ই-পেপার

পাকিস্তানে ফের দুই অঙ্কে মূল্যস্ফীতি, চাপে সাধারণ মানুষ

পাকিস্তানে আগস্টে মূল্যস্ফীতি আবারও দুই অঙ্কের ঘরে

আপডেট: ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:৪৭
১ ভিউ
পাকিস্তানে ফের দুই অঙ্কে মূল্যস্ফীতি, চাপে সাধারণ মানুষ

ছবি সংগৃহীত: ফাইল ছবি

অনলাইন ডেস্ক : পাকিস্তানে আগস্টে মূল্যস্ফীতি আবারও দুই অঙ্কের ঘরে উঠেছে। মাসটিতে মূল্যস্ফীতি বেড়ে ১১ দশমিক ২ শতাংশে দাঁড়িয়েছে, যেখানে এক মাস আগেও তা ১০ শতাংশের নিচে ছিল।

জ্বালানি ও খাদ্যের উচ্চমূল্যের পাশাপাশি সরকারি করের প্রভাবে জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়ায় চাপে পড়েছে সাধারণ মানুষ। এশিয়ান নিউজ ইন্টারন্যাশনালের (এএনআই) প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানা যায়।

এর আগে, গত এপ্রিলে প্রায় ২১ মাস পর পাকিস্তানে মূল্যস্ফীতি ১০ শতাংশের ঘর ছাড়িয়েছিল।

দ্য এক্সপ্রেস ট্রিবিউনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পাকিস্তান পরিসংখ্যান ব্যুরোর (পিবিএস) হিসেবে শহরাঞ্চল ও গ্রামাঞ্চল উভয় ক্ষেত্রেই ভোক্তা মূল্যসূচক (সিপিআই) অনুযায়ী মূল্যস্ফীতি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।

দ্য এক্সপ্রেস ট্রিবিউনের মতে, মূল্যবৃদ্ধির জন্য সরকারের এমন নীতিকে দায়ী করা হচ্ছে, যেখানে আন্তর্জাতিক জ্বালানি খরচ ও বিভিন্ন করের পুরো চাপ ভোক্তাদের ওপর দেওয়া হয়েছে। একই সময়ে প্রাদেশিক কর্তৃপক্ষ পর্যাপ্ত গম সরবরাহ নিশ্চিত করতেও হিমশিম খাচ্ছে। পেট্রলে পেট্রলিয়াম লেভি, কার্বন লেভি ও কাস্টমস ডিউটি মিলিয়ে প্রতি লিটারে ১১৬ পাকিস্তানি রুপি কর দিতে হচ্ছে। হাই-স্পিড ডিজেলের ক্ষেত্রে এ কর ১০১ পাকিস্তানি রুপি।

এক বছর আগের তুলনায় মোটর জ্বালানির দাম প্রায় ২৫ শতাংশ বেড়েছে। এতে পরিবহন খাতের মূল্যস্ফীতিও বেড়েছে ২০ দশমিক ২ শতাংশ। টোলা অ্যাসোসিয়েটসের এক গবেষণায় দেখা গেছে, ডলারের হিসেবে ডিজেলের দাম দক্ষিণ এশিয়ায় তা সর্বোচ্চ। আর পেট্রলের দাম বাংলাদেশের পর দ্বিতীয় সর্বোচ্চ।

খাদ্যপণ্যের দামও উদ্বেগ বাড়াচ্ছে।

শহরাঞ্চলে খাদ্য মূল্যস্ফীতি ১২ দশমিক ১ শতাংশ এবং গ্রামাঞ্চলে ১৩ দশমিক ২ শতাংশে পৌঁছেছে। এক বছরে টমেটোর দাম ১২৮ শতাংশ, পেঁয়াজের দাম ১২৫ শতাংশ, গমের দাম ৮৭ শতাংশ এবং গমের আটার দাম ৭৩ শতাংশ বেড়েছে। দুগ্ধজাত পণ্যের দামও বেড়েছে প্রায় ১০ শতাংশ।

দ্য এক্সপ্রেস ট্রিবিউনের জানিয়েছে, সরকার এ বছর ২ কোটি ৯৭ লাখ টন গম উৎপাদনের দাবি করেছে।

সিন্ধু ও পাঞ্জাব গম সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা পূরণে ব্যর্থ হওয়ায় কেন্দ্রীয় সরকার এখন ১০ লাখ টন পর্যন্ত গম আমদানির সিদ্ধান্ত নিয়েছে। মজুদদারির বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়েও নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্যের দাম কমানো যায়নি।

দ্য এক্সপ্রেস ট্রিবিউনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শহরাঞ্চলে খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতি ৯ দশমিক ৪ শতাংশ এবং গ্রামাঞ্চলে ১১ দশমিক ৩ শতাংশে পৌঁছেছে।

অন্যদিকে, মূল মূল্যস্ফীতি বেড়ে ৮ দশমিক ৫ শতাংশ থেকে ৮ দশমিক ৮ শতাংশের মধ্যে দাঁড়িয়েছে।