আন্তর্জাতিক

ইউরোপের রাষ্ট্রপ্রধানদের সামনে নিজেকে 'বস' দাবি ট্রাম্পের

অনলাইন ডেস্ক, বাংলাদেশ - Thursday, June 18, 2026 53

অনলাইন ডেস্ক : ফ্রান্সে জি৭ শীর্ষ সম্মেলনে বসে আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা করলেন, তিনিই ‘বস’। জি৭-এর সদস্য রাষ্ট্রগুলির প্রধানেরা সবাই সেখানে ছিলেন।

বিশ্ব অর্থনীতির নিরাপত্তা বিষয়ক একটি অধিবেশনের আয়োজন করা হয়েছিল অভ্য়াঁ-লে-ব্যাঁ শহরে। তাতে যোগ দিতে গিয়ে সাংবাদিক এবং রাষ্ট্রনেতাদের সামনে ট্রাম্প নিজেকে ‘বস’ বলে দাবি করেন।

 

তবে কিসের প্রেক্ষিতে তার এই মন্তব্য, তা খোলসা করেননি। উপস্থিত রাষ্ট্রনেতারাও কেউ তার কোনও প্রতিবাদ করেননি। বরং, ইরানের সঙ্গে আমেরিকার সংঘাত এবং পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতি নিয়ে এতদিন যে ইউরোপের নেতারা ট্রাম্পের সমালোচনা করছিলেন, তারাও এবার সুর নরম করেছেন।

জি৭ বৈঠকে যোগ দিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও। এ ছাড়া, ট্রাম্পের ঘোষণার সময় অধিবেশন কক্ষে ছিলেন ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাক্রোঁ, ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি।

 

গত সোমবার (১৫ জুন) থেকে ফ্রান্সে জি৭ সম্মেলন শুরু হয়েছে। তা চলে ১৭ জুন (বুধবার) পর্যন্ত। ইতিমধ্যে ট্রাম্পের সঙ্গে রাষ্ট্রনেতাদের বৈঠক হয়েছে।

জি৭ সদস্যরাষ্ট্রগুলি একটি যৌথ বিবৃতিও দিয়েছে। বুধবারের অধিবেশনের আলোচ্য বিষয় ছিল দুষ্প্রাপ্য খনিজ এবং অর্থনীতির ভারসাম্যহীনতা।

রাশিয়া এবং ইউক্রেনের যুদ্ধের বিষয়েও জি৭ বৈঠকে আলোচনা হয়েছে। তার পরেই নিজেকে ‘বস‌্’ বলে ঘোষণা করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

 

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি আমেরিকা এবং ইসরায়েলের যৌথ বাহিনী ইরান আক্রমণ করেছিল। তাতে মৃত্যু হয় সেদেশের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির। তার পর থেকেই পশ্চিম এশিয়ায় সংঘাত তীব্র হয়েছে। ওই অঞ্চলের মার্কিন ঘাঁটি লক্ষ্য করে হামলা চালিয়ে গিয়েছে ইরান।

সেই সঙ্গে তারা হরমুজ প্রণালিতে পণ্য পরিবহণেও বাধা সৃষ্টি করে। পশ্চিম এশিয়ায় আমেরিকার এই আগ্রাসী নীতির তীব্র সমালোচনা করেছিল ইউরোপের একাধিক দেশ।

 

হরমুজ খোলার বিষয়ে ইরানের বিরুদ্ধে ট্রাম্প তাদের সাহায্য চেয়েছিলেন। কিন্তু ইউরোপের বেশির ভাগ শক্তিধর দেশই পিছিয়ে গিয়েছিল।

ট্রাম্পও প্রকাশ্যে তাদের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দেন বার বার। জি৭ বৈঠকে তার বিপরীত চিত্র দেখা গেল। এমনকি, জার্মানির চ্যান্সেলর ফ্রেডরিখ মের্ৎজ মঙ্গলবার ট্রাম্পকে একটি ফুটবল জার্সি উপহার দেন। জার্সির নম্বর ছিল ৪৭।

ইউরোপের এই সুর বদলের নেপথ্যে রয়েছে ট্রাম্পের ইরান চুক্তি। সময় বদলেছে। ইরানের সঙ্গে আমেরিকা সমঝোতার চুক্তি চূড়ান্ত করেছে রোববার গভীর রাতে।

 

আগামী শুক্রবার (১৯ জুন) সুইজারল্যান্ডে খাতায়কলমে সেই চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ার কথা। পশ্চিম এশিয়ায় শান্তি, স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার জন্য এই চুক্তি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

রাশিয়া এবং ইউক্রেনের মধ্যে যুদ্ধে আমেরিকার নীতি নিয়েও ইউরোপে ক্ষোভ ছিল। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে আলাদা করে ট্রাম্পের বৈঠক না-হলেও জি৭ শীর্ষ সম্মেলনে তিনি ছিলেন। সেখানে অন্যতম আলোচ্য বিষয় ছিল রাশিয়া।

 

এই সংঘাতে আগের চেয়ে ইউক্রেনের অবস্থানের উন্নতি হয়েছে বলে মেনে নিয়েছেন ইউরোপীয় নেতারা। রাশিয়ার বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ ভাবে প্রতিরোধ এবং নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপের প্রতিশ্রুতিও দিয়েছেন তারা।

কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি বৈঠকের পর বলেন, আমেরিকা এবং প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের অবস্থান বদলেছে। রাশিয়ার প্রতি তাদের অবস্থান কঠোর হয়েছে। আমার মতে, তা যুদ্ধক্ষেত্রের বাস্তব পরিস্থিতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

এই বিভাগের আরও খবর