ইরানে ‘মাদার অব অল বোম্বস’ হিসেবে পরিচিত জিবিইউ-৪৩/বি বোমা
ছবি সংগৃহীত: ফাইল ছবি
অনলাইন ডেস্ক : ইরানে ‘মাদার অব অল বোম্বস’ হিসেবে পরিচিত জিবিইউ-৪৩/বি বোমা ব্যবহারের পরিকল্পনা করছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে এই বোমা দিয়ে হামলা চালানো হতে পারে বলে জানিয়েছে কয়েকটি মার্কিন সংবাদমাধ্যম। এমন খবরের জবাবে ইরান বলেছে, শিগগিরই ‘ফাদার অব অল বোম্বস’ নামের নতুন সমরাস্ত্র উন্মোচন করবে তারা। খবর আনাদোলুর।
বুধবার (২১ অক্টোবর) ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, ফাদার অব অল বোম্বস নামের নতুন অস্ত্র উন্মোচনের প্রস্তুতি চলছে। ইরানের ‘ইয়ং জার্নালিস্টস ক্লাব’ সংবাদ সংস্থাকে দেয়া এক বিবৃতিতে হোসেইন মোহেবি নামের এই মুখপাত্র বলেন, ‘আমরা ফাদার অব অল বোম্বস উন্মোচনের প্রস্তুতি পর্বে রয়েছি। এটি শত্রুর জন্য সম্পূর্ণ নতুন এক বিস্ময় হতে যাচ্ছে।’
তবে এই অস্ত্রের বিষয়ে বিস্তারিত কোনও তথ্য জানাননি তিনি।
মার্কিন বাহিনীর বহুল আলোচিত ‘মাদার অব অল বোম্বস’ বা জিবিইউ-৪৩/বি ম্যাসিভ অর্ডন্যান্স এয়ার ব্লাস্টের ওজন প্রায় ৯ হাজার ৮০০ কেজি। এটি পারমাণবিক বোমার বাইরে যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্রাগারে থাকা অন্যতম বৃহত্তম সমরাস্ত্র।
২০১৭ সালের এপ্রিলে মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসেবে ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে আফগানিস্তানে এটি প্রথমবারের মতো ব্যবহার করা হয়।
এদিকে নির্দিষ্ট কোনও সংখ্যা উল্লেখ না করে আইআরজিসির মুখপাত্র মোহেবি আরও জানান, ২০২৫ সালের জুনে ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যকার ১২ দিনের যুদ্ধের পর দেশটির ক্ষেপণাস্ত্রের মজুদ প্রায় দেড় গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে।
তিনি যোগ করেন, ‘ক্ষেপণাস্ত্রগুলোর গুণগত মান উল্লেখযোগ্যভাবে উন্নত করা হয়েছে। পাশাপাশি এগুলোর পাল্লা, ধ্বংসক্ষমতা এবং লক্ষ্যবস্তুতে নিখুঁত আঘাত হানার সক্ষমতা বৃদ্ধি করা হয়েছে।’
আইআরজিসি মুখপাত্র জানান, ইরান তার প্রতিরক্ষা নীতি পরিবর্তন করে স্থায়ী ও পূর্ণাঙ্গ প্রতিরোধ ব্যবস্থার দিকে অগ্রসর হচ্ছে। তার ভাষায়, ‘পূর্বে ইরানের সামরিক নীতি ছিল কেবল আত্মরক্ষামূলক। আমাদের অবস্থান ছিল—কোনো দেশ আক্রমণ করলে আমরা তার জবাব দেব। কিন্তু বর্তমানে আমাদের অবস্থান হলো—কোনও দেশ আক্রমণ করলে আমরা কেবল জবাবই দেব না, বরং পাল্টা আক্রমণও চালাব।’