যুক্তরাষ্ট্রের ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনকে ঘিরে নির্বাচনী প্রচারণায় ব্যয়ের নতুন
ছবি সংগৃহীত: ফাইল ছবি
অনলাইন ডেস্ক : যুক্তরাষ্ট্রের ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনকে ঘিরে নির্বাচনী প্রচারণায় ব্যয়ের নতুন রেকর্ড হতে যাচ্ছে। এবারের নির্বাচনে প্রার্থী, রাজনৈতিক দল ও বিভিন্ন গোষ্ঠীর মোট ব্যয় প্রায় ১১ দশমিক ৯ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে।
নির্বাচনী তহবিল পর্যবেক্ষণকারী স্বাধীন সংস্থা ওপেন সিক্রেটসের এক পূর্বাভাসে এ তথ্য উঠে এসেছে। এই ব্যয় ২০২২ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনের তুলনায় প্রায় ৩০ শতাংশ বেশি।
নির্বাচনী প্রচারণার ব্যয়ের বড় অংশ আসছে বিভিন্ন বাইরের রাজনৈতিক গোষ্ঠী থেকে। এসব গোষ্ঠী ‘সুপার পলিটিক্যাল অ্যাকশন কমিটি’ বা সুপার প্যাক নামে পরিচিত।
গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি অঙ্গরাজ্যের নির্বাচনী লড়াইয়ে প্রার্থীদের পক্ষে প্রচারণা চালাতে তারা বিপুল অর্থ ব্যয় করছে।
এবারের নির্বাচনে ব্যক্তিগত পর্যায়ে সবচেয়ে বড় অর্থদাতা বিশ্বের শীর্ষ ধনকুবের ইলন মাস্ক। রিপাবলিকান প্রার্থীদের সমর্থনে তিনি প্রায় ৫০ কোটি ডলার ব্যয় করেছেন। তার এই অর্থের বড় অংশ খরচ হয়েছে টেক্সাসের নির্বাচনী প্রচারণায়।
রাজ্যটিতে মাস্কের একাধিক প্রতিষ্ঠানের সদর দপ্তর রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনে ব্যক্তি, রাজনৈতিক দল ও পলিটিক্যাল অ্যাকশন কমিটির (প্যাক) সরাসরি অনুদানের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট সীমা রয়েছে। তবে সুপার প্যাক ব্যক্তি, করপোরেশন, শ্রমিক ইউনিয়ন ও অন্যান্য রাজনৈতিক কমিটির কাছ থেকে সীমাহীন অর্থ সংগ্রহ করতে পারে। এসব কমিটি সরাসরি কোনো প্রার্থীকে অর্থ দিতে না পারলেও প্রার্থীর সমর্থনে স্বাধীনভাবে প্রচারণায় অর্থ ব্যয় করতে পারে।
ফেডারেল ইলেকশন কমিশনের (এফইসি) সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী, অক্টোবরের মাঝামাঝি পর্যন্ত এবারের মধ্যবর্তী নির্বাচনকে ঘিরে ৯ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলারের বেশি ব্যয় হয়েছে।
এর মধ্যে প্রায় ৫ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার ব্যয় করেছে প্যাক ও সুপার প্যাকগুলো। গত কয়েক মাসে এসব গোষ্ঠীর ব্যয় প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে।
নির্বাচনী প্রার্থী, রাজনৈতিক দল ও বাইরের গোষ্ঠীগুলোকে তাদের ব্যয়ের হিসাব এফইসিতে জমা দিতে হয়। তবে নির্বাচন শেষ না হওয়া পর্যন্ত মোট ব্যয়ের চূড়ান্ত হিসাব পাওয়া যাবে না। অতীতের নির্বাচনী ব্যয়ের প্রবণতা বিশ্লেষণ করে ওপেন সিক্রেটস ধারণা করছে, এবার মোট ব্যয় ১১ দশমিক ৯ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাবে।
উদারপন্থী গবেষণা সংস্থা ব্রেনান সেন্টার ফর জাস্টিসের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৪ অক্টোবর পর্যন্ত শীর্ষ ৪০ জন দাতা ২ দশমিক ৪ বিলিয়ন ডলার অনুদান দিয়েছেন। মধ্যবর্তী নির্বাচনের এই পর্যায় পর্যন্ত এটি সর্বোচ্চ অনুদানের রেকর্ড।
যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনী অর্থায়নবিষয়ক বিশেষজ্ঞ মাইকেল বেকেল বলেন, ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনের ব্যয় আগের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে যাচ্ছে। এই নির্বাচনে অর্থের বড় অংশ আসছে সবচেয়ে ধনী ব্যক্তি ও বিভিন্ন প্রভাবশালী গোষ্ঠীর কাছ থেকে।
এবারের নির্বাচনে শুধু ব্যক্তিগত দাতারাই নন, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানও রাজনৈতিক গোষ্ঠীগুলোকে বিপুল অর্থ দিচ্ছে। ধনকুবের জর্জ সোরাসের প্রতিষ্ঠিত জিওসোর করপ ও ফান্ড ফর পলিসি রিফর্ম উদারপন্থী গোষ্ঠীগুলোকে যৌথভাবে ১০২ মিলিয়ন ডলার দিয়েছে।
ডেমোক্র্যাটদের পক্ষে বড় দাতাদের একজন নিউইয়র্ক সিটির সাবেক মেয়র ও ব্যবসায়ী মাইকেল ব্লুমবার্গ। তিনি ৬০ মিলিয়ন ডলারের বেশি অনুদান দিয়েছেন।
অন্যদিকে রিপাবলিকানদের পক্ষে বড় অঙ্কের অর্থ দিয়েছেন বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ ট্রেডিং প্রতিষ্ঠানগুলোর পরিচালক জেফ ইয়াস এবং ব্যবসায়ী রিচার্ড ও এলিজাবেথ উইহলেইন। এফইসির প্রতিবেদন অনুযায়ী, এসব ধনকুবেরের পাশাপাশি আরো কয়েকজন বিলিয়নিয়ার রিপাবলিকানদের নির্বাচনী কর্মকাণ্ডে ১০০ মিলিয়ন ডলারের বেশি অনুদান দিয়েছেন।
তবে সব দাতাকে ছাড়িয়ে গেছেন ইলন মাস্ক। অক্টোবর পর্যন্ত তিনি একাই প্রায় ৫০ কোটি ডলার অনুদান দিয়েছেন। ২০২৪ সালে প্রতিষ্ঠিত তার সুপার প্যাক ‘আমেরিকা প্যাক’ এবং রিপাবলিকানপন্থী ‘সিনেট লিডারশিপ ফান্ড’-এ এই অর্থের বড় অংশ দিয়েছেন তিনি।
মাস্কের অর্থের বড় অংশ ব্যয় হয়েছে টেক্সাসের সিনেট নির্বাচনকে কেন্দ্র করে। সেখানে রিপাবলিকান প্রার্থী কেন প্যাক্সটন ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জেমস তালারিকোর বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এ নির্বাচনে আমেরিকা প্যাক ৪৫ মিলিয়ন ডলারের বেশি বিনিয়োগ করেছে। এ ছাড়া মিশিগান ও ওহাইওর সিনেট নির্বাচনেও প্রায় ১০ মিলিয়ন ডলার করে ব্যয় করেছে সংগঠনটি।
ওপেন সিক্রেটসের ব্রেন্ডন জে গ্লাভিন বলেন, এবারের নির্বাচনী অর্থায়নে ক্রিপ্টোকারেন্সি প্রতিষ্ঠানগুলোও বেশ সক্রিয়। ক্রিপ্টো শিল্পের স্বার্থ রক্ষায় কাজ করা সুপার প্যাকগুলোকে রিপল ও কয়েনবেস যৌথভাবে ৬৩ মিলিয়ন ডলার দিয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনে প্রার্থী ও রাজনৈতিক দলগুলো ভোটারদের কাছে পৌঁছাতে নানা খাতে অর্থ ব্যয় করে। এর মধ্যে রয়েছে মাঠপর্যায়ে ভোটারদের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য কর্মী নিয়োগ, নির্বাচনী সমাবেশ আয়োজন এবং জনমত জরিপ পরিচালনা। তবে নির্বাচনী তহবিলের বড় অংশই খরচ হয় বিজ্ঞাপনে, বিশেষ করে টেলিভিশন বিজ্ঞাপনে।
বিজ্ঞাপন ব্যয় পর্যবেক্ষণকারী প্রতিষ্ঠান অ্যাডইমপ্যাক্টের তথ্য অনুযায়ী, অক্টোবরের শেষ নাগাদ এবারের নির্বাচনী চক্রে বিজ্ঞাপনের পেছনে ১১ দশমিক ১৫ বিলিয়ন ডলার ব্যয় হয়েছে।
বিশেষজ্ঞ মাইকেল বেকেল বলেন, বিজ্ঞাপন বাবদ ব্যয়ের সবচেয়ে বড় অংশ এখনো প্রচলিত সম্প্রচার টেলিভিশনগুলোর কাছে যাচ্ছে। তবে ডিজিটাল বিজ্ঞাপনের পেছনে ব্যয়ও ক্রমাগত বাড়ছে।
অ্যাডইমপ্যাক্টের হিসাব অনুযায়ী, বিজ্ঞাপনে সবচেয়ে বেশি অর্থ ব্যয় হয়েছে মিশিগান, টেক্সাস ও ওহাইওর সিনেট নির্বাচনকে কেন্দ্র করে। এরপর রয়েছে আইওয়া ও মেইন অঙ্গরাজ্য। সূত্র : বিবিসি