পশ্চিমবঙ্গে উত্তেজনা, শুভেন্দুর ব্যক্তিগত সহকারীকে গুলি করে হত্যা
অনলাইন ডেস্ক, বাংলাদেশ - Thursday, May 7, 2026 12
অনলাইন ডেস্ক : পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর থেকেই রাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় সহিংসতার ঘটনা ঘটছে। এরই মধ্যে বুধবার দিনগত (৭ মে) রাতে উত্তর ২৪ পরগনায় বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারীর ব্যক্তিগত সহকারী চন্দ্রনাথ রথকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে।
বুধবার গভীর রাতে উত্তর ২৪ পরগনার মধ্যমগ্রামের দোহারিয়া এলাকায় সন্ত্রাসীরা চন্দ্রনাথ রথকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। এ সময় তার গাড়িতে থাকা আরও এক যুবক গুরুতর আহত হন। আহত ওই যুবককে কলকাতার একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ঘটনার পর মধ্যমগ্রাম ও আশপাশের এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
চন্দ্রনাথ রথের মরদেহ একটি বেসরকারি হাসপাতালে রাখা হয়েছে। খবর পেয়ে সেখানে পৌঁছেছেন শুভেন্দু অধিকারী। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্যমতে, ওই হাসপাতালেই চিকিৎসকরা চন্দ্রনাথকে মৃত ঘোষণা করেন। এদিকে, বিশাল পুলিশ বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছে এলাকা ঘিরে রেখেছে এবং তদন্ত শুরু করেছে।
উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক বিধানসভা নির্বাচনে শুভেন্দু অধিকারী পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে পরাজিত করেছেন। ফলে রাজ্যের পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে তার নাম আলোচনায় রয়েছে।
চন্দ্রনাথ রথ পূর্বে সরকারি চাকরিতে কর্মরত ছিলেন। তিনি ভারতীয় বিমানবাহিনীর সদস্য ছিলেন। অবসর গ্রহণের পর শুভেন্দু অধিকারীর ব্যক্তিগত সহকারী হিসেবে দায়িত্ব পালন শুরু করেন। সাম্প্রতিক নির্বাচনী প্রচারণাতেও তিনি সক্রিয়ভাবে কাজ করেছেন।
পশ্চিমবঙ্গের গণমাধ্যমে শুভেন্দুর ভাই দিব্যেন্দু অধিকারীকে উদ্ধৃত করে বলা হয়েছে, বুধবার রাতে বাড়ি ফেরার পথে খুব কাছ থেকে চন্দ্রনাথের গাড়ির জানালার কাচে অস্ত্র ঠেকিয়ে গুলি চালানো হয়। হামলাকারীরা মোটরসাইকেলে ছিল বলে জানা গেছে। তারা গাড়ি থামিয়ে কয়েক রাউন্ড গুলি চালায়। ধারণা করা হচ্ছে, ঘটনাস্থলেই চন্দ্রনাথ রথের মৃত্যু হয়।
গত সোমবার বিধানসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর থেকেই পশ্চিমবঙ্গজুড়ে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে। বিজেপি ও তৃণমূল কংগ্রেসের নেতা-কর্মীদের সংঘর্ষে অন্তত চারজন নিহত হয়েছেন বলে দুই দলের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে। তবে এসব হত্যাকাণ্ড রাজনৈতিক কারণে ঘটেছে নাকি অন্য কোনো কারণে, সে বিষয়ে এখনো স্পষ্ট বক্তব্য দেয়নি রাজ্য পুলিশ।
রাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় লুটপাট, দলীয় কার্যালয়ে হামলা, অগ্নিসংযোগ এবং বাড়ি বাড়ি গিয়ে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। রাজনৈতিক সহিংসতার কারণে বহু নেতা-কর্মী ঘরছাড়া হয়েছেন। পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে এবং সহিংসতার অভিযোগে ইতোমধ্যে অনেককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
তবে রাজ্য বিজেপির শীর্ষ নেতার ব্যক্তিগত সহকারী হত্যার ঘটনায় আগামী দিনে সহিংসতা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
