প্রিমিয়ার লিগের শতাধিকের ওপর আর্থিক অনিয়মের
ছবি সংগৃহীত: ফাইল ছবি
স্পোর্টস ডেস্ক : প্রিমিয়ার লিগের শতাধিকের ওপর আর্থিক অনিয়মের অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত ম্যানচেস্টার সিটি। প্রাথমিকভাবে দোষী সাব্যস্ত হলেও ক্লাবটির ভেতরে এখনো ভাঙেনি আত্মবিশ্বাসের দেয়াল।
সিটির চেয়ারম্যান খালদুন আল-মুবারক আইনি লড়াইয়ের এই চরম নাটকীয়তাকে কেবলই আসল সত্য প্রকাশের আগের আবহ তৈরি হিসেবে দেখছেন। চূড়ান্ত শুনানিতে অকাট্য সব প্রমাণ উপস্থাপন করে সম্পূর্ণ নির্দোষ প্রমাণিত হবে ক্লাবটি দৃঢ় বিশ্বাস চেয়াম্যানের।
দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সিটির আইনি অবস্থানকে বিশ্লেষকরা দেখছেন ‘রোপ-আ-ডোপ’ বা প্রতিপক্ষকে ক্লান্ত করার কৌশল হিসেবে। অনেকটা জনপ্রিয় কার্টুন ‘স্কুবি-ডু’-র রহস্য উন্মোচনের মতো করেই ক্লাবটি এগোচ্ছে।
তাদের লক্ষ্য, শেষ মুহূর্তে সব অভিযোগের মুখোশ টেনে খুলে নিজেদের নির্দোষিতার চূড়ান্ত প্রমাণ হাজির করা। খ্যাতনামা আইনজীবী লর্ড প্যানিক কেসির ওপর ভরসা রেখে সিটি কর্তৃপক্ষ এক অবিশ্বাস্য ও ঝুঁকিপূর্ণ আইনি চাল চালছে।
এদিকে ২০১২ সালে সিটিকে প্রিমিয়ার লিগ জেতানো সাবেক কোচ রবার্তো মানচিনির ‘দ্বৈত চুক্তি’র বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে। তবে মানচিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, এই চুক্তি সংক্রান্ত জটিলতা তার ব্যক্তিগত কোনো সমস্যা নয়।
এই আইনি টানাপোড়েনের মাঝেই ফুটবল বিশ্বে জাতি-রাষ্ট্রের মদদপুষ্ট ফুটবল প্রজেক্টগুলোর সবচেয়ে সোনালী এক দশকের অবসান দেখছেন অনেকে। পেপ গার্দিওলার অধীনে আকাশি-নীল শিবিরের সোনালি সময় গড়ে উঠেছিল, তা এখন নজিরবিহীন অনিশ্চয়তার মুখে।
ফুটবল ইতিহাসে সম্পূর্ণ নজিরবিহীন এই ঘটনার ভবিষ্যৎ নিয়ে এক বিশাল বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে। সাধারণ ধারণা অনুযায়ী, ঘটনাটি নিচের কয়েকটি ধাপে অগ্রসর হতে পারে—প্রাথমিক নিষেধাজ্ঞায় চলতি সপ্তাহের মাঝামাঝি সময়েই প্রিমিয়ার লিগ কর্তৃপক্ষ সিটির চূড়ান্ত শাস্তি ঘোষণা করতে পারে। শাস্তি ঘোষণার পরপরই ম্যানচেস্টার সিটির পক্ষ থেকে উচ্চ আদালতে আপিল করা হবে।
উভয় পক্ষের এই আইনি লড়াই যেমন ব্যয়বহুল হবে, তেমনি এটি শেষ হতে দীর্ঘ সময় লেগে যাবে।
আপাতত সিটির শাস্তির মাত্রা ঠিক কতটা বড় হবে—তা নিয়েই ফুটবল পাড়ায় চলছে মূল আলোচনা। সমালোচকরা সিটির পতন দেখার জন্য উদগ্রীব হয়ে থাকলেও, তাদের এই উদযাপনে জল ঢেলে দিতে পারে সিটির আইনি দল।
শাস্তির তীব্রতা নিয়ে ফুটবল বিশেষজ্ঞদের মধ্যে নানা গুঞ্জন রয়েছে। সবচেয়ে নরম বা নমনীয় শাস্তি হিসেবে সিটিকে বড় অঙ্কের জরিমানা, এক মৌসুমের জন্য পয়েন্ট কেটে নেওয়া এবং দলবদলে সাময়িক নিষেধাজ্ঞা (ট্রান্সফার ব্যান) দেওয়া হতে পারে।
তবে এই ধরনের শাস্তি কেবল লোকদেখানো হবে কিনা, তা নিয়ে সংশয় থেকেই যায়। বাস্তব ফলাফলের চূড়ান্ত হাতুড়িপেটা ছাড়া এই রায়ের কোনো কার্যকারিতা থাকবে না।