ইসরায়েলের রাজনীতিতে এক অভূতপূর্ব ও সংকটময় মুহূর্ত তৈরি হয়েছে। সদ্য
ছবি সংগৃহীত: ফাইল ছবি
অনলাইন ডেস্ক : ইসরায়েলের রাজনীতিতে এক অভূতপূর্ব ও সংকটময় মুহূর্ত তৈরি হয়েছে। সদ্য সমাপ্ত জাতীয় নির্বাচনে বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর বিরোধীরা সংসদের সংখ্যাগরিষ্ঠ আসনে জয় পেলেও ক্ষমতার ভাগ্য ঝুলে আছে আরব দলগুলোর ওপর। নেতানিয়াহুকে ক্ষমতাচ্যুত করার পরিষ্কার সুযোগ থাকা সত্ত্বেও জায়নবাদী (Zionist) বিরোধী নেতারা আরব আইনপ্রণেতাদের রাজনৈতিক অংশীদার হিসেবে গ্রহণ করতে দ্বিধাগ্রস্ত থাকায় পুরো রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।
কেন্দ্রীভূত নির্বাচন কমিশনের প্রাথমিক ও আংশিক ফলাফল অনুযায়ী, নেতানিয়াহুর জোট ৫৩টি আসন এবং পরিবর্তনের পক্ষে থাকা বিরোধী শিবির ৪৮টি আসন পেয়েছে। তবে নির্বাচনে আরব ভোটারদের রেকর্ড পরিমাণ উপস্থিতির কারণে আরব-সংখ্যাগরিষ্ঠ দলগুলো ইতিহাসে প্রথমবারের মতো ১৯টি আসন (যৌথ তালিকা বা জয়েন্ট লিস্ট ১২টি এবং রাম বা রা’আম ৭টি) দখল করে চমক সৃষ্টি করেছে।
এর ফলে সংসদের ১২০টি আসনের মধ্যে জায়নবাদী বিরোধী জোট এবং আরব দলগুলো মিলে মোট ৬৬টি আসন নিশ্চিত করতে পারে, যা নেতানিয়াহু সরকারের বিরুদ্ধে স্পষ্ট জনরায়। কিন্তু বিরোধী দলগুলোর শীর্ষ নেতা গাদি আইজেনকট, নাফতালি বেনেট ও আভিগডোর লিবারম্যানের পূর্বপ্রতিশ্রুতি রয়েছে যে তারা সরকার গঠনে আরব দলগুলোর ওপর নির্ভর করবেন না।
বিশ্লেষকদের মতে, বিরোধী নেতারা যদি আরব দলগুলোর সাথে জোট গড়তে বা তাদের সমর্থন নিতে অস্বীকৃতি জানান, তবে তাদের সামনে মাত্র দুটি পথ খোলা থাকবে—পুনরায় নির্বাচন অথবা নেতানিয়াহুর সাথেই একটি ঐক্যের সরকার গঠন। এই দুই বিকল্পের যেকোনো একটি বাস্তবায়িত হলে তা ঘুরেফিরে নেতানিয়াহুকেই ক্ষমতায় বহাল রাখবে, যা পরিবর্তনের আশায় ভোট দেওয়া সাধারণ ভোটারদের চরম হতাশায় ফেলতে পারে।
অন্যদিকে, আরব দলগুলোর পক্ষ থেকে ইতিবাচক ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। রা’আম দলের প্রধান মানস আব্বাস পরিবর্তন আনতে ইচ্ছুক যেকোনো জোটের সাথে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। অন্যদিকে জয়েন্ট লিস্টের প্রধান ইউসুফ জাবারিন জানিয়েছেন, নেতানিয়াহুর রক্তক্ষয়ী সরকারের অবসান ঘটাতে তারা বাইরে থেকে হলেও বিকল্প সরকারকে সমর্থন দিতে প্রস্তুত।
এখন দেখার বিষয়, জায়নবাদী বিরোধী নেতারা তাদের অনড় অবস্থান থেকে সরে এসে আরব দলগুলোর সাথে হাত মিলিয়ে দীর্ঘদিনের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক অধ্যায়ের ইতি টানতে পারেন কি না। সূত্র: দ্য টাইমস অব ইসরায়েল।