ইরানের সঙ্গে নতুন চুক্তি নিয়ে ধোঁয়াশায় ওবামা
অনলাইন ডেস্ক, বাংলাদেশ - Sunday, June 14, 2026 13
অনলাইন ডেস্ক : চলমান উত্তেজনার মধ্যেই ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের একটি চুক্তিতে পৌঁছানোর নিয়ে কূটনৈতিকভাবে জোড়ালে আলোচনা চলছে। এমন পরিস্থিতিতে তেহরানের সঙ্গে নতুন চুক্তির গ্রহণযোগ্যতা এবং সম্ভাবনা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা।
তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যে কোনো চুক্তি হলে তা ২০১৫ সালে তার মধ্যস্থতায় হওয়া জয়েন্ট কম্প্রিহেনসিভ প্ল্যান অফ অ্যাকশন বা জেসিপিওএ-এর চেয়ে ‘উল্লেখযোগ্যভাবে ভিন্ন বা উন্নত হবে, এমন সম্ভাবনা নেই।
ওবামা এবিসি নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, যে চুক্তিটি হবে, তা যে আমাদের প্রথম চুক্তির চেয়ে উল্লেখযোগ্যভাবে ভিন্ন বা উন্নত হবে, এমন সম্ভাবনা সন্দেহজনক। এই চুক্তিটি নিয়ে আমরা দীর্ঘ সময় ধরে কাজ করেছিলাম। যুক্তরাষ্ট্র তা থেকে বেরিয়ে আসার আগে পর্যন্ত এই চুক্তিটি কার্যকর ছিল।
জেসিপিওএ-এর সাধারণ রূপরেখা ছিল, ইরান তার পারমাণবিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা সীমিত করে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের ওপর সর্বোচ্চ সীমা নির্ধারণ করবে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার(আইএইএ) পরিদর্শকদের তার স্থাপনাগুলো পরিদর্শনের অনুমতি দেবে। এর বিনিময়ে ইরানের তেল সম্পদের ওপর থেকে কিছু নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হবে এবং জব্দকৃত শত শত কোটি ডলারের সম্পদ অবমুক্ত করা হবে। এই চুক্তিটি আন্তর্জাতিক সমর্থন পেলেও, স্বাক্ষরের সময় যুক্তরাষ্ট্রে এটি বিতর্কিত ছিল।
ওবামা আরও বলেন, তিনি আশা করেন চুক্তি হলে বোমাবর্ষণ বন্ধ হবে এবং যুদ্ধের ফলে সাধারণ মানুষ আর দুর্ভোগ পোহাবে না। এরপর তিনি সমস্যার অধিকাংশ সমাধানের জন্য সামরিক পদক্ষেপের চেয়ে কূটনীতিকে একটি পছন্দের পথ হিসেবে চিহ্নিত করেন। তিনি আক্ষেপ প্রকাশ করে বলেন, আমরা কেবল জোরজবরদস্তি বা বোমাবর্ষণের মাধ্যমে সমাধানে পৌঁছাতে পারি।
সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট আহ্বান জানান, কূটনীতি অন্বেষণে সময় নিতে হবে এবং এমন চুক্তিতে পৌঁছানোর সম্ভাবনাগুলো খতিয়ে দেখতে হবে, যা সমস্যার শতভাগ সমাধান না করলেও, যুদ্ধে যাওয়ার প্রয়োজনীয়তা এড়িয়ে সমস্যার ৮০ বা ৯০ শতাংশ সমাধান করবে।
ওবামা বলেন, আপনারা হয়তো ভাববেন যে আমরা এতদিনে এই শিক্ষাটা পেয়ে গেছি, কিন্তু মনে হচ্ছে প্রায়শই আমাদের এই শিক্ষাটা আবার নতুন করে শিখতে হয়।
এদিকে ইরানের ওপর নতুন নিষেধাজ্ঞা স্থগিত রাখতে সম্মত হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। একজন ইরানি কর্মকর্তা রয়টার্সকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি খসড়া সমঝোতা স্মারকের বিস্তারিত জানিয়েছেন। এর অধীনে তেহরান পারমাণবিক অস্ত্র উৎপাদন বা অর্জন না করতে এবং দেশের অভ্যন্তরে থাকা উচ্চ-সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুদ কমাতে সম্মত হবে। আগামী ৬০ দিনের মধ্যে এর বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া নিয়ে আলোচনা করা হবে বলেও জানিয়েছেন।
ওই কর্মকর্তার মতে, এর বিনিময়ে ওয়াশিংটন সরাসরি অর্থ হস্তান্তর এবং আর্থিক ঋণ সুবিধার মাধ্যমে ইরানের জব্দকৃত ২৫ বিলিয়ন ডলারের সম্পদ মুক্ত করতে সম্মত হয়েছে। যদিও এ বিষয়ে ইরান কিংবা যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি।
সূত্র: গাল্ফ নিউজ, সিএনএন।
