ইসরায়েলের তেল আবিবে তীব্র সরকারবিরোধী বিক্ষোভ শুরু
অনলাইন ডেস্ক, বাংলাদেশ - Sunday, June 14, 2026 43
অনলাইন ডেস্ক : ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে তেল আবিবে বিক্ষোভ করেছেন শত শত মানুষ। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলা প্রতিরোধে নিরাপত্তা ব্যর্থতার কারণ খতিয়ে দেখতে একটি স্বাধীন রাষ্ট্রীয় তদন্ত কমিশন গঠন না করার প্রতিবাদে শনিবার শহরের হাবিমা স্কয়ারে এই সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। বিক্ষোভে জিম্মি ও নিহতদের স্বজনেরা অংশ নিয়ে সরকারের সমালোচনা করেন এবং ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবি জানান।
সমাবেশে বক্তব্য দেন আয়ালা মেটজগার, যার ৮০ বছর বয়সী শ্বশুর ইয়োরাম মেটজগারকে ৭ অক্টোবর হামাসের যোদ্ধারা গাজায় নিয়ে যায়। পরে বন্দিদশায় তাঁর মৃত্যু হয়। আয়ালা বলেন, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে পরিবারের সদস্যদের প্রশ্ন আরও বাড়ছে এবং এসব প্রশ্নের জবাব পেতে একটি স্বাধীন তদন্ত কমিশন প্রয়োজন।
তিনি বলেন, ইসরায়েলে রাষ্ট্রীয় তদন্ত কমিশনকে সর্বোচ্চ অনুসন্ধানী কর্তৃপক্ষ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। দেশটির প্রধান বিচারপতির মনোনীত স্বাধীন বিশেষজ্ঞদের নিয়ে এ ধরনের কমিশন গঠিত হয়ে থাকে। তাঁর অভিযোগ, নেতানিয়াহুর প্রস্তাবিত বিকল্প কাঠামোয় রাজনৈতিক প্রভাবের সুযোগ রয়েছে এবং এতে নিরপেক্ষতা প্রশ্নবিদ্ধ হতে পারে।
বিক্ষোভে বক্তব্য দেন এরান লিটম্যানও। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর নোভা সংগীত উৎসবে হামলায় নিহত ২৬ বছর বয়সী ওরিয়া লিটম্যানের বাবা তিনি। মেয়েকে হারানোর বেদনা তুলে ধরে তিনি সরকারের প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করেন এবং ধর্মীয় ও রাজনৈতিক বিভাজন নিয়ে উদ্বেগ জানান। তাঁর কিছু বক্তব্যে আবেগঘন ও কঠোর ভাষা ব্যবহৃত হলেও সেগুলো তাঁর ব্যক্তিগত প্রতিক্রিয়া হিসেবে উপস্থাপিত হয়েছে।
লিটম্যান বলেন, তাঁর ক্ষোভ সরকারের প্রতি, তবে নিহতদের মৃতদেহ উদ্ধারে কাজ করা স্বেচ্ছাসেবকদের প্রতি তিনি কৃতজ্ঞ। তিনি জানান, জাকা উদ্ধার সংস্থার হারেদি স্বেচ্ছাসেবকেরা তাঁর মেয়ের মরদেহ উদ্ধারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন এবং পরে তাঁদের সঙ্গে তাঁর বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে ওঠে।
সমাবেশ চলাকালে এক পর্যায়ে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, সরকারসমর্থক কর্মী হাদার মাখতার বিক্ষোভের ভিডিও ধারণের চেষ্টা করলে তাঁর সঙ্গে এক সরকারবিরোধী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকর্মীর বাগ্বিতণ্ডা শুরু হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ হস্তক্ষেপ করে এবং দুজনকেই ঘটনাস্থল থেকে সরিয়ে নেয়। পরে পুলিশ উভয় পক্ষের বক্তব্য শোনার পর তাঁদের ছেড়ে দেয়। এ ঘটনায় কাউকে আটক বা অভিযুক্ত করার খবর পাওয়া যায়নি।সংবাদ প্রতিবেদন
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলায় প্রায় ১ হাজার ২০০ মানুষ নিহত হন এবং ২৫০ জনের বেশি মানুষকে জিম্মি করে গাজায় নিয়ে যাওয়া হয়। ওই ঘটনার পর ইসরায়েল গাজায় সামরিক অভিযান শুরু করে। হামলার আগে গোয়েন্দা ও নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর ব্যর্থতা নিয়ে ইসরায়েলের ভেতরে দীর্ঘদিন ধরেই তদন্তের দাবি উঠছে। তবে এ বিষয়ে একটি স্বাধীন রাষ্ট্রীয় কমিশন গঠনের প্রশ্নে সরকার ও বিরোধীদের মধ্যে মতপার্থক্য অব্যাহত রয়েছে।
তথ্যসূত্র : দ্য টাইমস অব ইসরায়েল
