ই-পেপার

গ্যাস সংকটে চট্টগ্রামে কারখানায় বন্ধ হয়ে যাচ্ছে উৎপাদন

গ্যাস সংকটে চট্টগ্রামের শিল্পকারখানা ও বিদ্যুৎ উৎপাদনে

আপডেট: ১৩ আগস্ট ২০২৬, ২১:৪৩
৪ ভিউ
গ্যাস সংকটে চট্টগ্রামে কারখানায় বন্ধ হয়ে যাচ্ছে উৎপাদন

ছবি সংগৃহীত: ফাইল ছবি

অনলাইন ডেস্ক : গ্যাস সংকটে চট্টগ্রামের শিল্পকারখানা ও বিদ্যুৎ উৎপাদনে বড় ধরনের ধস নেমেছে। চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কমে যাওয়ায় রড, পোশাক, জাহাজভাঙা, স্টিল স্ট্রাকচারসহ বিভিন্ন শিল্পকারখানায় উৎপাদন কমে যাচ্ছে। কোনো কোনো কারখানায় উৎপাদন পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে।

একই সঙ্গে গ্যাসের চাপ কম থাকায় নগরের বিভিন্ন সিএনজি স্টেশনে যানবাহনের দীর্ঘ সারি তৈরি হয়েছে। বাসাবাড়িতেও নেই গ্যাস। এতে ভোগান্তিতে পড়েছেন চালক, যাত্রী ও নগরীর বাসিন্দারা।

কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের (কেজিডিসিএল) তথ্য অনুযায়ী, চট্টগ্রাম অঞ্চলে দৈনিক গ্যাসের প্রকৃত চাহিদা প্রায় ৩৫০ মিলিয়ন ঘনফুট। এর বিপরীতে জাতীয় গ্রিড থেকে বরাদ্দ রয়েছে ২৪৬ মিলিয়ন ঘনফুট। তবে বর্তমানে গড়ে ১৯০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে। অর্থাৎ চাহিদার তুলনায় প্রায় ৪৫ দশমিক ৭১ শতাংশ গ্যাসের ঘাটতি রয়েছে।

কেজিডিসিএল সূত্র জানায়, চট্টগ্রামে দৈনিক ৩১২ থেকে ৩৫০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের চাহিদা রয়েছে। এর মধ্যে সার কারখানায় ৯০ থেকে ১০০, বিদ্যুৎকেন্দ্রে প্রায় ৪০ এবং সিএনজি স্টেশনে প্রায় ১৯ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস প্রয়োজন হয়। বাকি গ্যাস আবাসিক, বাণিজ্যিক ও শিল্প গ্রাহকদের মধ্যে সরবরাহ করা হয়।

গ্যাস সংকটের বড় প্রভাব পড়েছে শিল্প উৎপাদনে। সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য, রড উৎপাদন, পোশাক কারখানা, জাহাজভাঙা ইয়ার্ড, নিজস্ব বিদ্যুৎকেন্দ্র ও স্টিল স্ট্রাকচার কারখানাগুলোতে উৎপাদন প্রায় ৪০ শতাংশে নেমে এসেছে। গ্যাসের চাপ কম থাকায় অনেক কারখানার নিজস্ব বিদ্যুৎকেন্দ্রও চালু রাখা যাচ্ছে না।

সীতাকুণ্ডে কেডিএস গ্রুপের কারখানায় গতকাল রাত থেকে উৎপাদন বন্ধ রয়েছে। কারখানাটির এক কর্মকর্তা ঢাকা পোস্টকে বলেন, গ্যাস সংকটের কারণে গতকাল রাত থেকে ফিড ওয়াটার পাম্প বন্ধ রয়েছে। ফলে কোনো উৎপাদন হচ্ছে না।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, পিএইচপি গ্রুপের ও টিকে গ্রুপের একাধিক কারখানায় গ্যাস সংকটে উৎপাদন প্রায় বন্ধের পথে।

বাংলাদেশ স্টিল রি-রোলিং মিলসের (বিএসআরএম) ডেপুটি ব্যবস্থাপনা পরিচালক তপন সেনগুপ্ত বলেন, বুধবার থেকে তাদের কারখানার উৎপাদন পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে। গত এক মাস ধরে ব্যবসায় মন্দাভাব চলছে। এর মধ্যে প্রায় ২০ দিন ধরে কাঙ্ক্ষিত হারে গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে না। আগে থেকেই চলা সংকটে দৈনিক উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার প্রায় ৮০ শতাংশ পূরণ হচ্ছিল। গ্যাস ছাড়া কারখানা চালু রাখা প্রায় অসম্ভব বলেও জানান তিনি।

এদিকে গ্যাস সংকটে বিদ্যুৎ উৎপাদনও ব্যাহত হচ্ছে। ২২৫ মেগাওয়াটের বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতে দৈনিক প্রায় ৩৭ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস প্রয়োজন হলেও পাওয়া যাচ্ছে প্রায় ২৮ মিলিয়ন ঘনফুট। এ সংকটের কারণে রাউজান, আনোয়ারাসহ বিভিন্ন এলাকার একাধিক ২১০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন ইউনিট বন্ধ রয়েছে।

গ্যাস সংকটের প্রভাব পড়েছে পরিবহন খাতেও। বুধবার (১২ আগস্ট) চট্টগ্রাম নগরীর বিভিন্ন সিএনজি স্টেশনে যানবাহনের দীর্ঘ সারি দেখা গেছে। গ্যাস নিতে চালকদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয়েছে। এতে সড়কে যানবাহনের সংখ্যা কমে গিয়ে নগরবাসীর ভোগান্তি বেড়েছে।

সিএনজি স্টেশন মালিকরা জানান, গ্যাসের চাপ কম থাকলে স্টেশন থেকে সরবরাহ বন্ধ রাখতে হয়। চাপ কিছুটা বাড়লে আবার সরবরাহ চালু করা হয়। ফলে সরবরাহ পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করেই স্টেশনগুলোতে যানবাহনের চাপ বাড়ছে ও কমছে।

চট্টগ্রাম চেম্বারের সাবেক পরিচালক মাহফুজুল হক শাহ বলেন, গত কয়েকদিনের গ্যাস সংকটের কারণে দেশে শিল্প উৎপাদন যেমন ব্যাহত হয়েছে, জনদুর্ভোগ বৃদ্ধি পেয়েছে। দেশের শিল্প উৎপাদন যেন ব্যাহত না হয়— এ বিষয়ে সরকার গুরুত্ব দেবে বলে আশা করছেন তিনি।

কেজিডিসিএলের উপমহাব্যবস্থাপক (বিতরণ উত্তর) প্রকৌশলী মোহাম্মদ রফিক খান বলেন, বর্তমানে চাহিদার তুলনায় গ্যাসের সরবরাহ কম। দৈনিক বরাদ্দ ২৪৬ মিলিয়ন ঘনফুট হলেও পাওয়া যাচ্ছে ১৯০ মিলিয়ন ঘনফুট। সরবরাহ বাড়ানোর চেষ্টা চলছে।