আন্তর্জাতিক

ট্রাম্পকে ৪০ কোটি ডলারের বিলাসবহুল বিমান উপহার দিলো কাতার, যেসব সুবিধা আছে এতে

অনলাইন ডেস্ক, বাংলাদেশ - Saturday, June 20, 2026 13

অনলাইন ডেস্ক : মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জন্য কাতারের উপহার দেয়া প্রায় ৪০ কোটি ডলার মূল্যের একটি বিলাসবহুল বোয়িং ৭৪৭-৮আই বিমান এখন যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। অত্যাধুনিক প্রযুক্তি, বিলাসবহুল অভ্যন্তর ও বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থার কারণে বিমানটিকে অনেকে ‘উড়ন্ত প্রাসাদ’ বলেও অভিহিত করছেন। উড়োজাহাজ প্রথমবারের মতো জনসমক্ষে উন্মোচন করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।  

ওয়াশিংটনের বাইরে মেরিল্যান্ডের জয়েন্ট বেস অ্যান্ড্রুজে বিশেষ অনুষ্ঠানে শুক্রবার (১৯ জুন) বিলাসবহুল বোয়িং ৭৪৭-৮ উড়োজাহাজটি প্রদর্শন করা হয়। অনুষ্ঠানে বিমানের সিঁড়ি বেয়ে নেমে বিমানবাহিনীর কর্মকর্তাদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন ট্রাম্প। এরপর সামরিক সদস্যদের উদ্দেশে বক্তব্য দেন তিনি।

 

ট্রাম্প বলেন, এ ধরনের আর কোনো বিমান হবে না। এটি একেবারেই অনন্য। এটিকে বিশ্বের সবচেয়ে বিলাসবহুল বিমান হিসেবে বিবেচনা করা হয়। যখন এটি নির্মাণ করা হয়েছিল, তখন এমন এক মান বজায় রাখা হয়েছিল, যা হয়তো আর কখনো দেখা যাবে না। তিনি আরও জানান, নতুন উড়োজাহাজটি এত বড় যে এটি রাখার জন্য বিশেষভাবে একটি হ্যাঙ্গার নির্মাণ করতে হয়েছে। আগামী ৪ জুলাই যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতার ২৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে ওয়াশিংটনে যে বিশাল বিমান প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হবে, সেখানে এই নতুন এয়ার ফোর্স ওয়ান নেতৃত্ব দেবে বলেও জানান তিনি।

 

অন্যদিকে, মার্কিন বিমানবাহিনী জানিয়েছে, উড়োজাহাজটি শিগগিরই ‘কমিশনিং ফ্লাইট’ বা চূড়ান্ত পরীক্ষামূলক উড্ডয়ন শুরু করবে। প্রেসিডেন্টকে বহনের দায়িত্ব নেওয়ার আগে এটিই হবে এর শেষ বড় পরীক্ষা। বিমানবাহিনীর ভাষ্য অনুযায়ী, নতুন লাল, সাদা ও নীল রঙের নকশা এবং প্রয়োজনীয় সরকারি পরিবর্তন সম্পন্ন করার পর উড়োজাহাজটি এখন সেবার জন্য প্রস্তুত করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের জন্য নিরাপদ ও নিরবচ্ছিন্ন আকাশপথে যোগাযোগ নিশ্চিত করা হবে।

 

যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহিনী জানিয়েছে, ‘ভিসি-২৫বি ব্রিজ’ নামে পরিচিত এই বিমানটি প্রেসিডেন্টের বহরের ওপর চাপ কমাতে ব্যবহার করা হবে। বোয়িংয়ের নতুন প্রজন্মের প্রেসিডেন্ট পরিবহন বিমান পুরোপুরি সেবায় না আসা পর্যন্ত এটি অন্তর্বর্তী সমাধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করবে। বিমানটির ইতিহাসও বেশ আকর্ষণীয়। এটি মূলত কাতারের রাজপরিবারের ব্যবহারের জন্য তৈরি করা হয়েছিল। পরে কাতারের আমির এটি যুক্তরাষ্ট্রকে উপহার হিসেবে দেন। বোয়িংয়ের নতুন প্রেসিডেন্ট পরিবহন বিমান সরবরাহে দীর্ঘ বিলম্বের কারণে ট্রাম্প প্রশাসন এই বিমানটিকে প্রেসিডেন্টের ব্যবহারের উপযোগী করে তোলার উদ্যোগ নেয়।

 

এই উড়োজাহাজের অন্যতম আকর্ষণ হলো এর বিলাসবহুল অভ্যন্তরীণ ব্যবস্থা। কাতারের রাজপরিবারের জন্য নির্মিত হওয়ায় এতে উচ্চমানের ভিআইপি কেবিন, অত্যাধুনিক যাত্রীসুবিধা এবং বিশেষভাবে নকশা করা অভ্যন্তর রয়েছে। সময় ও অর্থ সাশ্রয়ের জন্য এসবের অনেকাংশই অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে।

 

তবে কেবল বিলাসিতাই নয়, নিরাপত্তার ক্ষেত্রেও বিমানটিকে নতুনভাবে সাজানো হয়েছে। এতে বহুমাত্রিক ও সুরক্ষিত যোগাযোগব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে, যার মাধ্যমে প্রেসিডেন্ট আকাশপথে থেকেও প্রয়োজনীয় রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন। বিমানটিতে স্যাটেলাইটভিত্তিক ইন্টারনেট সুবিধাও যুক্ত করা হয়েছে।

 

এ ছাড়া সম্ভাব্য প্রযুক্তিগত ঝুঁকি শনাক্ত ও মোকাবিলার জন্য বিশেষজ্ঞদের একটি দল বিমানটিতে নানা ধরনের প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থা যুক্ত করেছে। ফলে উচ্চঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতিতেও এটি নিরাপদে উড্ডয়ন করতে পারবে বলে দাবি করা হচ্ছে। তবে বিমানটি এখনো প্রেসিডেন্টকে বহনের জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত নয়। বর্তমানে মেরিল্যান্ডের জয়েন্ট বেস অ্যান্ড্রুজে এর বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলছে। চূড়ান্ত নিরাপত্তা যাচাই শেষ হওয়ার পরই এটি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রেসিডেন্টের ব্যবহারের জন্য প্রস্তুত হবে।

 

সূত্র: সিবিএস নিউজ ও বিবিসি

এই বিভাগের আরও খবর