হাসপাতালে ইরানের নোবেলজয়ী নার্গিস মোহাম্মদি
অনলাইন ডেস্ক, বাংলাদেশ - Saturday, May 2, 2026 9
অনলাইন ডেস্ক : ইরানের কারাগারে হার্ট অ্যাটাকের পর শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় শান্তিতে নোবেলজয়ী নার্গিস মোহাম্মদিকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। দেশটির একটি হাসপাতালে ইরানি এই নোবেলজয়ী চিকিৎসাধীন রয়েছেন বলে শনিবার তার পরিবারের পরিচালিত একটি ফাউন্ডেশন জানিয়েছে।
নিজের নামে প্রতিষ্ঠিত ইরানি এই নোবেলজয়ীর সংস্থা নার্গিস মোহাম্মদি ফাউন্ডেশন এক বিবৃতিতে বলেছে, নোবেলজয়ী নার্গিস মোহাম্মদির শারীরিক অবস্থার মারাত্মক অবনতি ঘটায় শনিবার তাকে কারাগার থেকে হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
গত বৃহস্পতিবার নার্গিস মোহাম্মদির শারীরিক অবস্থা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন নরওয়েজীয় নোবেল কমিটির সেক্রেটারি। তিনি বলেছিলেন, কারাগারে হার্ট অ্যাটাকের পর ইরানি মানবাধিকার কর্মী নার্গিস মোহাম্মদির শারীরিক অবস্থার ক্রমাগত অবনতি ঘটছে।
৫০ বছর বয়সী মোহাম্মদি ইরানে নারীদের অধিকার রক্ষা এবং মৃত্যুদণ্ড বিলোপের আন্দোলনে সংশ্লিষ্ট থাকাকালীন ২০২৩ সালে কারাবন্দি অবস্থায় নোবেল শান্তি পুরস্কার লাভ করেন।
বিবৃতিতে নার্গিস মোহাম্মদি ফাউন্ডেশন বলেছে, ‘‘শারীরিক অবস্থার মারাত্মক অবনতির পর নার্গিস মোহাম্মদিকে জরুরি ভিত্তিতে জানজান শহরের একটি হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। তিনি দুই দফায় সম্পূর্ণ জ্ঞান হারিয়েছিলেন এবং গুরুতর হৃদরোগে আক্রান্ত হয়েছেন।’’
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, কারাগারের চিকিৎসকরা মোহাম্মদিকে সেখানে চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব নয় বলে জানানোর পর এই স্থানান্তর অনিবার্য হয়ে পড়ে। শনিবারের ফাউন্ডেশন জানিয়েছে, ইরানি এই নোবেলজয়ীর অবস্থা এখনও অস্থিতিশীল রয়েছে এবং তাকে অক্সিজেন দিয়ে রাখা হয়েছে। সঠিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও বিশেষায়িত চিকিৎসার জন্য তাকে তেহরানের একটি হাসপাতালে স্থানান্তরের দাবি জানানো হয়েছে।
তবে নার্গিসের শারীরিক অবস্থার বিষয়টি স্বতন্ত্রভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি বলে ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স। গত ফেব্রুয়ারিতে ফাউন্ডেশন বলেছিল, মোহাম্মদিকে নতুন করে সাড়ে সাত বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এর কয়েক সপ্তাহ পরই ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধ শুরু হয়। সে সময় নোবেল কমিটি অবিলম্বে তাকে মুক্তি দিতে তেহরানের প্রতি আহ্বান জানিয়েছিল।
দেশটির আইনজীবী খসরু আলিকোর্দির মৃত্যুর নিন্দা জানানোর পর তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। সে সময় প্রসিকিউটর হাসান হেমাতিফার সাংবাদিকদের বলেছিলেন, আলিকোর্দির স্মরণসভায় মোহাম্মদি উসকানিমূলক বক্তব্য দিয়েছেন।
ফাউন্ডেশনের তথ্য অনুযায়ী, গত শুক্রবার সকালে টানা কয়েক দিনের উচ্চ রক্তচাপ এবং প্রচণ্ড বমি ভাবের পর জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন নার্গিস। বারবার বমি করার পর তিনি নিস্তেজ হয়ে পড়েন। পরে জরুরি ভিত্তিতে স্যালাইন দেওয়ার জন্য তাকে কারাগারের মেডিকেল ইউনিটে নেওয়া হয়।
এর আগে, তিনবার এনজিওপ্লাস্টি করা এই মানবাধিকার কর্মীর জীবন বর্তমানে ‘‘সরাসরি’’ ঝুঁকির মুখে রয়েছে বলে তার পরিবার জানিয়েছে। তারা অবিলম্বে নার্গিসের বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ প্রত্যাহার এবং শান্তিপূর্ণ মানবাধিকার কাজের জন্য দেওয়া সকল সাজা নিঃশর্তভাবে বাতিলের দাবি জানিয়েছে।
সূত্র: রয়টার্স।
