ই-পেপার

কানাডার ইতিহাসে বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত দ্বিতীয় এমপি হলেন তানভীর শাহনওয়াজ

কানাডার ইতিহাসে বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত প্রথম

আপডেট: ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২০:৩১
১৩ ভিউ
কানাডার ইতিহাসে বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত দ্বিতীয় এমপি হলেন তানভীর শাহনওয়াজ

ছবি সংগৃহীত: ফাইল ছবি

অনলাইন ডেস্ক : কানাডার ইতিহাসে বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত প্রথম এমপি ডলি বেগমের পর দ্বিতীয় এমপি হলেন তানভীর শাহনওয়াজ। গত ৩১ আগস্ট, সোমবার টরন্টোর বিচেস-ইস্ট ইয়র্ক এর ফেডারেল উপনির্বাচনে বিজয়ী হয়ে তানভীর এই গৌরব অর্জন করলেন। তবে কানাডায় জন্মগ্রহণকারী বাংলাদেশী বংশোদ্ভূতদের মধ্যে তিনিই হলেন প্রথম ব্যক্তি যিনি এমন এক গৌরবজনক উচ্চতায় আরোহণ করলেন।

উল্লেখ্য, তানভীর শাহনওয়াজ ১৯৯৫ সালে ইস্ট ইয়র্ক জেনারেল হাসপাতালে (বর্তমান নাম মাইকেল গ্যারন জেনারেল হাসপাতাল) জন্মগ্রহণ করেন এবং ইস্ট ইয়র্কের ক্রিসেন্ট টাউন এলাকাতে বসবাস করেন। স্থানীয় বিভিন্ন সামাজিক ও জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে তিনি যুক্ত রয়েছেন। ২০১৬ সালে তিনি তৎকালীন এমপি ন্যাথানিয়েল এরিস্কিন স্মিথের নির্বাচনী এলাকার কার্যালয়ে কাজ শুরু করেন এবং ২০১৮ সালে কার্যালয়টির ম্যানেজারের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। দীর্ঘদিন ওই দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে তিনি ফেডারেল সরকারের বিভিন্ন সেবা নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের সমস্যা, প্রত্যাশা ও উদ্বেগ সম্পর্কে প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা অর্জন করেন।

কোভিড-১৯ মহামারির সময় স্থানীয় বাসিন্দাদের সহায়তায়ও তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভ‚মিকা রাখেন। পরে ন্যাথানিয়েল এরস্কিন স্মিথের হাউজিং, অবকাঠামো ও কমিউনিটিবিষয়ক মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে তানভীর তাঁর বিশেষ উপদেষ্টা হিসেবে কাজ করেন। নির্বাচনী এলাকার কার্যালয় ও মন্ত্রীর দপ্তর-উভয় পর্যায়ে কাজ করার অভিজ্ঞতা তাঁকে ফেডারেল সরকারের কার্যক্রম এবং স্থানীয় মানুষের প্রয়োজন সম্পর্কে গভীর ধারণা দিয়েছে। তানভীর টেলর-ম্যাসি অ্যান্ড ওকরিজ কমিউনিটি রেসপন্স টিমের যৌথ সভাপতির দায়িত্বও পালন করেছেন। ক্রিসেন্ট টাউন, টেলর-ম্যাসি ও ওকরিজের মতো বহুসাংস্কৃতিক ও অভিবাসী অধ্যুষিত এলাকায় কাজ করার অভিজ্ঞতায় স্থানীয় জনগোষ্ঠীর চাহিদা ও সমস্যার সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠ পরিচয় গড়ে উঠেছে।

তানভীর শাহনওয়াজ ২০১৮ সালে ইউনিভার্সিটি অব টরন্টো থেকে ‘পাবলিক পলিসি এন্ড সিটি স্টাডিজ’ বিষয়ে স্নাতক ডিগ্রী অর্জন করেন। স্কুল জীবন থেকেই তিনি মূল পড়াশুনার পাশাপাশি কো-কারিকুলার কার্যক্রমে খুবই সক্রিয় ছিলেন। স্কুলের ড্রামা ক্লাব থেকে শুরু করে সব ধরনের খেলাধুলায় তিনি পারদর্শী ছিলেন এবং তখন থেকেই তাঁর মধ্যে এক সহজাত নেতৃত্বের গুণাবালী তাঁর শিক্ষক ও সতীর্থরা লক্ষ্য করেন। ফলে ডি এ মরিশন মিডল স্কুলের গ্রাজুয়েশন সিরিমনি’তে তাঁকে সেরা শিক্ষার্থী হিসেবে ‘ভ্যালেডিক্টোরিয়ান’ (Valedictorian) সম্মানে সম্মানীত করা হয়। পরবর্তীতে হাই স্কুলেও তাঁর সাফল্যের ধারাবাহিকতা বজায় থাকে। সেখানেও তিনি তাঁর সহপাঠীদের ভোটে ‘ভ্যালেডিক্টোরিয়ান’ সম্মানে সম্মানীত হন। ফলে ২০১৩ সালে ড্যানফোর্থ কলেজিয়েট এন্ড টেকনিক্যাল ইন্সটিটিউট এর গ্রাজুয়েশন সিরিমনি’তে শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে গ্রাজুয়েশন স্পীচ (Graduation Speech) দেবার জন্য তাঁকে মনোনীত করা হয়। নিঃসন্দেহে, একজন শিক্ষার্থীর জন্য এমন এক মনোনয়ন ছিল খুবই আস্থার আর সম্মানের। হাই স্কুল গ্রাজুয়েশনের পর তাঁর মধ্যে প্রবলভাবে কাজ করে, তিনি এমন কিছু কাজের সাথে নিজেকে জড়িত রাখবেন, যাতে তাঁর আশে পাশের মানুষের উপকারে তিনি আসতে পারেন এবং সমাজ ও রাষ্ট্রের পলিসি মেকিং এ কাজ করতে পারেন। ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হবার সময় তিনি বেছে নেন ‘পাবলিক পলিসি এন্ড সিটি স্টাডিজ’ বিষয়টি।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র থাকাকালীন তৎকালীন অন্টারিও’র প্রিমিয়ার ক্যাথলিন উয়িন অন্টারিও প্রভিন্স থেকে ২৫ জন তরুণ নেতাকে মনোনীত করেছিলেন, যারা মূলত অন্টারিও’র তরুণদের মুখপাত্র হিসেবে প্রিমিয়ারের সিদ্ধান্ত গ্রহণে কাজ করতেন। অন্টারিও’র সেই ২৫ জন্য তরুণ নেতার মধ্যে তানভীর ছিলেন একজন অন্যতম প্রধান। তখন তিনি বিভিন্ন মন্ত্রীদের সাথে কাজ করেন, এবং অন্টারিও’র সকল তরুণের হয়ে সরকারী সিদ্ধান্ত গ্রহণে অবদান রাখেন।

কানাডার পার্লামেন্টে তানভীর শাহনওয়াজ এর প্রবেশ কানাডায় বসবাসরত বাংলাদেশীদের জীবনে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করলো। প্রত্যাশা করা হচ্ছে, তানভীর আগামী দিনগুলিতে সাধারণ মানুষের বলিষ্ঠ কণ্ঠস্বর হয়ে সমাজ ও মানুষের সার্বিক উন্নয়নে কাজ করবে।