কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ বিরল খনিজ খাতে ইরানের সঙ্গে
ছবি সংগৃহীত: ফাইল ছবি
অনলাইন ডেস্ক : কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ বিরল খনিজ খাতে ইরানের সঙ্গে বৈজ্ঞানিক সহযোগিতা বাড়াচ্ছে চীন। চলতি বছরের যৌথ কর্মসূচিতে বিরল খনিজ অনুসন্ধান ও প্রক্রিয়াজাতকরণ প্রযুক্তিকে সহযোগিতার অন্যতম ক্ষেত্র হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করেছে চীনের ন্যাশনাল ন্যাচারাল সায়েন্স ফাউন্ডেশন (এনএসএফসি) ও ইরান ন্যাশনাল সায়েন্স ফাউন্ডেশন। খবর সাউথ চায়না মর্নিং পোস্টের।
এনএসএফসি জানিয়েছে, প্রতিটি ওয়ার্কশপের জন্য ৪ হাজার ২০০ মার্কিন ডলার দেবে চীন। এই অর্থের মাধ্যমে সভা, বাসস্থান এবং অভ্যন্তরীণ ভ্রমণের খরচ বহন করা হবে। অন্যদিকে ইরান ন্যাশনাল সায়েন্স ফাউন্ডেশন ইরানি গবেষকদের আন্তর্জাতিক ভ্রমণ এবং ইরান সফরকারী চীনা গবেষকদের আবাসনের খরচে সহায়তা করবে ইরানি ফাউন্ডেশন।
বর্তমান ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতিতে এই সহযোগিতা বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। বিরল খনিজ বলতে ১৭টি ধাতুর একটি গোষ্ঠীকে বোঝায়, যেগুলোর বিশেষ চুম্বকীয় ও বৈদ্যুতিক বৈশিষ্ট্য রয়েছে। ক্ষেপণাস্ত্র, যুদ্ধবিমান ও রাডারসহ আধুনিক সামরিক ও ইলেকট্রনিক প্রযুক্তিতে এসব ধাতু গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
চলতি মাসের শুরুতে বার্তা সংস্থা রয়টার্স তাদের প্রতিবেদনে জানায়, পাঁচ মাসব্যাপী এই সংঘাতের সময় নিজেদের দীর্ঘপাল্লার নির্ভুল ক্ষেপণাস্ত্রগুলোর ‘প্রায় সবই‘ ব্যবহার করে ফেলেছে যুক্তরাষ্ট্র। সম্প্রতি অস্ত্রের মজুত পুনর্গঠন এবং চীনের ওপর নির্ভরতা কমানোর লক্ষ্যে বিরল খনিজ ও ব্যাটারি প্রকল্পে ৩ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের ঘোষণা দিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন।
বিশ্বে সবচেয়ে বেশি বিরল মৃত্তিকার মজুত রয়েছে চিনের হাতে। বৈশ্বিক উৎপাদন ও প্রক্রিয়াজাতকরণে তারা একচ্ছত্র আধিপত্য ধরে রেখেছে। পাশাপাশি দেশটি এ সংক্রান্ত প্রযুক্তি বিদেশে হস্তান্তরে ক্রমেই কড়াকড়ি আরোপ করছে।
গত বছর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প চীনের সঙ্গে বাণিজ্য যুদ্ধ শুরুর পর বিরল খনিজ রপ্তানির ওপর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করে তার জবাব দেয় বেইজিং। এর ফলে মার্কিন নির্মাতাদের কাঁচামাল সরবরাহ ব্যাহত হয়। এই ইস্যুতে চীনের ওপর ওয়াশিংটনের নির্ভশীলতার বিষয়টি প্রকাশ্যে চলে আসে।
তুলনামূলকভাবে ইরানের বিরল খনিজের সম্ভাবনা সম্পর্কে এখনও বিশদ তথ্য জানা না গেলেও তা বেশ সম্ভাবনাময় বলে মনে করা হচ্ছে। দেশটির ভূ-প্রকৃতিতে লৌহ আকরিক ও ফসফেটের গঠন রয়েছে, যা বিরল খনিজের জন্য উপযুক্ত বলে বিবেচিত।
নেদারল্যান্ডভিত্তিক ‘হেগ রিসার্চ ইনস্টিটিউট’-এর ফেব্রুয়ারি মাসের এক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, মধ্য ইরানের প্রায় ৭ হাজার বর্গকিলোমিটার এলাকা জুড়ে বিরল খনিজ শনাক্ত করা হয়েছে। তবে ইরানের নিষ্কাশন ও প্রক্রিয়াজাতকরণ সক্ষমতা এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। বিরল খনিজকে শিল্পের পর্যায়ে রূপ দিতে দেশটির এখনও অনেক পথ বাকি।