আন্তর্জাতিক

সৌদিতে এক বছরে ১০০ জনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর

অনলাইন ডেস্ক, বাংলাদেশ - Tuesday, June 23, 2026 9

অনলাইন ডেস্ক : ধ্যপ্রাচ্যের দেশ সৌদি আরবে মাদক পাচার ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে অভিযুক্ত অন্তত সাতজনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে। মঙ্গলবার দেশটির কারাগারে অভিযুক্তদের সর্বোচ্চ সাজা কার্যকর করা হয়। এ নিয়ে চলতি বছর দেশটিতে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের সংখ্যা ১০০ জনে পৌঁছেছে।

দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে পাঁচজন মাদক পাচারের দায়ে দোষী সাব্যস্ত হয়েছিলেন। এ নিয়ে মাদক সংক্রান্ত অপরাধে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া ব্যক্তির সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬৫ জনে; যাদের মধ্যে ৪৩ জনই বিদেশি নাগরিক।

 

সোমবার আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল এই ঘটনাকে কর্তৃপক্ষের বিবেকহীন এবং বেআইনিভাবে মৃত্যুদণ্ড ব্যবহারের এক নির্মম মাইলফলক বলে নিন্দা জানিয়েছে।

লন্ডনভিত্তিক এই মানবাধিকার সংস্থা বলেছে, ‌‌মাদক সংক্রান্ত অপরাধে সৌদি আরবের নির্বিচার মৃত্যুদণ্ড ব্যবহারের কারণে সবচেয়ে বেশি ভুক্তভোগী হয়েছেন বিদেশি নাগরিকরা। প্রায়ই অত্যন্ত অন্যায্য বিচারের পর তাদের এই সাজা দেওয়া হয়েছে।

 

সংস্থাটি বলেছে, এটি অত্যন্ত উদ্বেগজনক যে দক্ষিণ-পশ্চিম সৌদি আরবের খামিস মুশাইত আটক কেন্দ্রের একটি একক ওয়ার্ডে অন্তত ৬৩ জন ইথিওপিয়ান নাগরিক বন্দি আছেন। কেবল মাদক সংক্রান্ত অপরাধের দায়ে যেকোনও মুহূর্তে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়ার চরম ঝুঁকিতে রয়েছেন তারা।

চলতি বছর দেশটিতে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা ১০০ জনের মধ্যে ৪৮ জন সৌদি, ১২ জন ইথিওপিয়ান, সাতজন পাকিস্তানি, ছয়জন সুদানি, চারজন ইয়েমেনি এবং চারজন সিরিয়ার নাগরিক।

 

২০২৫ সালে দেশটি ৩৫৬ জনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করেছিল; যার মধ্যে ২৪৩ জনই মাদক সংক্রান্ত অপরাধের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। ১৯৯০ সালে অ্যামনেস্টি রেকর্ড রাখা শুরু করার পর থেকে এটিই সর্বোচ্চ সংখ্যা।

প্রায় তিন বছর স্থগিত রাখার পর ২০২২ সালের শেষের দিকে মাদক সংক্রান্ত অপরাধের জন্য মৃত্যুদণ্ডের বিধান পুনর্বহাল করে সৌদি আরব।

অ্যামনেস্টির তথ্য অনুযায়ী, গত তিন বছরে বিশ্বজুড়ে সবচেয়ে বেশি মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা দেশের তালিকায় চীন ও ইরানের পরই সৌদি আরবের অবস্থান তৃতীয়।

 

মৃত্যুদণ্ডের এমন ব্যবহারের কারণে উপসাগরীয় এই দেশটি ক্রমাগত সমালোচনার মুখোমুখি হচ্ছে। মানবাধিকার গোষ্ঠীগুলো একে অতিরিক্ত বা মাত্রাতিরিক্ত বলে নিন্দা করেছে এবং বিশ্বের দরবারে একটি আধুনিক ভাবমূর্তি তুলে ধরার জন্য দেশটির যে প্রচেষ্টা, তার সঙ্গে এটি সম্পূর্ণ সাংঘর্ষিক বলে উল্লেখ করেছে।

তবে সৌদি কর্তৃপক্ষ বলেছে, জনশৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য মৃত্যুদণ্ড প্রয়োজনীয় এবং আপিলের সব পথ নিশ্চিতভাবে শেষ হওয়ার পরই কেবল এই সাজা কার্যকর করা হয়।

 

সূত্র: এএফপি।

এই বিভাগের আরও খবর