১৬ বছরের নিচে সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা দিতে যাচ্ছে কানাডা
অনলাইন ডেস্ক, বাংলাদেশ - Thursday, June 11, 2026 7
অনলাইন ডেস্ক : শিশু-কিশোরদের অনলাইন নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ১৬ বছরের কম বয়সীদের জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা আরোপের উদ্যোগ নিয়েছে কানাডা। বিবিসির খবরে বলা হয়েছে, দেশটির সরকার নতুন একটি বিল উত্থাপন করেছে, যা পাস হলে অস্ট্রেলিয়ার পর কানাডাও এ ধরনের কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া দেশগুলোর কাতারে যোগ দেবে।
‘সেফ সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাক্ট’ নামে প্রস্তাবিত এই আইনে ১৬ বছরের নিচে শিশু-কিশোরদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অ্যাকাউন্ট খোলা বা ব্যবহার সীমিত করার কথা বলা হয়েছে। তবে অস্ট্রেলিয়ার আইনের তুলনায় এতে কিছুটা ভিন্নতা রয়েছে। প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো যদি প্রমাণ করতে পারে যে তারা অপ্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষতি কমাতে কার্যকর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে, তাহলে তারা কিছু ক্ষেত্রে ছাড় পেতে পারে।
বুধবার কানাডার সংস্কৃতিমন্ত্রী মার্ক মিলার দেশটির পার্লামেন্টে বলটি উত্থাপন করেন।
তিনি বলেন, অনলাইন ক্ষতি মোকাবেলায় আইন প্রণয়ন এখন সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার।
নতুন আইনে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পাশাপাশি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক (এআই) চ্যাটবট নিয়ন্ত্রণ এবং শিশুদের জন্য ক্ষতিকর কনটেন্ট সীমিত করার বিধানও রাখা হয়েছে। আইন বাস্তবায়নের জন্য একটি স্বাধীন নিয়ন্ত্রক সংস্থা ‘ডিজিটাল সেফটি কমিশন অব কানাডা’ গঠনের প্রস্তাব করা হয়েছে।
বিলে সাত ধরনের ‘ক্ষতিকর কনটেন্ট’-এর কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
এর মধ্যে শিশুদের হয়রানি, ঘৃণা ছড়ানো, সহিংসতায় উসকানি দেওয়া এবং অন্যান্য ঝুঁকিপূর্ণ বিষয়বস্তু অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। আইন ভঙ্গ করলে কোনো প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ এক কোটি কানাডিয়ান ডলার বা বৈশ্বিক আয়ের ৩ শতাংশ পর্যন্ত জরিমানা করা হতে পারে।
তবে প্রস্তাবিত আইনটি নিয়ে বিতর্কও শুরু হয়েছে। মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিয়ে কাজ করা কয়েকটি সংগঠন আশঙ্কা প্রকাশ করেছে, নতুন আইন অনলাইনে সেন্সরশিপের পরিধি বাড়াতে পারে। তাদের মতে, এসব সমস্যা বিদ্যমান ফৌজদারি আইন দিয়েই মোকাবেলা করা সম্ভব।
এদিকে শিশুদের অনলাইন নিরাপত্তা নিয়ে বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ বাড়ছে। ইতোমধ্যে অস্ট্রেলিয়া, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স ও নিউজিল্যান্ড এ বিষয়ে বিভিন্ন ধরনের আইন বা নীতিমালা গ্রহণ করেছে। আগামী সপ্তাহে ফ্রান্সে অনুষ্ঠিতব্য জি-৭ সম্মেলনেও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও শিশুদের অনলাইন নিরাপত্তা গুরুত্বপূর্ণ আলোচ্য বিষয় হিসেবে উঠে আসতে পারে বলে জানিয়েছে ব্রিটিশ গণমাধ্যমটি।
