ই-পেপার

বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞা আমিরাতের, চাপে পড়তে পারে ইরান

ইরানের ওপর অনির্দিষ্টকালের জন্য সব ধরনের বাণিজ্য ও অর্থ

আপডেট: ২০ আগস্ট ২০২৬, ০৮:৫৭
৬ ভিউ
বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞা আমিরাতের, চাপে পড়তে পারে ইরান

ছবি সংগৃহীত: ফাইল ছবি

অনলাইন ডেস্ক : ইরানের ওপর অনির্দিষ্টকালের জন্য সব ধরনের বাণিজ্য ও অর্থ লেনদেনে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে সংযুক্ত আরব আমিরাত। দেশটির জলসীমায় বাণিজ্যিক জাহাজ লক্ষ্য করে দুটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার অভিযোগ এনে বুধবার এই ঘোষণা দেয় আবুধাবি। তবে তেহরান এই হামলার অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

আলজাজিরার খবরে বলা হয়েছে, ইরানের অর্থনীতিতে দুবাইয়ের বড় ভূমিকা রয়েছে। এ জন্য আমিরাতের এই পদক্ষেপের কারণে দেশটি অর্থনৈতিকভাবে আরও চাপে পড়তে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

অবসরপ্রাপ্ত জেনারেল ও যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্ক কিমিট আলজাজিরাকে বলেন, ইরানের অর্থনীতিতে দুবাইয়ের ভূমিকা অত্যন্ত গভীর। তাই দুদেশের বাণিজ্য বন্ধ হওয়ার গুরুত্ব খাটো করে দেখার সুযোগ নেই। নীরবে দুবাই ইরানের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক অংশীদারে পরিণত হয়েছে। চীন ও তুরস্ককে ছাড়িয়ে প্রতিবছর ইরানের মোট আমদানির প্রায় এক-তৃতীয়াংশ পণ্য সরবরাহ করে দুবাই। যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধের মধ্যে এই বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞা তেহরানকে অর্থনৈতিকভাবে আরও চাপে ফেলবে।

যুদ্ধ শুরুর কয়েক দিন পর মার্চের শুরুতে দুই দেশের মধ্যে সরাসরি পণ্যবাহী জাহাজ চলাচল স্থগিত করেছিল সংযুক্ত আরব আমিরাত। জুনের শেষ দিকে দুবাইয়ের জেবেল আলি বন্দর দিয়ে আবার বাণিজ্য শুরু হয়।

লেনদেনের গোপন পথ বন্ধের শঙ্কা

পণ্য বাণিজ্যের পাশাপাশি ইরানের আন্তর্জাতিক অর্থ লেনদেনও বাধাগ্রস্ত হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বৈশ্বিক আর্থিক কেন্দ্র হিসেবে দুবাইয়ের অবস্থানকে কাজে লাগিয়ে ইরান দীর্ঘদিন ধরে মার্কিন ও পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে অর্থ লেনদেন করে আসছিল। কিমিটের মতে, ওয়াশিংটনের নিষেধাজ্ঞার মুখে দাঁড়িয়েও তেহরান যে বিকল্প উপায়ে অর্থ আদান-প্রদান করত, আমিরাতের এই সিদ্ধান্তে সেই মূল পথটি রুদ্ধ হয়ে গেল। এ কারণেই এটি যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার চেয়েও বেশি কার্যকর প্রমাণিত হতে পারে।

গত পাঁচ মাসের বেশি সময় ধরে চলা সংঘাতে কোনো অগ্রগতি ছাড়াই গত সোমবার যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের শান্তি আলোচনার ৬০ দিনের সময়সীমা শেষ হয়। এর পরদিন এই হামলার ঘটনা ঘটে।

যুদ্ধের প্রথম ছয় সপ্তাহে উপসাগরীয় অন্য দেশগুলোর তুলনায় আমিরাতের বিরুদ্ধে বেশি পাল্টা হামলা চালায় ইরান। মঙ্গলবারের হামলাটি মে মাসের পর আমিরাতকে লক্ষ্য করে প্রথম হামলা। এর কয়েক দিন আগে আবুধাবি অভিযোগ করেছিল, হরমুজ প্রণালিতে তাদের রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন এডিএনওসির দুটি জাহাজে হামলা চালিয়েছে তেহরান। ওই হামলার দায়ও স্বীকার করেনি ইরান।

এদিকে, তেহরান ক্ষেপণাস্ত্র হামলার এই অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছে। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই এক বার্তায় জানান, এ ধরনের অভিযোগ প্রতিবেশীসুলভ নীতির পরিপন্থি এবং আঞ্চলিক পারস্পরিক বিশ্বাস গড়ার প্রচেষ্টাকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। এটি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ষড়যন্ত্র হতে পারে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

ইউরোপে হামলার হুমকি ইরানের

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আবার সংঘাত শুরু হলে ইউরোপে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটি বা সম্পদে আঘাত হানার কথা বিবেচনা করছে ইরান। ইরানি কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে গত বুধবার ফাইন্যান্সিয়াল টাইমসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, লক্ষ্যবস্তু হিসেবে বেছে নেওয়া হতে পারে দক্ষিণ-পূর্ব ইউরোপের বুলগেরিয়াকে। দেশটি গত মাসে তাদের বাজমার বিমানঘাঁটিতে মার্কিন বিমানগুলোকে রিফুয়েল করার অনুমতি দিয়েছে। এর সঙ্গে সাইপ্রাসকেও টার্গেট করা হতে পারে। এর জবাবে এক বিজ্ঞপ্তিতে ন্যাটোর এক কর্মকর্তা জানান, জোটটি যে কোনো হুমকি মোকাবিলায় প্রস্তুত এবং সব মিত্র দেশকে রক্ষায় সর্বদা যা প্রয়োজন তা-ই করবে।

এদিকে, আঞ্চলিক উত্তেজনার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীকে কোনো ধরনের সহায়তা না দিতে উপসাগরীয় দেশগুলোকে সতর্ক করেছে ইরান। দেশটির সামরিক বাহিনীর চিফ অব স্টাফ মেজর জেনারেল আলি আবদোল্লাহি এই হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রকে সহায়তা বা তাদের সামরিক কর্মকাণ্ডে সহযোগিতা করা হলে সেটিকে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের পাশে থাকা হিসেবে বিবেচনা করা হবে।

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও আরব আমিরাতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা শেখ তাহনুন বিন জায়েদ আল নাহিয়ানের সঙ্গে এক ফোনালাপে আঞ্চলিক নিরাপত্তা ইস্যু নিয়ে আলোচনা করেছেন। আলাপে রুবিও হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেন।