ইয়েমেনে হুথি বিদ্রোহীদের হামলায় সরকারি ১৫ সৈন্য নিহত
অনলাইন ডেস্ক, বাংলাদেশ - Sunday, July 5, 2026 8
অনলাইন ডেস্ক : ইয়েমেনের পশ্চিমাঞ্চলীয় হুদায়দা প্রদেশে হুথি বিদ্রোহীদের সঙ্গে ভয়াবহ সংঘর্ষে দেশটির আন্তর্জাতিক স্বীকৃতিপ্রাপ্ত সরকারের অন্তত ১৫ সৈন্য নিহত হয়েছেন। দেশটির সরকারি এক কর্মকর্তার বরাত দিয়ে ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
দেশটির ক্ষমতাসীন সরকারের প্রতিমন্ত্রী ওয়ালিদ আল-কুদাইমি বলেছেন, পশ্চিম উপকূলীয় এলাকায় নতুন করে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়েছে। সেখানকার জাবাল দাব্বাস এলাকায় লড়াই চলাকালে তিহামা অঞ্চলের ওই সেনাসদস্যরা নিহত হয়েছেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে আল-কুদাইমি বলেন, বিদ্রোহীদের সঙ্গে সংঘর্ষের সময় সৈন্যরা ‘নিজেদের ভূমি ও মর্যাদা রক্ষা করতে গিয়ে’ প্রাণ হারিয়েছেন।
তিনি বলেন, এই সংঘর্ষে হুথিদেরও ৫০ জনের বেশি যোদ্ধা নিহত এবং কয়েক ডজন আহত হয়েছেন। তবে সংঘর্ষের বিষয়ে হুথি বিদ্রোহীদের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনও মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
জাবাল দাব্বাস এলাকায় অবস্থানরত সরকারপন্থী বাহিনীর এক কর্মকর্তা বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলেন, এই ‘ভয়াবহ লড়াইয়ে’ আরও ২৩ সৈন্য আহত হয়েছেন।
গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলার অনুমতি না থাকায় নাম প্রকাশে অস্বীকৃতি জানিয়ে ওই কর্মকর্তা বলেন, শুক্রবার গভীর রাতে আকস্মিক হামলা চালিয়ে সরকারি বাহিনীর বেশ কিছু সীমান্তচৌকির সাময়িক নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে হুথিরা। পরে শনিবার ভোরের দিকে সরকার-সমর্থিত বাহিনী পাল্টা হামলা চালিয়ে সেসব চৌকির নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে।
ওই কর্মকর্তা বলেন, ‘‘গত কয়েক বছরের মধ্যে এটিই হুথিদের সবচেয়ে রক্তক্ষয়ী ও প্রাণঘাতী হামলা।’’ তিনি বলেন, হামলার শুরুতে হুথি যোদ্ধারা স্নাইপার ব্যবহার করেছে। যে কারণে সেনাবাহিনীর সবচেয়ে বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। স্নাইপারের পাশাপাশি সরকারি সৈন্যদের অবস্থান লক্ষ্য করে ড্রোন ও মর্টার শেলও নিক্ষেপ করেছে বিদ্রোহীরা।
২০১৫ সাল থেকে ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের বিরুদ্ধে যুদ্ধ চালিয়ে আসছে হুথি বিদ্রোহীরা।
বর্তমানে গোষ্ঠীটি রাজধানী সানা এবং লোহিত সাগর উপকূলের গুরুত্বপূর্ণ বন্দর নগরী হুদায়দাসহ উত্তর ইয়েমেনের বেশিরভাগ এলাকা নিয়ন্ত্রণ করছে। অন্যদিকে এডেনভিত্তিক দেশটির সরকারি বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে দক্ষিণের বড় অংশ।
২০২২ সালে জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তির পর থেকে সম্মুখযুদ্ধের তীব্রতা অনেকটাই কমে এসেছিল। তবে দুই পক্ষের মাঝে প্রায়ই এমন বিক্ষিপ্ত সহিংসতার ঘটনা ঘটছে।
ইয়েমেন সরকারকে সমর্থন দেওয়া প্রতিবেশী দেশ সৌদি আরবের বিভিন্ন বিমানবন্দর ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় হুথিরা নতুন করে হামলার হুমকি দেওয়ার পরপরই এই রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটল।
সূত্র: এএফপি।
