থিতিশীল হচ্ছে। বাইন্যান্সের ব্যবস্থাপনায় থাকা মোট ১৭ হাজার ১০০ কোটি ডলারের সম্পদের তুলনায় রোববারের নিট উত্তোলনের পরিমাণ ২ শতাংশের কিছু বেশি।

এদিকে, চুরি হওয়া অর্থের একটি অংশ এখনো পাচার করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে ব্লকচেইন বিশ্লেষণ প্রতিষ্ঠান চেইন্যালাইসিসের কর্মকর্তা অ্যালেক জেব্রিক। তার ভাষ্য, হামলাকারীরা হাজার হাজার ডিজিটাল ওয়ালেট ঠিকানায় অর্থ ভাগ করে স্থানান্তর করছে, যাতে সেগুলোর উৎস শনাক্ত করা কঠিন হয়।

হামলার জন্য উত্তর কোরিয়াভিত্তিক সাইবার অপরাধী সংগঠন ‘ট্রেডারট্রেইটার’কে দায়ী করা হচ্ছে। গোষ্ঠীটি ‘লাজারাস গ্রুপ’ নামেও পরিচিত। ২০২৫ সালে ক্রিপ্টো এক্সচেঞ্জ বাইবিট থেকে ১৫০ কোটি ডলার চুরির সঙ্গেও তাদের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ রয়েছে। শনিবার এফবিআই গোষ্ঠীটির সঙ্গে যুক্ত কয়েকটি ক্রিপ্টো ওয়ালেটের ঠিকানা প্রকাশ করে সেগুলোর লেনদেন বন্ধে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর সহযোগিতা চেয়েছে।

বাইন্যান্সের প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে, এক প্রকৌশলীর ল্যাপটপের নিরাপত্তা ভেঙে হ্যাকাররা অননুমোদিত লেনদেনের সুযোগ তৈরি করেছিল।

চুরি হওয়া সম্পদের ক্ষতিপূরণ দিতে নিজস্ব কোষাগার, ফিউচার্স বিমা তহবিল এবং জরুরি রিজার্ভ ব্যবহার করেছে বাইন্যান্স। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, নিরাপত্তা যাচাই শেষে ধাপে ধাপে আরও সেবা চালু করা হবে। ইতিমধ্যে বিটকয়েন ও ইথেরিয়ামসহ দুই ডজনের বেশি বড় ক্রিপ্টোকারেন্সির উত্তোলন আবার শুরু হয়েছে।