ইউক্রেনকে অব্যাহত সামরিক সহায়তা প্রদানের বিরুদ্ধে উত্তর আটলান্টিক নিরাপত্তা জোট (ন্যাটো) এবং পশ্চিমা দেশগুলোকে চরম হুঁশিয়ারি বার্তা দিয়েছে রাশিয়া।
ছবি সংগৃহীত: ফাইল ছবি
অনলাইন ডেস্ক : ইউক্রেনকে অব্যাহত সামরিক সহায়তা প্রদানের বিরুদ্ধে উত্তর আটলান্টিক নিরাপত্তা জোট (ন্যাটো) এবং পশ্চিমা দেশগুলোকে চরম হুঁশিয়ারি বার্তা দিয়েছে রাশিয়া। মস্কোর পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, রাশিয়ার সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তার বিরুদ্ধে যেকোনো ধরনের আগ্রাসন বা উসকানির মুখে ‘চূড়ান্ত ও বিধ্বংসী’ জবাব দেওয়া হবে। রাশিয়ার ভূখণ্ডে বা স্বার্থে আঘাত করা হলে ক্রেমলিন তার হাতে থাকা সব ধরনের সামরিক শক্তি ও উপায় ব্যবহার করতে দ্বিধা করবে না।
শুক্রবার রুশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে এই কড়া বার্তা দেওয়া হয়। সম্প্রতি ন্যাটোর শীর্ষ সম্মেলনে ইউক্রেনের জন্য বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, সাঁজোয়া যান এবং দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রসহ নতুন করে বিপুল সামরিক সহায়তার প্রতিশ্রুতি দেওয়ার পর মস্কোর এই প্রতিক্রিয়া সামনে এলো।
রুশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তাদের বিবৃতিতে জানায়, "আমাদের দেশের বিরুদ্ধে যেকোনো আগ্রাসনের জবাব হবে চূড়ান্ত এবং উসকানিকারীদের জন্য তা হবে চরম বিধ্বংসী। নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে রাশিয়ার সব ধরনের সামরিক সক্ষমতা ব্যবহারের পূর্ণ অধিকার রয়েছে।" বিবৃতিতে সুনির্দিষ্টভাবে কোনো অস্ত্রের কথা উল্লেখ করা না হলেও, আন্তর্জাতিক সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, এটি রাশিয়ার সেই কৌশলগত সামরিক ডকট্রিন বা নীতিমালারই বহিঃপ্রকাশ, যা রাষ্ট্রের অস্তিত্ব সংকটে পড়লে পরমাণু অস্ত্রসহ সর্বোচ্চ শক্তি ব্যবহারের অনুমতি দেয়।
মস্কো দীর্ঘদিন ধরেই দাবি করে আসছে, ইউক্রেনকে পশ্চিমা আধুনিক সমরাস্ত্র সরবরাহ করার অর্থ হলো ন্যাটো সরাসরি এই যুদ্ধে অংশ নিচ্ছে। রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভ এর আগেও একাধিকবার সতর্ক করে বলেছেন, ইউক্রেনগামী যেকোনো পশ্চিমা অস্ত্রের চালান বা সামরিক সরঞ্জাম বহনকারী লজিস্টিকস রুশ বাহিনীর জন্য ‘বৈধ সামরিক লক্ষ্যবস্তু’ হিসেবে গণ্য হবে। ইতিমধ্যেই রাশিয়া ইউক্রেনের অভ্যন্তরে বিভিন্ন রেল নেটওয়ার্ক, ওয়্যারহাউস এবং লজিস্টিকস হাবগুলোতে ড্রোন ও মিসাইল হামলা জোরদার করেছে।
এদিকে, ক্রেমলিনের অভ্যন্তরীণ সূত্রের বরাত দিয়ে কিছু আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম দাবি করেছে, রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন বর্তমান যুদ্ধপরিস্থিতিতে কোনো ধরনের যুদ্ধবিরতি বা শান্তির প্রস্তাব মানতে নারাজ। বিশেষ করে সম্প্রতি রাশিয়ার তেল শোধনাগার এবং বন্দরগুলোতে ইউক্রেনের ড্রোন হামলার পর পুতিনের অবস্থান আরও কঠোর হয়েছে। তিনি পূর্ব ইউক্রেনের ডনবাস অঞ্চলের বাকি অংশ পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে নিতে এবং প্রয়োজনে ন্যাটোর সীমান্ত পর্যন্ত সামরিক তৎপরতা বাড়াতেও প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে গুঞ্জন রয়েছে।
অন্যদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি পুতিন ও জেলেনস্কির সাথে পৃথক আলোচনার পর দাবি করেছিলেন যে, রাশিয়া-ইউক্রেন শান্তি চুক্তি খুব কাছাকাছি রয়েছে। তবে ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ জানিয়েছেন, রাশিয়া কূটনৈতিক উপায়ে আলোচনার পথ খোলা রাখলেও, ইউক্রেন যদি শান্তি আলোচনায় বসার সদিচ্ছা না দেখায়, তবে লক্ষ্য অর্জিত না হওয়া পর্যন্ত তাদের 'বিশেষ সামরিক অভিযান' স্বয়ংক্রিয়ভাবেই চলতে থাকবে। সেই সাথে যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবেলায় রাশিয়ার পর্যাপ্ত অর্থনৈতিক ও সামরিক সক্ষমতা রয়েছে বলেও তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন।