কানাডা থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে স্বাধীন রাষ্ট্র গঠনের প্রশ্নে গণভোট আয়োজনের
ছবি সংগৃহীত: ফাইল ছবি
অনলাইন ডেস্ক : কানাডা থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে স্বাধীন রাষ্ট্র গঠনের প্রশ্নে গণভোট আয়োজনের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন আলবার্টা প্রদেশের অধিকাংশ বাসিন্দা। প্রাথমিক ফলাফলে এমন ইঙ্গিত পাওয়ার পর প্রদেশটির বাসিন্দাদের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি। ব্রিটিশ বার্তাসংস্থা বিবিসির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা যায়।
সোমবার এক বিবৃতিতে কার্নি বলেন, আলবার্টার বাসিন্দারা ঐক্যবদ্ধ থাকার পক্ষে স্পষ্ট সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তারা একসঙ্গে দেশ গড়া এবং পরস্পরের যত্ন নেওয়ার পথ বেছে নিয়েছেন। সর্বোপরি, তারা কানাডাকেই বেছে নিয়েছেন।
কার্নি বলেন, ভোট গণনা অব্যাহত থাকলেও বিচ্ছিন্নতার প্রশ্নে প্রাথমিক ফলাফল থেকে বোঝা যাচ্ছে, আলবার্টার বাসিন্দা ও কানাডার অন্য নাগরিকেরা নতুন উদ্যম ও উচ্চাকাঙ্ক্ষা নিয়ে একসঙ্গে এগিয়ে যাবেন।
তিনি আরও বলেন, কানাডা বিশ্বজুড়ে নতুন বাণিজ্যিক অংশীদার তৈরি করছে, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ দ্রুত এগিয়ে নিচ্ছে এবং বৈশ্বিক জ্বালানি শক্তি হিসেবে নিজেদের পূর্ণ সম্ভাবনা কাজে লাগাচ্ছে। এ ক্ষেত্রে আলবার্টা প্রদেশ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
কার্নির ভাষায়, ‘কানাডা তার বিভিন্ন অংশের যোগফলের চেয়েও অনেক বড়।’ নাগরিকদের সম্মিলিত অর্জন কাজে লাগিয়ে সবার জন্য আরও উন্নত দেশ গড়ার সুযোগ এখন কানাডার সামনে।
প্রাথমিক ফলাফলে দেখা যাচ্ছে, অধিকাংশ আলবার্টাবাসী কানাডার অংশ হিসেবেই থাকতে চান। ফলে প্রদেশটির বিচ্ছিন্নতা নিয়ে আলোচনা শুরু করা এবং ভবিষ্যতে স্বাধীনতার প্রশ্নে বাধ্যতামূলক গণভোট আয়োজনের উদ্যোগও প্রত্যাখ্যাত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এর আগে আলবার্টার প্রিমিয়ার ড্যানিয়েল স্মিথ জানিয়েছিলেন, বিচ্ছিন্নতার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যাত হলে তার ক্ষমতায় থাকাকালে স্বাধীনতা নিয়ে কোনো গণভোট আয়োজন করা হবে না।
তবে এই ফলাফলের মধ্য দিয়ে আলবার্টার স্বায়ত্তশাসন ও স্বাধীনতার প্রশ্নে রাজনৈতিক বিতর্ক শেষ হচ্ছে না। বিচ্ছিন্নতাবাদী আন্দোলনের নেতারা স্মিথকে তার দল ইউনাইটেড কনজারভেটিভ পার্টির নেতৃত্ব থেকে সরিয়ে নিজেদের মতাদর্শের প্রতি সহানুভূতিশীল কাউকে দায়িত্বে বসানোর পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন।
তবে দলীয় নেতৃত্ব পরিবর্তনের জন্য তাদের পর্যাপ্ত সমর্থন রয়েছে কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়।
বিশ্লেষকদের মতে, আলবার্টার স্বাধীনতা ও প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন নিয়ে বিতর্ক আগামী কয়েক বছর ধরে প্রদেশটির রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হয়ে থাকতে পারে।