নিজেদের সামরিক ইতিহাসের সবচেয়ে অত্যাধুনিক
ছবি সংগৃহীত: ফাইল ছবি
অনলাইন ডেস্ক : নিজেদের সামরিক ইতিহাসের সবচেয়ে অত্যাধুনিক বিমান চুক্তি সফলভাবে সম্পন্ন করার পথে সউদী আরব।আরব মিত্রদেশটির কাছে কাছে বিশ্বের অন্যতম অত্যাধুনিক পঞ্চম প্রজন্মের স্টিলথ যুদ্ধবিমান ‘এফ-৩৫ লাইটনিং ২’ বিক্রির নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র প্রশাসন।
শুধুমাত্র যুক্তরাষ্ট্রের কাছে থাকা এফ-২২ বাদ দিলে আকাশ যুদ্ধে এটি সবচেয়ে শক্তিশালী ও অত্যাধুনিক বিমান। প্রতিপক্ষের রাডার ফাঁকি দেওয়া ও অনেক দূর থেকে লক্ষ্যে নিখুঁত নিশানার এফ-৩৫ অত্যন্ত কার্যকর। এতদিন এই বিমান যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে মধ্যপ্রাচ্যে কেবল ইসরাইলের কাছে ছিল।
চুক্তিটি চূড়ান্তভাবে বাস্তবায়িত হলে সউদী আরবই হবে প্রথম কোনো আরব রাষ্ট্র, যারা যুক্তরাষ্ট্রের এই সবচেয়ে সংবেদনশীল সামরিক বিমান পেতে যাচ্ছে।হুতিদের ধারাবাহিক হামলায় বিপর্যস্ত চাপে আছে সউদী আরব।হরমুজ প্রণালীর পর হুতিদের হামলায় ইউরোপের তেল পাঠানোর একমাত্র বিকল্প অবলম্বন ইস্ট ওয়েস্ট পাইপলাইন ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় দেশটির তেল বিক্রি শূন্যের কোটায় নেমে এসেছে। চাপে থাকা মোহাম্মদ বিন সালমানের জন্য তাই এ চুক্তি বেশ স্বস্তির খবর।
আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলোর বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ওয়াশিংটন ও রিয়াদের মধ্যকার এই সামরিক চুক্তি মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও হুতিদের ক্রমবর্ধমান প্রভাব মোকাবিলা এবং সউদী বিমানবাহিনীকে শক্তিশালী করার লক্ষ্যে এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ। তবে এই চুক্তি মার্কিন অভ্যন্তরীণ রাজনীতি এবং ইসরায়েলের আপত্তির কারণে কিছুটা বিতর্কেরও জন্ম দিয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সদর দপ্তর পেন্টাগনের তথ্য অনুযায়ী, এই সামরিক প্যাকেজের আওতায় সউদী আরব মোট ৪৮টি এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান পাবে। এর পাশাপাশি বিমানের ইঞ্জিন প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান প্র্যাট অ্যান্ড হুইটনি-র তৈরি ৪৯টি 'এফ১৩৫-পিডব্লিউ-১০০' ইঞ্জিন সরবরাহ করা হবে। এই চুক্তির মূল ঠিকাদার হিসেবে কাজ করবে লকহিড মার্টিন অ্যারোনটিকস। যুদ্ধবিমানের পাশাপাশি এতে থাকবে উন্নত ক্রিপ্টোগ্রাফিক সরঞ্জাম, ইলেকট্রনিক যুদ্ধ সহায়তা ব্যবস্থা এবং দীর্ঘমেয়াদি প্রশিক্ষণ ও লজিস্টিক সহায়তা প্যাকেজ।
২৪.৩ বিলিয়ন ডলারের ব্যয়বহুল এই চুক্তি মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্ট নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে এবং আনুষ্ঠানিকভাবে কংগ্রেসকে অবহিত করেছে। মার্কিন আইন অনুযায়ী, স্টেট ডিপার্টমেন্টের এই আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তির পর মার্কিন কংগ্রেসের আইনপ্রণেতারা চুক্তিটি পর্যালোচনা বা আপত্তি জানানোর জন্য ৩০ দিন সময় পাবেন। কংগ্রেসে চীন-সংশ্লিষ্ট নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং আঞ্চলিক ক্ষমতার ভারসাম্য নিয়ে তীব্র বিতর্ক হওয়ার সম্ভাবনা থাকলেও, ট্রাম্প প্রশাসনের রাজনৈতিক জোরালো অবস্থানের কারণে চুক্তিটি শেষ পর্যন্ত পাস হয়ে যাবে বলেই ধারণা করছেন প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা।
তবে সামরিক ইতিহাসের অন্যতম বড় আর্থিক চুক্তির পরেও এফ-৩৫ এর পূর্ণ শক্তির সংস্করণটি পাচ্ছে না সউদী আরব।আল-জাজিরার প্রতিবেদন বলছে, আকাশে ইসরায়েলের একক আধিপত্য বজায় রাখতে সউদি আরবের কাছে বিক্রি করা এফ-৩৫ বিমানগুলোর প্রযুক্তিগত সক্ষমতা কিছুটা সীমিত বা ‘ডাউনগ্রেড’ করা হতে পারে। এর মধ্যে ইসরায়েলি বহরে থাকা বিশেষায়িত ইলেকট্রনিক যুদ্ধ ব্যবস্থা কিংবা দুরপাল্লার পরবর্তী প্রজন্মের এআইএম-২৬০ ক্ষেপণাস্ত্রের মতো কিছু প্রযুক্তি সউদী আরবের সংস্করণে নাও থাকতে পারে।