আন্তর্জাতিক

এপস্টেইন কাণ্ডে অবশেষে মুখ খুললেন বিল গেটস

অনলাইন ডেস্ক, বাংলাদেশ - Thursday, June 25, 2026 41

অনলাইন ডেস্ক : চলতি বছরের শুরুতে কুখ্যাত যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টেইন সম্পর্কিত ৩০ লাখের বেশি নথি প্রকাশ করে মার্কিন বিচার বিভাগ (ডিওজে)। এসব নথিতে বিশ্বজুড়ে প্রভাবশালী বহু ব্যক্তির মতো মাইক্রোসফটের সহপ্রতিষ্ঠাতা বিল গেটসের নাম থাকা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। অবশেষে এ বিষয়ে মুখ খুললেন বিল গেটস।

ডিওজে-এর প্রকাশিত নথিতে দেখা যায়, ‘একটি ড্রাফট ইমেইল এপস্টেইন লিখেছেন, বিল গেটস বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কে জড়িয়েছেন। এমনকি এক রুশ নারীর সঙ্গে শয্যাসঙ্গী হওয়ার পর যৌনরোগে আক্রান্ত হয়েছিলেন তিনি। সুস্থ হতে তাকে ওষুধও দেন এপস্টেইন। এছাড়াও গোপনে স্ত্রী মিলিন্দা গেটসকে অ্যান্টিবায়োটিক খাওয়াতে চেয়েছিলেন গেটস’।

 

এ বিষয়ে চলতি মাসের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্রের ক্যাপিটল হিলে অনুষ্ঠিত রুদ্ধদ্বার বৈঠকে মার্কিন কংগ্রেসের ‘হাউস ওভারসাইট কমিটি’র কাছে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেছেন মাইক্রোসফটের সহপ্রতিষ্ঠাতা বিল গেটস।

গতকাল মঙ্গলবার (২৩ জুন) কমিটির প্রকাশিত ট্রান্সক্রিপ্টে তার দেওয়া বক্তব্যগুলো সামনে আসে, যেখানে বিল গেটস জানান, এপস্টেইন তার ফাউন্ডেশনের গ্লোবাল হেলথ বা বৈশ্বিক স্বাস্থ্য উদ্যোগের জন্য শত শত কোটি ডলার সংগ্রহ করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। মূলত এই উদ্দেশ্যেই ২০১১ থেকে ২০১৪ সালের মধ্যে এপস্টেইনের সঙ্গে তার প্রায় এক ডজন বৈঠক ও কয়েকবার স্কাইপ কল হয়েছিল।

 

তিনি জোরালোভাবে দাবি করেন, এপস্টেইন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত এমন কোনো বিষয় তিনি কখনো প্রত্যক্ষ করেননি। তিনি এপস্টেইনের ফ্লোরিডার বাড়ি, খামার বা তার ব্যক্তিগত দ্বীপে কখনো যাননি।

তবে গেটস স্বীকার করেন, এপস্টেইনের সঙ্গে মেলামেশা করা তার জীবনের অন্যতম বড় ভুল ছিল। তিনি জানতেন, এপস্টেইনের বিরুদ্ধে যৌন অপরাধের সাজা ছিল। তবুও সম্ভাব্য জনকল্যাণমূলক কাজের আশায় তার সঙ্গে যোগাযোগ রাখেন।

 

তিনি বলেন, ‘আমি জানতাম তার একটি অপরাধের রেকর্ড রয়েছে। আমি এটিও জানতাম যে সেটি যৌন নিপীড়ন সংক্রান্ত ছিল, তবে আমি এর গভীরে গিয়ে বিস্তারিত খোঁজার চেষ্টা করিনি, যা সম্ভবত আমার করা উচিত ছিল।’

বিল গেটস আরও দাবি করেন, ২০১৪ সালে সম্পর্ক ছিন্ন করার পর এপস্টেইন তার ব্যক্তিগত জীবনের কিছু বিষয় ব্যবহার করে চাপ দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। এমনকি এক নারীর সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়ে খরচ ফেরত চেয়েও বার্তা পাঠিয়েছিলেন এপস্টেইন।

 

এপস্টেইন ইমেইলের অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করে তিনি বলেন, ‘জানুয়ারিতে প্রকাশিত নথিগুলো দেখে এখন মনে হচ্ছে, তিনি (এপস্টেইন) নিজের ইমেইলে মহড়া দিচ্ছিলেন কীভাবে আমাকে ব্ল্যাকমেইল করা যায় বা অন্য কাউকে দিয়ে করানো যায়। তবে এই বার্তাগুলোর কোনোটিই আমাকে কখনো পাঠানো হয়নি। আমি জেফরি এপস্টেইনকে কখনো কোনো অর্থ দিইনি।’

এদিকে এপস্টেইনের দীর্ঘদিনের সহকারী লেসলি গ্রফের জবানবন্দির অনুলিপিও প্রকাশ করেছে কমিটি, যেখানে তিনি এপস্টেইনকে ‘অত্যন্ত কৌশলী মানুষ’ হিসেবে বর্ণনা করেন এবং দাবি করেন, তার অপরাধ সম্পর্কে তিনি জানতেন না।

 

গ্রফ দাবি করেন, তিনিও এপস্টেইনের মূল অপরাধের বিষয়ে সম্পূর্ণ অজ্ঞ ছিলেন এবং ২০০৮ সালের সাজার পর এপস্টেইন তাকে বুঝিয়েছিলেন যে তাকে ‘ফাঁসানো’ হয়েছে। তিনি সেই কথা বিশ্বাস করেছিলেন।

তিনি আরও জানান, এপস্টেইনের বিভিন্ন বৈঠক ও ম্যাসাজের সময়সূচি তিনি পরিচালনা করতেন, তবে এসব কার্যক্রমের প্রকৃত উদ্দেশ্য সম্পর্কে তিনি অবগত ছিলেন না।

 

প্রসঙ্গত, গত ৩০ জানুয়ারি কুখ্যাত যৌন অপরাধী জেফ্রি এপস্টেইনের বিরুদ্ধে মানি-লন্ডারিং ও যৌন অপরাধের তদন্তের সঙ্গে যুক্ত ৩০ লাখের বেশি পৃষ্ঠার নথি প্রকাশ করে মার্কিন বিচার বিভাগ। এসব নথিতে বিশ্বজুড়ে প্রভাবশালী বহু ব্যক্তি, সাবেক ও বর্তমান বিশ্বনেতা, শিল্পপতি ও কূটনীতিকদের যোগাযোগ, ই-মেইল ও ব্যক্তিগত তথ্য রয়েছে। এরমধ্যে ব্রিটিশ রাজপরিবারের প্রিন্স অ্যান্ড্রু, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, সাবেক প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন, বিশ্বের শীর্ষ ধনী ইলন মাস্ক, মাইক্রোসফটের প্রতিষ্ঠাতা বিল গেটস এবং ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নামও নথিতে এসেছে।

 

জেফরি এপস্টেইন ছিলেন একজন প্রভাবশালী মার্কিন অর্থদাতা। ২০০৫ সালে এক নাবালিকাকে শ্লীলতাহানির অভিযোগের ভিত্তিতে তার বিরুদ্ধে প্রথম তদন্ত শুরু হয়। ২০০৮ সালে তিনি নাবালিকাকে দেহব্যবসায় বাধ্য করার দায়ে দোষী সাব্যস্ত হন। তবে সে সময় তিনি প্রভাব খাটিয়ে প্রসিকিউটরদের সঙ্গে একটি আপিল চুক্তির মাধ্যমে বড় সাজা থেকে বেঁচে যান এবং ১৮ মাসের জেল খাটেন।

পরবর্তীতে ১১ বছর পর ২০১৯ সালে তার বিরুদ্ধে আবার নারী-কিশোরী পাচারের অভিযোগ আনা হয় এবং তাকে গ্রেফতার করা হয়। ওই বছরই নিউইয়র্কের একটি কারাগারে বন্দী অবস্থায় তিনি আত্মহত্যা করেন বলে জানায় জেল কর্তৃপক্ষ।

 

সূত্র: সিএনএন, এনডিটিভি

এই বিভাগের আরও খবর