ভোররাতে আকাশে উত্তেজনা, ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ে মার্কিন সামরিক ড্রোন ভূপাতিত করল ইরান
অনলাইন ডেস্ক, বাংলাদেশ - Sunday, May 31, 2026 2
অনলাইন ডেস্ক : যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা প্রশমনের আলোচনা চললেও দেশ দুটির মধ্যে নতুন করে সামরিক উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। ইরানের দাবি, দেশটির আঞ্চলিক সমুদ্রসীমায় প্রবেশ করা একটি মার্কিন সামরিক ড্রোন ভূপাতিত করেছে তারা। মার্কিন এই ড্রোনটি ‘বৈরী অভিযান’ চালানোর চেষ্টা করছিল বলেও অভিযোগ করা হয়েছে। এছাড়া যেকোনও ধরনের আগ্রাসনের জবাব কঠোরভাবে দেয়া হবে বলে আবারও সতর্ক করেছে তেহরান।
বার্তাসংস্থা আনাদোলু বলছে, ইরানের আঞ্চলিক সমুদ্রসীমার উপর ভূপাতিত ড্রোনটি যুক্তরাষ্ট্রের এমকিউ-১ প্রিডেটর সামরিক ড্রোন বলে জানানো হয়েছে। রাষ্ট্রীয় বার্তাসংস্থা আইআরএনএ-এর বরাতে রোববার (৩১ মে) এ তথ্য জানা গেছে। আইআরএনএ প্রকাশিত এক বিবৃতিতে ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) জানায়, রোববার ভোরে ড্রোনটি ‘বৈরী অভিযান’-এর অংশ হিসেবে ইরানের আকাশসীমায় প্রবেশ করেছিল।
বিবৃতিতে বলা হয়, ড্রোনটি আঞ্চলিক সমুদ্রসীমা অতিক্রম করার পর সেটিকে শনাক্ত করা হয় এবং ইরানের উন্নত আকাশ প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থার মাধ্যমে ভূপাতিত করা হয়।
আইআরজিসি বলেছে, ‘যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর একটি আগ্রাসী এমকিউ-১ ড্রোন আঞ্চলিক সমুদ্রসীমার ওপর দিয়ে ইরানের আকাশসীমায় প্রবেশ করে বৈরী অভিযান চালানোর চেষ্টা করেছিল। আজ ভোরে ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর আধুনিক আকাশ প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্রের মাধ্যমে সেটিকে শনাক্ত ও ধ্বংস করা হয়েছে।’
বিবৃতিতে আরও সতর্ক করা হয়, ইরানের বিরুদ্ধে যেকোনও ধরনের আগ্রাসনের জবাব দৃঢ়ভাবে দেয়া হবে।
এদিকে হরমুজ প্রণালির ওপর নিজেদের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ পুনর্ব্যক্ত করে বাণিজ্যিক ও সামরিক জাহাজগুলোর প্রতি কঠোর সতর্কবার্তা দিয়েছে ইরান। দেশটির সামরিক বাহিনীর কেন্দ্রীয় সদর দপ্তর (খাতাম আল-আম্বিয়া) জানিয়েছে, প্রণালিটি দিয়ে চলাচলের ক্ষেত্রে নির্ধারিত নিয়ম মেনে চলতে হবে, অন্যথায় কঠোর পরিণতির মুখোমুখি হতে হবে।
এক বিবৃতিতে সদর দপ্তরটি বলেছে, ‘হরমুজ প্রণালির ব্যবস্থাপনা ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর পূর্ণ কর্তৃত্বের অধীনে পরিচালিত হচ্ছে। সব বাণিজ্যিক জাহাজ, তেলবাহী ট্যাংকার ও অন্যান্য নৌযানকে নির্ধারিত রুট ব্যবহার করতে হবে।
এছাড়া প্রণালি দিয়ে যাত্রার আগে ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) নৌবাহিনীর অনুমতি নিতে হবে বলেও জানায় ইরানের সামরিক বাহিনী। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ‘কোনও জাহাজ এসব বিধিনিষেধ লঙ্ঘন করলে তাদের চলাচলের নিরাপত্তা মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়বে।
