ই-পেপার

স্কুলে হিজাব পরায় বাধা, বিক্ষোভে উত্তাল আজারবাইজান

স্কুলে হিজাব পরা শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের প্রবেশে বাধা দেওয়ার

আপডেট: ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ১১:৩৫
২৬ ভিউ
স্কুলে হিজাব পরায় বাধা, বিক্ষোভে উত্তাল আজারবাইজান

ছবি সংগৃহীত: ফাইল ছবি


অনলাইন ডেস্ক : স্কুলে হিজাব পরা শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের প্রবেশে বাধা দেওয়ার ঘটনায় বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে মধ্য এশিয়ার দেশ আজারবাইজানে। নতুন পোশাকবিধির মাধ্যমে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ধর্মনিরপেক্ষতার নীতি কার্যকরের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এতে সরাসরি হিজাব নিষিদ্ধ করা না হলেও কয়েকটি স্কুলে হিজাব পরা শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের প্রবেশে বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ নিয়ে শিক্ষার্থীদের ক্লাস বর্জন, বিক্ষোভ ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিবাদ চলছে।

আল-জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ২১ সেপ্টেম্বর আজারবাইজানের মন্ত্রিসভা সরকারি স্কুলের শিক্ষার্থীদের পোশাকবিধিতে সংশোধনী অনুমোদন করে। সরকারের ভাষ্য, নতুন নিয়মের লক্ষ্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ধর্মনিরপেক্ষ নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ পোশাক নিশ্চিত করা। তবে বিধিনিষেধ কার্যকর হওয়ার পর রাজধানী বাকুসহ বিভিন্ন এলাকায় হিজাব পরা ছাত্রীদের স্কুলে প্রবেশে বাধা দেওয়ার ঘটনা সামনে এসেছে। শিক্ষকদের ক্ষেত্রেও একই ধরনের বিধিনিষেধ আরোপের অভিযোগ উঠেছে।

শিক্ষক জাহরা হাসানোভা আল-জাজিরাকে বলেন, স্কুলে হিজাব পরে আসতে পারবেন না বলে তাকে জানানো হয়েছে। এতে তিনি কষ্ট পেয়েছেন উল্লেখ করে বলেন, হিজাব পরা ব্যক্তিগত পছন্দের বিষয়। ভবিষ্যতে এটি খুলে ফেলার সিদ্ধান্ত নিলেও তা নিজের ইচ্ছাতেই নেওয়া উচিত।

দেশটির জনসংখ্যার প্রায় ৯৬ শতাংশ মুসলিম। আজারবাইজানের সংবিধানে রাষ্ট্রকে ধর্মনিরপেক্ষ হিসেবে সংজ্ঞায়িত করার পাশাপাশি ধর্মীয় স্বাধীনতার নিশ্চয়তা দেওয়া হয়েছে। ফলে নতুন পোশাকবিধি নিয়ে বিতর্কে একদিকে ধর্মনিরপেক্ষ শিক্ষাব্যবস্থা বজায় রাখার যুক্তি, অন্যদিকে হিজাব পরার স্বাধীনতা ও শিক্ষার অধিকার—দুটি বিষয়ই সামনে এসেছে।

এদিকে, নতুন বিধিনিষেধের প্রতিবাদে অনশন শুরু করেছেন কারাবন্দি সাংবাদিক পোলাদ আসলানোভ। ২০২০ সালে রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পর তিনি কারাদণ্ড ভোগ করছেন। তার স্ত্রী গুলমিরা আসলানোভা ফেসবুকে প্রকাশিত এক বার্তায় জানান, সাংবিধানিক অধিকার ক্ষুণ্ন হওয়ার প্রতিবাদে আসলানোভ অনশনকে নিজের প্রতিবাদের মাধ্যম হিসেবে বেছে নিয়েছেন।

দেশটিতে ইন্টারনেট ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিঘ্ন ঘটার খবরও ছড়িয়েছে। তবে ওপেন অবজারভেটরি অব নেটওয়ার্ক ইন্টারফেরেন্স এবং নেটব্লকসের তথ্য দিয়ে ব্যাপক ইন্টারনেট বন্ধের খবর নিশ্চিত করা যায়নি। ফলে এ বিষয়ে স্বাধীনভাবে যাচাই করা তথ্য সীমিত।

আজারবাইজানের এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ ছড়িয়ে পড়েছে প্রতিবেশী তুরস্কেও। গত সপ্তাহে ইস্তাম্বুলে আজারবাইজানের কনস্যুলেটের সামনে বিক্ষোভ করেন প্রতিবাদকারীরা। তারা হিজাব পরা মুসলিম নারীদের ওপর বিধিনিষেধ প্রত্যাহার এবং বাকুর কর্তৃপক্ষকে সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানান। কেউ কেউ এ পরিস্থিতির সঙ্গে তুরস্কের ১৯৯৭ সালের ‘উত্তরাধুনিক অভ্যুত্থান’-পরবর্তী সময়ে হিজাব পরা নারীদের বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রবেশ ও সরকারি চাকরিতে কাজের ক্ষেত্রে আরোপিত বিধিনিষেধের তুলনা করেন।

বিক্ষোভ নিয়ে সরাসরি তুরস্কের নাম উল্লেখ না করলেও দেশটির প্রতি পরোক্ষ সমালোচনা করেছেন আজারবাইজানের প্রেসিডেন্ট ইলহাম আলিয়েভ। ক্ষমতাসীন নিউ আজারবাইজান পার্টির কংগ্রেসে তিনি বলেন, ‘আমাদের জীবনযাপনের ধরনে হস্তক্ষেপ করবেন না।’ তবে এ মন্তব্যের বিষয়ে তুরস্কের কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানায়নি।

এর আগে গত ২৩ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে দেওয়া ভাষণে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান বলেন, মুসলিম নারীরা ক্রমবর্ধমান বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন। যদিও তিনি সরাসরি আজারবাইজানের নাম উল্লেখ করেননি, তার বক্তব্যকে হিজাব ও ধর্মীয় পোশাক নিয়ে চলমান আন্তর্জাতিক বিতর্কের প্রেক্ষাপটে দেখা হচ্ছে।

সূত্র: আল-জাজিরা