বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডকে হারিয়ে
ছবি সংগৃহীত: ফাইল ছবি
স্পোর্টস ডেস্ক : বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডকে হারিয়ে জয় উদযাপনের সময় ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জের ওপর আর্জেন্টিনার সার্বভৌমত্বের দাবিসংবলিত ব্যানার প্রদর্শনকে কেন্দ্র করে ব্যাপক বিতর্ক তৈরি হয়েছে। এ ঘটনায় আর্জেন্টিনা ফুটবল দলের মতপ্রকাশের স্বাধীনতার পক্ষে অবস্থান নিয়েছে হোয়াইট হাউস। তবে যুক্তরাজ্য সরকার ফিফার কাছে বিষয়টি নিয়ে তদন্তের দাবি জানিয়েছে।
বিবিসির খবরে বলা হয়, শুক্রবার (১৭ জুলাই) সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে হোয়াইট হাউসের ফিফা টাস্কফোর্সের প্রধান অ্যান্ড্রু জুলিয়ানি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে সবাই সংবিধানপ্রদত্ত মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ভোগ করেন এবং আর্জেন্টিনা দলের খেলোয়াড়দেরও নিজেদের মত প্রকাশের সুযোগ ছিল।’
ধারণা করা হচ্ছে, এই ঘটনা দুই দেশের মধ্যকার দীর্ঘদিনের বিরোধকে আরও তীব্র করতে পারে। কারণ, দক্ষিণ-পশ্চিম আটলান্টিক মহাসাগরে অবস্থিত ব্রিটিশ উপনিবেশ ফকল্যান্ড এখনও যুক্তরাজ্য ও আর্জেন্টিনার মধ্যে সার্বভৌমত্ব নিয়ে অন্যতম বিরোধের বিষয়।
বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডকে হারানোর পর আর্জেন্টাইন খেলোয়াড়রা ‘লাস মালভিনাস সন আর্জেন্টিনাস’ (মালভিনাস বা ফকল্যান্ড আর্জেন্টিনার) লেখা একটি ব্যানার প্রদর্শন করেন। ফিফার রাজনৈতিক বার্তা নিষিদ্ধ করার নীতিমালা ভঙ্গের অভিযোগে এ ঘটনায় আর্জেন্টিনার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
এদিকে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কার্যালয় (ডাউনিং স্ট্রিট) ফিফার তদন্তের দাবি জানিয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর মুখপাত্র বলেন, ‘বিশ্বকাপ আমাদের নাও হতে পারে, কিন্তু ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ অবশ্যই আমাদের। ফকল্যান্ডের প্রতি আমাদের অঙ্গীকার কখনো দুর্বল হবে না।’ ডাউনিং স্ট্রিট আরও জানায়, খেলোয়াড়দের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়া হবে কি না, তা ফিফার সিদ্ধান্তের বিষয়। তবে ব্রিটিশ সরকার মনে করে, বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থার ঘটনাটি তদন্ত করা উচিত।
ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জের সরকারও ব্যানার প্রদর্শনের ঘটনায় হতাশা প্রকাশ করেছে। এক বিবৃতিতে তারা জানায়, খেলাধুলায় রাজনীতির অনুপ্রবেশ তারা দেখতে চায় না এবং ফিফা যেন নিজেদের নিয়ম অনুযায়ী এ ধরনের আচরণের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়।
দক্ষিণ আটলান্টিক মহাসাগরে অবস্থিত ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই যুক্তরাজ্য ও আর্জেন্টিনার মধ্যে সার্বভৌমত্বের বিরোধ রয়েছে। ২০১৩ সালের গণভোটে দ্বীপপুঞ্জের ৯৯ শতাংশেরও বেশি ভোটার ব্রিটিশ ওভারসিজ টেরিটরি হিসেবেই থাকার পক্ষে মত দেন।
অন্যদিকে আর্জেন্টিনার ভাইস প্রেসিডেন্ট ভিক্টোরিয়া ভিলারুয়েল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লেখেন, ‘ফকল্যান্ড আর্জেন্টিনার। স্টেডিয়ামে ব্যানার নিতে নিষেধাজ্ঞা জারি করলেও, তারা ভুলে গেছে যে, আমরা এটি আমাদের রক্ত ও হৃদয়ে বহন করি।’
উল্লেখ্য, ১৯৮২ সালে ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জকে কেন্দ্র করে যুক্তরাজ্য ও আর্জেন্টিনার মধ্যে ৭৪ দিনের যুদ্ধ হয়। সেই সংঘাতে ২৫৫ জন ব্রিটিশ সেনা, তিনজন দ্বীপবাসী এবং ৬৪৯ জন আর্জেন্টাইন সেনা নিহত হন। বর্তমানে দ্বীপপুঞ্জটি যুক্তরাজ্যের নিয়ন্ত্রণে থাকলেও আর্জেন্টিনা এখনও এর ওপর নিজেদের দাবি অব্যাহত রেখেছে।