যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর
ছবি সংগৃহীত: ফাইল ছবি
অনলাইন ডেস্ক : যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর উদ্দেশ্যে ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরা সৌদি আরবের অবকাঠামোয় হামলা জোরদার করছে বলে অভিযোগ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এ ঘটনায় হুথিদের বিরুদ্ধে আবারও সামরিক অভিযান জোরদার করার হুমকিও দিয়েছেন তিনি।
মঙ্গলবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, দীর্ঘদিন নীরব থাকার পর হুথিরা আবার সক্রিয় হয়েছে। তার ধারণা, ইরানের প্ররোচনায় তারা সৌদি আরবে হামলা চালাচ্ছে এবং পরিকল্পিতভাবে তেলের দাম বাড়ানোর চেষ্টা করছে।
ট্রাম্প লেখেন, হুথিরা ‘খুবই খারাপ আচরণ’ করছে। তিনি ইরানকে ব্যর্থ রাষ্ট্র হিসেবে উল্লেখ করে দেশটির নৌবাহিনী, বিমানবাহিনী ও অর্থনীতি নিয়েও কটাক্ষ করেন। একই সঙ্গে ইরানে মূল্যস্ফীতি ৩০১ শতাংশ বলে দাবি করেন তিনি।
ট্রাম্প আরও বলেন, হুথিদের বোঝানো উচিত যে তিনি আর নির্বাচনে প্রার্থী হচ্ছেন না, কারণ তিনি ইতিমধ্যে বিপুল ব্যবধানে জয়ী হয়েছেন। তবে নির্বাচনের পরও তিনি ক্ষমতায় থাকবেন এবং হুথিদের হামলার কথা ভুলে যাবেন না।
তার এ বক্তব্যকে নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে মার্কিন সামরিক হামলা চালানোর সম্ভাব্য হুমকি হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ইরান যুদ্ধ নিয়ে চাপে ট্রাম্প
গত ফেব্রুয়ারিতে ইসরায়েলের সঙ্গে মিলে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করেন ট্রাম্প। এরপর জ্বালানি তেলের দাম বেড়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্রে জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে উদ্বেগ আরও তীব্র হয়েছে।
আগামী নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনে মার্কিন ভোটাররা প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেটে রিপাবলিকান পার্টির সংখ্যাগরিষ্ঠতা বহাল থাকবে কি না, তা নির্ধারণ করবেন। এ নির্বাচনকে ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের ওপর জনসমর্থনের গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ডেমোক্র্যাটরা আশা করছেন, ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা কমে যাওয়া, ইরান যুদ্ধ নিয়ে অসন্তোষ এবং জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির কারণে ভোটারদের ক্ষোভ কাজে লাগিয়ে তারা কংগ্রেসের এক বা উভয় কক্ষের নিয়ন্ত্রণ নিতে পারবেন। তেমনটি হলে মেয়াদের বাকি সময়ে ট্রাম্পের আইনগত কর্মসূচি বাস্তবায়নে বাধা সৃষ্টি করতে পারবেন তারা।
ইরান যুদ্ধ নিয়ে অসন্তোষ
বিভিন্ন জনমত জরিপে ইরানের বিরুদ্ধে ট্রাম্পের যুদ্ধের প্রতি মার্কিন জনগণের ব্যাপক অসন্তোষের চিত্র উঠে এসেছে। সাম্প্রতিক এপি-নরক জরিপে দেখা গেছে, প্রায় ৭০ শতাংশ ভোটার মনে করেন, এই যুদ্ধ করা সার্থক হয়নি।
তবে ট্রাম্প তার বিরুদ্ধে যাওয়া জরিপগুলোকে ‘ভুয়া’ বলে উড়িয়ে দিয়েছেন। নিজের জনপ্রিয়তার প্রমাণ হিসেবে তিনি রাজনৈতিক সমাবেশগুলোতে মানুষের উপস্থিতির কথা তুলে ধরেছেন।
মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে জ্বালানির দাম ও জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে জনমনে অসন্তোষ ট্রাম্পের রিপাবলিকান পার্টির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে।