ই-পেপার

যুক্তরাজ্যে মার্কিন বিমানঘাঁটির কাছে গ্রেপ্তার ৫ ব্যক্তি জামিনে মুক্ত

যুক্তরাজ্যের গ্লুচেস্টারশায়ারে আরএএফ ফেয়ারফোর্ড

আপডেট: ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:৪৯
২৫ ভিউ
যুক্তরাজ্যে মার্কিন বিমানঘাঁটির কাছে গ্রেপ্তার ৫ ব্যক্তি জামিনে মুক্ত

ছবি সংগৃহীত: ফাইল ছবি

অনলাইন ডেস্ক : যুক্তরাজ্যের গ্লুচেস্টারশায়ারে আরএএফ ফেয়ারফোর্ড বিমানঘাঁটির কাছে সন্ত্রাসবাদ-সংশ্লিষ্ট অভিযোগে গ্রেপ্তার পাঁচজনকে পুলিশি জামিনে মুক্তি দেওয়া হয়েছে। তবে তারা এখনো তদন্তের আওতায় রয়েছেন বলে জানিয়েছে দেশটির কাউন্টার টেরোরিজম পুলিশ (সিটিপি)। ব্রিটিশ বার্তাসংস্থা বিবিসির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা যায়।

রোববার ভোরে বিমানঘাঁটির কাছে তিনটি ‘সন্দেহজনক যানবাহন’ দেখতে পাওয়ার পর পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। পরে সেখানে বড় ধরনের নিরাপত্তা অভিযান শুরু হয় এবং আশপাশের ৮৫টি বাড়ির বাসিন্দাদের সরিয়ে নেওয়া হয়।

কাউন্টার টেরোরিজম পুলিশ আরও জানিয়েছে, পাঁচজনই যুক্তরাজ্যের নাগরিক এবং লন্ডনের বাসিন্দা। তাদের বয়স ২৩ থেকে ২৫ বছরের মধ্যে। তিনজন ওয়েস্টমিনস্টার, একজন ক্যামডেন এবং অন্যজন উইলসডেনের বাসিন্দা।

প্রথমে বিস্ফোরক-সংক্রান্ত আইনে অপরাধের সন্দেহে তাদের আটক করা হয়। পরে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের প্রস্তুতির অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার দেখানো হয়। পুলিশ জানিয়েছে, মুক্তি পেলেও তাদের চলাফেরা ও অন্যদের সঙ্গে যোগাযোগের ওপর কঠোর শর্ত আরোপ করা হয়েছে।

কাউন্টার টেরোরিজম পুলিশের প্রধান সহকারী কমিশনার লরেন্স টেলর বলেন, সন্দেহজনক তিনটি যানবাহন সামরিক সহায়তা ও ফরেনসিক বিশেষজ্ঞদের সহযোগিতায় ব্যাপকভাবে পরীক্ষা করা হয়েছে। তদন্তকারীরা সম্ভাব্য সব দিক খতিয়ে দেখছেন। এর মধ্যে কোনো বিদেশি রাষ্ট্রের হয়ে সরাসরি বা পরোক্ষভাবে কাজ করা ব্যক্তি বা গোষ্ঠী জড়িত কি না, সেটিও বিবেচনা করা হচ্ছে।

স্থানীয় এক কৃষক ভোরে ওয়েলফোর্ড গ্রামে তিনটি সাদা ভ্যান দেখতে পেয়ে জরুরি নম্বর ৯৯৯-এ ফোন করেন। তার ভাষ্য, ঘটনাটি ‘কেবল ভাগ্যক্রমে’ তার নজরে আসে। বাড়ি ফেরার সময় তিনি রাস্তা ও প্রবেশপথে বাধা দেখতে পান এবং হুড ও মুখোশ পরা একদল ব্যক্তিকে দেখতে পান। তাকে দেখে কয়েকজন মাঠের দিকে এবং অন্যরা পাশের কেম্পসফোর্ড গ্রামের দিকে পালিয়ে যায় বলে তিনি জানান।

ওই নারী প্রথমে আরএএফ ফেয়ারফোর্ডের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের পুলিশকে ফোন করলেও সাড়া পাননি। পরে স্থানীয় সময় রাত ১টা ৩৬ মিনিটে ৯৯৯-এ ফোন করেন। তার দাবি, ফোন করার প্রায় ১০ মিনিটের মধ্যে গ্রামটিতে সশস্ত্র পুলিশ মোতায়েন করা হয়।

সোমবার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহাম কোবরা বৈঠকে সভাপতিত্ব করে কর্তৃপক্ষের তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত জনগণকে কোনো ধরনের জল্পনা থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান।

ঘটনার সঙ্গে ইরানের সংশ্লিষ্টতার জল্পনা নাকচ করেছে লন্ডনে ইরানি দূতাবাস। এক বিবৃতিতে তারা এ ধরনের দাবি ‘ভিত্তিহীন ও বিদ্বেষপূর্ণ’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছে।

আরএএফ ফেয়ারফোর্ড দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহিনীর (ইউএসএএফ) অগ্রবর্তী ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে মধ্যপ্রাচ্যে অভিযান পরিচালনার জন্য মার্কিন বোমারু বিমানও এই ঘাঁটি ব্যবহার করেছে। জুলাইয়ে ইরান হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছিল, ইরানের ভূখণ্ডে আগ্রাসনের জন্য ব্যবহৃত যেকোনো ঘাঁটি তাদের বাহিনীর বৈধ লক্ষ্য হিসেবে বিবেচিত হবে।

এদিকে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও দাবি করেছেন, এ ঘটনায় ‘বিদেশি পক্ষের’ সংশ্লিষ্টতা স্পষ্ট। তবে তিনি এ দাবির পক্ষে কোনো প্রমাণ দিতে পারেননি।

ওই বিমানঘাঁটির আশপাশে এখনো বড় নিরাপত্তাবেষ্টনী রয়েছে। তবে সরিয়ে নেওয়া ৮৫টি পরিবারের সদস্যদের বাড়িতে ফেরার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। তিনটি সন্দেহজনক যানবাহনকে ঘিরে নিরাপত্তাবেষ্টনী বহাল থাকবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

বিমানঘাঁটির ওপর পাঁচ মাইল বা প্রায় ৮ কিলোমিটার এলাকায় আকাশসীমা ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞাও জারি করা হয়েছে। অনুমতি ছাড়া ওই এলাকায় বেলুন, ঘুড়ি, প্যারাসুট ও প্যারাগ্লাইডারসহ কোনো কিছু ওড়ানো যাবে না।