ই-পেপার

হরমুজে উত্তেজনা বাড়তেই ঊর্ধ্বমুখী তেলের বাজার

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত দীর্ঘায়িত হওয়ার আশঙ্কায়

আপডেট: ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:২২
২৪ ভিউ
হরমুজে উত্তেজনা বাড়তেই ঊর্ধ্বমুখী তেলের বাজার

ছবি সংগৃহীত: ফাইল ছবি

অনলাইন ডেস্ক : মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত দীর্ঘায়িত হওয়ার আশঙ্কায় বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম আরও বেড়েছে। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টাপাল্টি সামরিক পদক্ষেপের পাশাপাশি হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল নিয়ে নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়ায় তেল সরবরাহে বড় ধরনের বিঘ্নের আশঙ্কা করছেন বাজারসংশ্লিষ্টরা। ফলে অপরিশোধিত তেলের বাজারে ঝুঁকির প্রিমিয়ামও বাড়ছে।

রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) গ্রিনিচ মান সময় রাত ১২টা পর্যন্ত আন্তর্জাতিক মানদণ্ড ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ৩৪ সেন্ট বা দশমিক ৩৫ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৯৭ দশমিক ৩৪ ডলারে উঠেছে। এর আগে দিনের লেনদেনে ব্রেন্টের দাম ৯৭ দশমিক ৯৩ ডলার পর্যন্ত উঠে ২৪ জুলাইয়ের পর সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছায়। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) অপরিশোধিত তেলের দাম ১ দশমিক ১৫ ডলার বা ১ দশমিক ২৬ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৯২ দশমিক ৬৩ ডলারে দাঁড়ায়।

তেলের বাজারে নতুন করে চাপ তৈরির অন্যতম কারণ হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে বাড়তে থাকা নিরাপত্তা ঝুঁকি। বিশ্বে সমুদ্রপথে জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই পথ দিয়ে যুদ্ধ শুরুর আগে প্রতিদিন প্রায় ১ কোটি ৮০ লাখ ব্যারেল তেল মধ্যপ্রাচ্য থেকে পরিবহন হতো। সংঘাতের মধ্যে এ প্রবাহ কমে প্রায় ১ কোটি ১০ লাখ ব্যারেলে নেমেছে। তবে এখনো প্রতিদিন প্রায় ৪০ থেকে ৫০ লাখ ব্যারেল তেল হরমুজ প্রণালি দিয়ে যাচ্ছে বলে রয়টার্স জানিয়েছে।

পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে ইরানের নতুন হুমকি। তেহরান জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র নতুন করে ইরানের স্থাপনা বা সম্পদের ওপর হামলা চালালে পালটা জবাব দেওয়া হবে। মঙ্গলবার ইরান পারস্য উপসাগরে একটি নতুন সামুদ্রিক ‘বহির্ভূত অঞ্চল’ ঘোষণার পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছে। এর ফলে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল আরও বাধাগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

রয়টার্স বলছে, মধ্যপ্রাচ্য থেকে তেল সরবরাহ কমে গেলেও এখনো বিশ্ববাজারে বড় ধরনের ঘাটতি দেখা দেয়নি। সউদী আরব ও ইরাক বিকল্প রপ্তানি পথ ব্যবহার করে সরবরাহ সচল রাখার চেষ্টা করছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও গায়ানাসহ ওপেকের বাইরের কয়েকটি দেশের উৎপাদন বাড়ার সম্ভাবনাও রয়েছে। এসব কারণে ব্রেন্টের দাম এখনো ১০০ ডলার ছাড়ায়নি। তবে সংঘাত ও জাহাজ চলাচলের বিঘ্ন দীর্ঘায়িত হলে সরবরাহ সংকট আরও তীব্র হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।