ই-পেপার

জন্মদিনে হামলার শিকার নেতানিয়াহু

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু নিজের জন্মদিন উপলক্ষে জেরুজালেমের একটি বাজার এলাকা পরিদর্শনে গেলে তাকে লক্ষ্য করে....

আপডেট: ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ১৬:২০
৭ ভিউ
জন্মদিনে হামলার শিকার নেতানিয়াহু

ছবি সংগৃহীত: ফাইল ছবি

অনলাইন ডেস্ক:

কাঁচের বোতল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটেছে। এ ছাড়া তেল আবিবের আরেকটি বাজার পরিদর্শনকালে হামাসকে অর্থ দেওয়ার বিষয়ে প্রশ্নের মুখেও পড়েন তিনি।

বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) রাতে জেরুজালেমের মাহানে ইয়েহুদা বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম দ্য জেরুজালেম পোস্ট এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।

জামায়াতের আমির সবসময় মিথ্যা কথা বলেন: রাশেদ খাঁন

প্রতিবেদন অনুযায়ী, নেতানিয়াহুর ৭৭তম জন্মদিন উপলক্ষে বৃহস্পতিবার রাতে তার গাড়িবহর বাজার এলাকা অতিক্রম করে। এ সময় তাকে দেখতে ও শুভেচ্ছা জানাতে সেখানে হাজারো ইসরায়েলি জড়ো হন। গাড়িবহরের চলাচল নির্বিঘ্ন রাখতে সাময়িকভাবে লাইট রেল চলাচল বন্ধ রাখা হয়।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, গাড়িবহর লক্ষ্য করে বোতল ছোড়ার পর নিরাপত্তাকর্মীরা ব্যারিকেড টপকে সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে শনাক্ত করার চেষ্টা করছেন।

বাজারে পৌঁছালে নেতানিয়াহু ও তার স্ত্রী সারাকে জন্মদিনের গান গেয়ে স্বাগত জানান উপস্থিত লোকজন। এ সময় কয়েকজনের হাতে নেতানিয়াহুর দল লিকুদের পতাকা এবং ইরানের সিংহ ও সূর্যখচিত পতাকা দেখা যায়। নেতানিয়াহুকে ফুলের তোড়া হাতে জনতার দিকে নাড়তে এবং পরে সেটি তাদের দিকে ছুড়ে দিতেও দেখা গেছে।

ঘটনার নিন্দা জানিয়েছেন ইসরায়েলের জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন-গভির। তিনি একে ‘অত্যন্ত গুরুতর’ ঘটনা হিসেবে উল্লেখ করেন।

বেন-গভির বলেন, প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে উসকানি ও তার ওপর পরিচালিত কর্মকাণ্ডের পরিণতি রয়েছে। বামপন্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘দায়িত্বশীল আচরণ করুন। কথার আঘাতেও মানুষের মৃত্যু হতে পারে।’

এর আগে একই দিন তেল আবিবের হাতিকভা বাজার পরিদর্শনেও বিরূপ পরিস্থিতির মুখে পড়েন নেতানিয়াহু। সেখানে এক ব্যক্তি তাকে প্রশ্ন করেন, তিনি হামাসকে লাখ লাখ টাকা কেন দিয়েছিলেন।

ঘটনার ভিডিওতে দেখা যায়, ওই ব্যক্তি ভিডিও ধারণের চেষ্টা করলে সেখানে উপস্থিত লিকুদ সমর্থকেরা তার হাত থেকে ফোন ফেলে দেন এবং তাকে ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে দেন।

ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ওই বাজারে নিহত জিম্মি গাই ইলুজের বাবা মিশেল ইলুজ, নিহত জিম্মি কারমেল গাতের চাচাতো ভাই গিল ডিকম্যান এবং সাবেক জিম্মি মাতান জাঙ্গাউকারের মা আইনাভ জাঙ্গাউকার উপস্থিত ছিলেন। ৭ অক্টোবরের হামলার সময় ক্ষমতায় থাকা ব্যক্তিদের পদত্যাগের দাবি জানাতে তারা সেখানে গিয়েছিলেন।

জাঙ্গাউকার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লেখেন, নেতানিয়াহুকে সত্য কথাটি জানাতেই তারা সেখানে গিয়েছিলেন। তার মতে, ৭ অক্টোবরের সময় দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের আর ক্ষমতায় থাকা উচিত নয়, বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রীর।

তিনি অভিযোগ করেন, সেখানে তাদের ‘বিশ্বাসঘাতক’ ও ‘রাষ্ট্রের শত্রু’ বলা হয়, তাদের গায়ে থুতু দেওয়া হয় এবং সবজি ছুড়ে মারা হয়। জিম্মিদের স্বজনদের বক্তব্য তুলে ধরতে বাধা দেওয়ার জন্য পুলিশ তাদের সেখান থেকে সরিয়ে দেয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

মিশেল ইলুজও অভিযোগ করেন, বন্দিদশায় তার ছেলের মৃত্যুর জন্য প্রধানমন্ত্রীকে দায়ী করে প্রতিবাদ জানাতে গিয়ে তিনি হামলার শিকার হয়েছেন। শোকাহত একজন বাবার ওপর এমন হামলাকে লজ্জাজনক উল্লেখ করে আগামী নির্বাচনে ভোটের মাধ্যমে এর জবাব দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

এ ছাড়া সাবেক জিম্মি রম ব্রাসলাভস্কি এবং ডেমোক্র্যাটস দলের আইনপ্রণেতা গিলাদ কারিভও এ ঘটনার নিন্দা জানিয়েছেন।