প্রযুক্তির উত্থান, ভবিষ্যৎ কর্মসংস্থান কোন পথে
অনলাইন ডেস্ক, বাংলাদেশ - Sunday, May 3, 2026 9
অনলাইন ডেস্ক : বিশ্বজুড়ে দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে প্রযুক্তি, আর সেই পরিবর্তনের ঢেউ এসে আঘাত হানছে শ্রমবাজারে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, অটোমেশন, রোবোটিক্স এবং ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের বিস্তারের ফলে কর্মসংস্থানের ধরন বদলে যাচ্ছে অভূতপূর্বভাবে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে— ভবিষ্যতে কর্মসংস্থানের পথ কোন দিকে যাচ্ছে?
প্রযুক্তির দাপট ও চাকরির রূপান্তর গত এক দশকে প্রযুক্তিগত উন্নয়ন এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে, যেখানে অনেক প্রচলিত কাজ এখন মেশিন বা সফটওয়্যার দিয়ে সহজেই করা সম্ভব। বিশেষ করে উৎপাদন শিল্প, কাস্টমার সার্ভিস, এমনকি ব্যাংকিং খাতেও অটোমেশন বাড়ছে। ফলে কম দক্ষতার অনেক চাকরি ঝুঁকির মুখে পড়ছে। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রযুক্তি যেমন কিছু কাজ কমিয়ে দিচ্ছে, তেমনি নতুন ধরনের কাজের ক্ষেত্রও তৈরি করছে।
ডেটা অ্যানালিস্ট, সাইবার সিকিউরিটি বিশেষজ্ঞ, সফটওয়্যার ডেভেলপার, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রকৌশলী। এসব পেশার চাহিদা দ্রুত বাড়ছে।
বিশ্ব শ্রমবাজারে টিকে থাকতে এখন শুধু প্রচলিত শিক্ষা যথেষ্ট নয়। প্রয়োজন নতুন দক্ষতা অর্জন। বিশেষ করে ডিজিটাল দক্ষতা, সমস্যা সমাধানের ক্ষমতা এবং সৃজনশীল চিন্তা।
শিক্ষাবিদরা বলছেন, ভবিষ্যতের চাকরির জন্য ‘লাইফলং লার্নিং’ বা আজীবন শেখার মানসিকতা অত্যন্ত জরুরি। কারণ, প্রযুক্তি প্রতিনিয়ত বদলাচ্ছে, আর সেই সঙ্গে বদলাতে হচ্ছে কর্মীদের দক্ষতাকেও। ফ্রিল্যান্সিং ও রিমোট কাজের বিস্তার ইন্টারনেটের কল্যাণে এখন কাজের ক্ষেত্র আর নির্দিষ্ট অফিসে সীমাবদ্ধ নেই। ফ্রিল্যান্সিং, রিমোট জব এবং গিগ ইকোনমি দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। বাংলাদেশসহ উন্নয়নশীল দেশগুলোতে তরুণরা অনলাইনে কাজ করে বৈদেশিক আয় বাড়াচ্ছেন।
তবে চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনা প্রযুক্তির এই অগ্রযাত্রা যেমন নতুন সুযোগ তৈরি করছে, তেমনি নতুন চ্যালেঞ্জও নিয়ে আসছে। যারা দ্রুত নতুন দক্ষতা অর্জন করতে পারছেন না, তারা পিছিয়ে পড়ার ঝুঁকিতে আছেন।
সরকার ও বেসরকারি খাতের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হলো— কীভাবে এই পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাইয়ে দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি করা যায়। শিক্ষা ব্যবস্থায় প্রযুক্তিনির্ভরতা বাড়ানো এবং প্রশিক্ষণের সুযোগ সম্প্রসারণ এখন সময়ের দাবি।
প্রযুক্তির উত্থান থেমে থাকার নয়। তাই ভবিষ্যৎ কর্মসংস্থানের পথও নির্ভর করছে আমরা কত দ্রুত এই পরিবর্তনের সঙ্গে মানিয়ে নিতে পারি তার ওপর। সঠিক পরিকল্পনা, দক্ষতা উন্নয়ন এবং নীতিনির্ধারণী পদক্ষেপই নির্ধারণ করবে— এই পরিবর্তন আমাদের জন্য হুমকি হবে, নাকি নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দেবে।
