ই-পেপার

মরিয়মের আত্মহত্যার মামলায় আপস!

এমপি গাজী নজরুলের সঙ্গে মরিয়মের বাবার আপস, আপসনামায় যা বলা হয়েছে

আপডেট: ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৮:৩৩
২১ ভিউ
মরিয়মের আত্মহত্যার মামলায় আপস!

ছবি সংগৃহীত: ফাইল ছবি

সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম ও তাঁর প্রথম স্ত্রী মাকসুদা ইসলামের বিরুদ্ধে দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম খাতুনকে আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে করা মামলায় আপসনামা দাখিল করেছেন মরিয়মের বাবা এস এম মাসুম বিল্লাহ। বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. সেফাতুল্লাহর আদালতে তিনি এ আপসনামা দাখিল করেন।

আদালতে মরিয়মের বাবা জানান, গাজী নজরুল ইসলাম ও তাঁর প্রথম স্ত্রী মাকসুদা ইসলামের জামিনে তাঁর কোনো আপত্তি নেই। শুনানি শেষে আদালত মাকসুদা ইসলামের জামিন মঞ্জুর করেন। তবে গাজী নজরুল ইসলামের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করা হয়।

আপসনামার নথিতে বলা হয়েছে, মরিয়মের মৃত্যুর পর তাঁর বাবা তাৎক্ষণিকভাবে সন্দেহের ভিত্তিতে গাজী নজরুল ইসলাম, তাঁর প্রথম স্ত্রী মাকসুদা ইসলাম ও আরেকজনকে আসামি করে শেরেবাংলা নগর থানায় আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলা করেন। পরে বিভিন্ন তথ্য পর্যালোচনা ও দুই পরিবারের মধ্যে আলোচনার পর বাদীপক্ষের পক্ষ থেকে জানানো হয়, নজরুল ইসলাম বা মাকসুদা ইসলামের কোনো প্ররোচনা বা কার্যকলাপের কারণে মরিয়ম আত্মহত্যা করেননি।

আপসনামায় আরও বলা হয়, দুই পরিবারের মধ্যে আগে থেকেই আত্মীয়তার সম্পর্ক রয়েছে। তাই পারস্পরিক সৌহার্দ্য বজায় রাখার লক্ষ্যে উভয় পক্ষ নোটারি পাবলিকের মাধ্যমে সমঝোতা করে।

আপসনামার শর্ত অনুযায়ী, গাজী নজরুল ইসলাম ও মাকসুদা ইসলাম জামিনে মুক্তি পেলে বাদীপক্ষের কোনো আপত্তি থাকবে না। পাশাপাশি উভয় পক্ষ ভবিষ্যতে সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখবে এবং বিচারাধীন বিষয়ে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করবে।

এর আগে ২০ সেপ্টেম্বর রাজধানীর শেরেবাংলা নগর থানাধীন ন্যাম ভবনের একটি ফ্ল্যাট থেকে গাজী নজরুল ইসলামের দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম খাতুনের (১৯) ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ওই ঘটনায় মরিয়মের বাবা বাদী হয়ে আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলা করেন।

মামলায় গাজী নজরুল ইসলাম, তাঁর প্রথম স্ত্রী মাকসুদা ইসলাম এবং মরিয়মের মামা ও নজরুলের ব্যক্তিগত গাড়িচালক ওবায়দুর রহমানকে আসামি করা হয়। মামলাটি পরে তদন্তের জন্য ডিবির কাছে হস্তান্তর করা হয়।

মামলায় গ্রেপ্তারের পর গাজী নজরুল ইসলামকে দুই দফায় মোট আট দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়। রিমান্ড শেষে ২৮ সেপ্টেম্বর তাঁর জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন আদালত।

তবে আপসনামা দাখিলের বিষয়টি আদালত কীভাবে বিবেচনা করবেন, তা নিয়ে রাষ্ট্রপক্ষের বক্তব্যে ভিন্নতা রয়েছে। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ওমর ফারুক ফারুকী জানিয়েছেন, আদালত আপসনামাটি আমলে নেননি।