আন্তর্জাতিক

গাজার ৭০ শতাংশ এলাকা নিয়ন্ত্রণে নিতে সেনাবাহিনীকে নির্দেশ নেতানিয়াহুর

অনলাইন ডেস্ক, বাংলাদেশ - Friday, May 29, 2026 5

অনলাইন ডেস্ক : ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় নিজেদের নিয়ন্ত্রণ আরও বিস্তৃত করার নির্দেশ দিয়েছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। তিনি জানিয়েছেন, বর্তমানে গাজার ৬০ শতাংশ এলাকা ইসরায়েলি বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং সেটি ৭০ শতাংশে উন্নীত করতে তিনি সেনাবাহিনীকে নির্দেশ দিয়েছেন। তবে এই ঘোষণা এমন সময়ে এলো, যখন যুদ্ধবিরতি চুক্তি বাস্তবায়ন ও শান্তি পরিকল্পনা নিয়ে ইসরায়েল-হামাসের আলোচনা অচলাবস্থার মধ্যে রয়েছে। খবর বিবিসি

 

নেতানিয়াহু বলেন, তিনি ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীকে (আইডিএফ) গাজা উপত্যকার ৭০ শতাংশ এলাকায় নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার নির্দেশ দিয়েছেন। বৃহস্পতিবার এক সম্মেলনে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা বর্তমানে হামাসকে চাপে রেখেছি। এখন গাজার ৬০ শতাংশ এলাকা আমাদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। আপনারা জানেন, আমরা ৫০ শতাংশ থেকে ৬০ শতাংশ পর্যন্ত নিয়ন্ত্রণে নিয়েছি। আমার নির্দেশ হলো এটিকে...’।

এ সময় উপস্থিত একজন ‘১০০ শতাংশ’ বলে মন্তব্য করলে নেতানিয়াহু কিছুক্ষণ থেমে বলেন, ‘ধাপে ধাপে এগোই। প্রথমে ৭০ শতাংশ। সেখান থেকেই শুরু করি। আমরা সব দিক থেকে তাদের চাপে রাখছি। বাকি অংশও আমরা মোকাবিলা করব।’

 

গাজায় ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণ আরও বাড়ানোর এই ঘোষণা ডোনাল্ড ট্রাম্পের নেতৃত্বে হওয়া যুদ্ধবিরতি চুক্তির শর্তের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। ২০২৫ সালের অক্টোবরে ইসরায়েল ও হামাস ওই যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে সম্মত হয়েছিল।

 

এছাড়া নেতানিয়াহু এ মন্তব্য এমন সময়ে করলেন যখন যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকা সত্ত্বেও গাজায় হামলা অব্যাহত রেখেছে ইসরায়েল। একই সময়ে ট্রাম্পের গাজা শান্তি পরিকল্পনা এগিয়ে নিতে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যে পরোক্ষ আলোচনা চললেও তা অচলাবস্থায় রয়েছে। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের অক্টোবরে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত অন্তত ৭৩৮ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। জাতিসংঘ এ পরিসংখ্যানকে নির্ভরযোগ্য বলে মনে করে।

 

নেতানিয়াহু এর আগেও একাধিকবার প্রকাশ্যে বলেছেন, ইসরায়েলি সেনাবাহিনী বর্তমানে গাজার ৬০ শতাংশের বেশি এলাকা নিয়ন্ত্রণ করছে। অথচ ২০২৫ সালের অক্টোবরে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় হওয়া যুদ্ধবিরতি চুক্তির সময় এই হার ছিল ৫৩ শতাংশ। চুক্তি অনুযায়ী, আইডিএফ ‘ইয়েলো লাইন’ নামে পরিচিত একটি সীমারেখা পর্যন্ত সরে যায়। এর ফলে গাজার প্রায় ৫৩ শতাংশ এলাকা ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে থাকে।

 

২০ দফার শান্তি প্রস্তাবের পরবর্তী ধাপে হামাসের নিরস্ত্রীকরণ এবং ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহারের কথা রয়েছে। তবে এ বিষয়ে ইসরায়েল ও ফিলিস্তিনি সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাসের মধ্যে পরোক্ষ আলোচনা স্থবির হয়ে আছে।

 

গত বুধবার ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ এক্সে দেয়া পোস্টে বলেন, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের হামলার নেতৃত্বে যারা ছিল, তাদের সবাইকে নির্মূল করার অঙ্গীকার করেছে তার দেশ। তিনি বলেন, ‘হামাস গাজায় বেসামরিক বা সামরিক কোনোভাবেই শাসন করতে পারবে না’। তিনি আরও বলেন, গাজা থেকে ‘স্বেচ্ছায় অভিবাসনের পরিকল্পনা’ যথাসময়ে এবং যথাযথ উপায়ে বাস্তবায়ন করা হবে।

 

ইসরায়েলের কট্টর ডানপন্থি জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন-গভির এবং অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোটরিচ এর আগেও প্রকাশ্যে গাজা থেকে ফিলিস্তিনিদের তথাকথিত ‘স্বেচ্ছা স্থানান্তর’ এবং সেখানে ইহুদি বসতি স্থাপনের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। সমালোচকদের মতে, এটি বেসামরিক জনগণকে জোরপূর্বক উচ্ছেদের শামিল হতে পারে এবং তা যুদ্ধাপরাধ হিসেবে বিবেচিত হবে।

 

এদিকে চলতি সপ্তাহেও গাজায় একাধিক হামলার ঘটনা ঘটেছে। স্থানীয় হাসপাতালগুলোর তথ্য অনুযায়ী, বুধবার গভীর রাতে গাজা সিটির একটি ভবনে ইসরায়েলি হামলায় অন্তত ১০ জন নিহত হন। নিহতদের মধ্যে পাঁচজন শিশু ছিল।

 

এছাড়া ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া ইসরায়েলি আগ্রাসনে ৭২ হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। নিহতদের বেশিরভাগই নারী ও শিশু। আহত হয়েছেন আরও ১ লাখ ৭২ হাজারের বেশি মানুষ। যুদ্ধের ফলে গাজার প্রায় ৯০ শতাংশ বেসামরিক অবকাঠামো ব্যাপকভাবে ধ্বংস হয়েছে।

এই বিভাগের আরও খবর