মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে গত কয়েকদিন ধরে ঢাকায় বৃষ্টি হচ্ছে।
ছবি সংগৃহীত: ফাইল ছবি
অনলাইন ডেস্ক : মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে গত কয়েকদিন ধরে ঢাকায় বৃষ্টি হচ্ছে। গতকাল শনিবার গভীর রাত থেকে শুরু হওয়া এই বৃষ্টি আজ রোববারও চলছে। এদিন ভোরে কয়েক ঘণ্টা টানা অঝোর ধারায় বৃষ্টি ঝরেছে। এখনো থেমে থেমে বৃষ্টি হচ্ছে। টানা এ বর্ষণে বিভিন্ন এলাকার রাস্তায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন শিক্ষার্থী, চাকরিজীবীসহ নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ।
রোববার সকাল ৬টা থেকে ৯টা পর্যন্ত মাত্র ৩ ঘণ্টায় ঢাকায় ২৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। এর আগের ২৪ ঘণ্টায় রাজধানীতে ৯৭ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। সকাল থেকে শুরু হওয়া মুষলধারে বৃষ্টি এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত অব্যাহত রয়েছে।
এ বিষয়ে আবহাওয়াবিদ হাফিজুর রহমান বলেছেন, আজ সারাদিনই বৃষ্টি অব্যাহত থাকবে। আগামীকাল সোমবার বিকেলের দিকে বৃষ্টির তীব্রতা কিছুটা কমতে পারে। তবে বৃষ্টি পুরোপুরি বন্ধ হওয়ার সম্ভাবনা নেই।
এদিকে সকাল সাড়ে ছয়টার দিকে রাজধানীর গ্রিন রোড, তেজতুরী বাজার, পান্থপথ, মণিপুর, বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা, ধানমন্ডি ২৭, ধানমন্ডি ৩২, মোহাম্মদপুর, বিজয়নগর, কাজীপাড়া, মিরপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় রাস্তায় কোথাও হাঁটু, কোথাও কোমরসমান পানি দেখা গেছে।
এ ছাড়া রাজধানীর শাহজাদপুর, বাড্ডা, রামপুরা, বনশ্রী এলাকা ঘুরে বিভিন্ন স্থানে হাঁটুপানি জমতে দেখা যায়। অনেক বাসার নিচতলায় পানি ঢুকে পড়েছে। এতে বাসা থেকে বের হয়ে মূল রাস্তায় যেতে বেশি ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে তাদের।
শেওড়াপাড়া থেকে তেজগাঁওয়ে অফিসের উদ্দেশে বের হয়েছিলেন সোমওয়াত নাইয়ার অহনা। তিনি বলেছেন, বৃষ্টিতে তার বাসার সামনে হাঁটু সমান পানি। রাস্তায় যানবাহন তেমন একটা নেই বললেই চলে। আবার দু-একটা থাকলেও তিন গুণ বেশি ভাড়া দাবি করেছিল। বাধ্য হয়ে তাকে শেষ পর্যন্ত মেট্রোতে করে গন্তব্যে আসতে হয়েছে। এ কারণে অফিসে আসতে সময় অনেক বেশি লেগেছে।
বনশ্রীর বাসিন্দা রনিম রহমান একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত। তিনি জানান, বাসার সামনে কোমর সমান পানির কারণে তিনি আজ অফিসে যেতে পারেনি। বাসা থেকে অফিসের উদ্দেশে বের হলেও পানি এবং কোনো যানবাহন না থাকায় তিনি আবারও বাসায় ফিরে যান।
মহাখালী যাওয়ার জন্য আগারগাঁও এলাকায় বাসের জন্য অপেক্ষা করছিলেন নূরে রোকসানা সুমি। কিন্তু এক ঘণ্টা অপেক্ষা করেও কোনো গাড়ি পাচ্ছিলেন না। তিনি বলেন, ‘অসহনীয় অবস্থায় আছি।মহাখালী অফিস। পৌঁছাতে পারব কিনা জানি না।’
এদিকে বৃষ্টির কারণে রাজধানীর কয়েকটি স্কুলে চলা অর্ধবার্ষিক ও অন্যান্য পরীক্ষা স্থগিত করার খবর পাওয়া গেছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, মৌসুমি বায়ুর বর্ধিতাংশের অক্ষ পাঞ্জাব, হরিয়ানা, উত্তর প্রদেশ, বিহার, পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশের মধ্যাঞ্চল হয়ে আসাম পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। এর একটি বর্ধিতাংশ উত্তর বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। মৌসুমি বায়ু বাংলাদেশের ওপর সক্রিয় এবং উত্তর বঙ্গোপসাগরে মাঝারি অবস্থায় বিরাজমান আছে।
এ কারণে আজ সকাল সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ, ঢাকা, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অধিকাংশ জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের ভারী বৃষ্টি/বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে।
সেই সঙ্গে রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ, ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের কোথাও কোথাও ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণ হতে পারে। তবে সারাদেশে দিন এবং রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।
এ ছাড়া দেশের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরগুলোর জন্য দেওয়া আবহাওয়ার বিশেষ পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, রাজশাহী, পাবনা, বগুড়া, টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ, ঢাকা, ফরিদপুর, কুষ্টিয়া, যশোর, খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী, নোয়াখালী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও সিলেট অঞ্চলের ওপর দিয়ে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে দমকা বা ঝড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি অথবা বজ্রবৃষ্টি হতে পারে। এসব এলাকার নদীবন্দরকে ১ নম্বর সতর্কসংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।