মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মঙ্গলবার জাতিসংঘের
ছবি সংগৃহীত: ফাইল ছবি
অনলাইন ডেস্ক : মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মঙ্গলবার জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে ভাষণ দিয়েছেন। ৩৮ মিনিটের ভাষণে তিনি বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কথা বলেছেন।
মার্কিন গণমাধ্যম সিএনএন জাতিসংঘে ট্রাম্পের ভাষণে বেশ কিছু অতিরঞ্জন বা অসত্য দাবির কথা তুলে এনেছে। যদিও ট্রাম্প জাতিসংঘে একটি লিখিত বক্তব্যই পাঠ করেছিলেন।
জাতিসংঘের ভাষণে ট্রাম্প তার একটি প্রায়শই করা মিথ্যা দাবির পুনরাবৃত্তি করে বলেন, ‘আমি দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে আটটি যুদ্ধের সমাধান করা আমার জন্য অত্যন্ত সম্মানের বিষয় ছিল।’
তিনি সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ করেন যে, তিনি কম্বোডিয়া ও থাইল্যান্ড, কসোভো ও সার্বিয়া, রুয়ান্ডা ও গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্র, ভারত ও পাকিস্তান, আর্মেনিয়া ও আজারবাইজান এবং গাজার যুদ্ধের কথা বলছেন এবং তিনি এর আগে দাবি করেছিলেন যে তাঁর অবসান ঘটানো অন্য দুটি যুদ্ধ ছিল— গত বছরের ইসরাইল ও ইরানের মধ্যকার সংক্ষিপ্ত সংঘাত এবং মিসর ও ইথিওপিয়ার মধ্যকার একটি কথিত যুদ্ধ।
ট্রাম্পের এই ৮টি যুদ্ধ থামানোর দাবি স্পষ্টতই একটি অতিরঞ্জন। তার তালিকায় এমন দুটি পরিস্থিতির কথা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে যা তার কার্যকালে আসলে কখনোই যুদ্ধ ছিল না। মিসর ও ইথিওপিয়ার মধ্যকার পরিস্থিতিটি ছিল একটি ইথিওপিয়ান বাঁধ প্রকল্প নিয়ে কূটনৈতিক বিরোধ, কোনো যুদ্ধ নয়। সার্বিয়া ও কসোভোর মধ্যে যে রহস্যময় কথিত সমস্যার তিনি সমাধান করেছেন বলে দাবি করছেন, সেটিও কোনো যুদ্ধ ছিল না।
তাছাড়া, ট্রাম্প প্রশাসনের মধ্যস্থতায় একটি শান্তি চুক্তি হওয়া সত্ত্বেও রুয়ান্ডা ও গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্রের মধ্যকার যুদ্ধটি এখনো শেষ হয়নি। ট্রাম্প গাজা যুদ্ধ থামানোর দাবি করেছেন। যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় গাজায় একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তি হওয়ার পরও ইসরাইল সেই ভূখণ্ডে ঘন ঘন হামলা চালানো অব্যাহত রেখেছে।
ট্রাম্প অবশ্য ২০২৫ সালে ইসরাইল ও ইরানের মধ্যকার সংক্ষিপ্ত সংঘাতটির অবসান ঘটাতে সাহায্য করেছিলেন, যদিও পরবর্তীতে ২০২৬ সালে ইরানের বিরুদ্ধে আরেকটি নতুন যুদ্ধ শুরু করতে ইসরাইল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যোগ দেয়।