ই-পেপার

আগাম ভোটের আহ্বানে ট্রাম্পবিরোধী ‘নো কিংস’ বিক্ষোভ

যুক্তরাষ্ট্রে আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনকে সামনে রেখে আগাম

আপডেট: ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ১৮:৫৩
১৭ ভিউ
আগাম ভোটের আহ্বানে ট্রাম্পবিরোধী ‘নো কিংস’ বিক্ষোভ

ছবি সংগৃহীত: ফাইল ছবি

অনলাইন ডেস্ক : যুক্তরাষ্ট্রে আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনকে সামনে রেখে আগাম ভোট দিতে নাগরিকদের উৎসাহিত করতে দেশজুড়ে বিক্ষোভ করেছেন ট্রাম্পবিরোধী হিসেবে পরিচিত‘নো কিংস’ আন্দোলনের সমর্থকেরা। শনিবার আয়োজিত এ কর্মসূচির মূল লক্ষ্য ছিল প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বা তার প্রশাসনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ নয়, বরং ভোটারদের নির্বাচনে অংশগ্রহণ বাড়ানো।

‘নো কিংস: ভোট আর্লি’ নামে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে ভোটারদের আগাম ভোট দেওয়ার পরিকল্পনা করতে এবং ভোটদানের বিভিন্ন পদ্ধতি সম্পর্কে জানতে আহ্বান জানানো হয়। আয়োজকেরা এক বিবৃতিতে বলেন, এটি কোনো দলনির্ভর কর্মসূচি নয়; বরং ভোটারদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার উদ্যোগ। তাদের লক্ষ্য, যোগ্য প্রত্যেক ভোটার যেন নিজের মতামত প্রকাশের সুযোগ পান।

যুক্তরাষ্ট্রের অধিকাংশ এলাকায় নির্ধারিত নির্বাচনের কয়েক দিন বা কয়েক সপ্তাহ আগেই ভোট দেওয়ার সুযোগ রয়েছে। তবে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বারবার ডাকযোগে ভোট দেওয়ার পদ্ধতির সমালোচনা করেছেন এবং মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে এ ব্যবস্থায় বিধিনিষেধ আরোপের চেষ্টা করেছেন। যদিও তিনি নিজেও ডাকযোগে ভোট দেন। এ ক্ষেত্রে নিজের দায়িত্বের কারণে তাকে ব্যতিক্রম হিসেবে বিবেচনা করা উচিত বলে যুক্তি দিয়েছেন তিনি।

২০২০ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জো বাইডেনের কাছে পরাজয়ের পর ট্রাম্প প্রমাণ ছাড়াই নির্বাচনে জালিয়াতির অভিযোগ তুলেছিলেন। বিভিন্ন জরিপে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে, ডাকযোগে ভোট দেওয়ার সুযোগ সীমিত করা হলে রিপাবলিকানরা লাভবান হতে পারেন। কারণ, ডেমোক্র্যাট সমর্থকদের মধ্যে এ পদ্ধতিতে ভোট দেওয়ার প্রবণতা তুলনামূলক বেশি।

যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় সরকারের কর্মী ছাঁটাই, অভিবাসনবিরোধী অভিযান এবং বিদেশে যুদ্ধের মতো বিভিন্ন ইস্যুতে উদ্বেগ থেকে গত বছর নো কিংস আন্দোলনের সূচনা হয়। পরবর্তী সময়ে আন্দোলনটি বিভিন্ন ইস্যুতে বিস্তৃত হয়েছে। এর কর্মসূচিতে সাধারণত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নীতির বিরোধিতা গুরুত্ব পায়।

এদিকে, আগামী ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানরা সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারালে ট্রাম্প প্রশাসন নির্বাচনের ফলাফলে হস্তক্ষেপের চেষ্টা করতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিরোধীরা। জনমত জরিপগুলোতে প্রতিনিধি পরিষদের নিয়ন্ত্রণ ডেমোক্র্যাটদের ফিরে পাওয়ার সম্ভাবনার ইঙ্গিত মিললেও সিনেটের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা এখনো তুঙ্গে।

মধ্যবর্তী নির্বাচনে কংগ্রেসের দুই কক্ষ প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেটের নিয়ন্ত্রণ নির্ধারিত হবে। ফলে আগাম ভোটে অংশগ্রহণ বাড়ানোর পাশাপাশি নির্বাচনের স্বচ্ছতা ও ফলাফলের গ্রহণযোগ্যতা নিয়েও রাজনৈতিক অঙ্গনে উদ্বেগ রয়েছে।