ট্রাম্প প্রশাসন অ্যাফোর্ডেবল কেয়ার অ্যাক্টের (ওবামাকেয়ার) স্বাস্থ্যবিমা
ছবি সংগৃহীত: ফাইল ছবি
অনলাইন ডেস্ক : ট্রাম্প প্রশাসন অ্যাফোর্ডেবল কেয়ার অ্যাক্টের (ওবামাকেয়ার) স্বাস্থ্যবিমা বাজার থেকে ৭ লাখ ৫০ হাজারের বেশি নিবন্ধিত ব্যক্তিকে বাদ দিয়েছে বলে জানিয়েছেন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। গত মঙ্গলবার তিনি এ ঘোষণা দেন। তার দাবি, বাদ দেওয়া ব্যক্তিদের অনেকেই এমন প্রিমিয়াম ভর্তুকি গ্রহণ করছিলেন, যার জন্য তারা যোগ্য ছিলেন না। এমনকি তাদের মধ্যে কিছু ব্যক্তি বাস্তবে অস্তিত্বহীন বলেও দাবি করা হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে ভ্যান্স বলেন, ওবামাকেয়ারের ভর্তুকি যারা পাচ্ছেন, তারা প্রকৃতপক্ষে সেই সুবিধা পাওয়ার যোগ্য কি না, তা নিশ্চিত করা হচ্ছে। স্বাস্থ্যবিমা আইনটির প্রচলিত আরেক নাম ব্যবহার করে তিনি এ কথা বলেন। ভ্যান্সের হিসাব অনুযায়ী, লক্ষ্যবস্তু করা এসব নিবন্ধন বাতিলের ফলে সরকারের প্রায় ২২০ কোটি ডলার সাশ্রয় হবে।
ট্রাম্প প্রশাসনের এ ঘোষণা ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের নেতৃত্বাধীন জালিয়াতি দমন টাস্কফোর্সের সর্বশেষ উদ্যোগ। সাম্প্রতিক সময়ে এই টাস্কফোর্সের কার্যক্রমের বড় একটি অংশই কেন্দ্রীয় সরকারের স্বাস্থ্যসেবা কর্মসূচিকে ঘিরে পরিচালিত হচ্ছে।
গত কয়েক মাসে টাস্কফোর্সটি মিনেসোটা ও ক্যালিফোর্নিয়াকে দেওয়া কয়েক বিলিয়ন ডলারের মেডিকেইড তহবিল আটকে রাখার ক্ষেত্রেও ভূমিকা রেখেছে। তাদের দাবি, এসব অঙ্গরাজ্য স্বাস্থ্যসেবা কর্মসূচিতে জালিয়াতি প্রতিরোধে যথেষ্ট কার্যকর ব্যবস্থা নেয়নি।
এদিকে স্বাস্থ্যবিমা পরিকল্পনার ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় চলতি বছর ওবামাকেয়ারে নতুন করে নিবন্ধনের সংখ্যা ইতোমধ্যে উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে বিষয়টি রিপাবলিকানদের জন্য রাজনৈতিক ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। কারণ আসন্ন নির্বাচনে ভোটারদের বড় উদ্বেগের বিষয় হয়ে উঠেছে জীবনযাত্রার ব্যয় ও স্বাস্থ্যসেবাসহ বিভিন্ন পণ্যের ক্রমবর্ধমান মূল্য।
মঙ্গলবার ট্রাম্প প্রশাসনের এই ঘোষণার তীব্র সমালোচনা করেছে কংগ্রেসের ডেমোক্র্যাটরা। তাদের অভিযোগ, এটি অ্যাফোর্ডেবল কেয়ার অ্যাক্ট—যা ওবামাকেয়ার নামে পরিচিত—ধীরে ধীরে ভেঙে দেওয়ার একটি অযৌক্তিক পদক্ষেপ।
ক্যালিফোর্নিয়ার ডেমোক্র্যাট প্রতিনিধি ন্যান্সি পেলোসি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে বলেন, “জালিয়াতি দমনের মিথ্যা অজুহাত দেখিয়ে আমেরিকানদের স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত করা যেমন নিষ্ঠুর, তেমনি নিন্দনীয়।” সূত্র: দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস।