ই-পেপার

প্রস্তুতি না নেওয়াটা হবে দায়িত্বজ্ঞানহীনতা—মার্কিন আগ্রাসনের ‘ঝুঁকি’ সম্পর্কে মার্ক কার্নি

কানাডার বিরুদ্ধে মার্কিন সামরিক অভিযানের ঝুঁকিটিকে

আপডেট: ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৮:৩৮
৩২ ভিউ
প্রস্তুতি না নেওয়াটা হবে দায়িত্বজ্ঞানহীনতা—মার্কিন আগ্রাসনের ‘ঝুঁকি’ সম্পর্কে মার্ক কার্নি

ছবি সংগৃহীত: ফাইল ছবি

অনলাইন ডেস্ক : কানাডার বিরুদ্ধে মার্কিন সামরিক অভিযানের ঝুঁকিটিকে তিনি গুরুত্ব সহকারে নিয়েছেন কি না; নিউইয়র্ক টাইমস-এর এমন প্রশ্নের জবাবে দেশটির প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি জানিয়েছেন, তিনি চরম আকস্মিক ঝুঁকি খতিয়ে দেখেছেন।

কার্নি পত্রিকাটিকে বলেন, ‘আমি মনে করি এই ধরনের দায়িত্বে থাকলে চরম আকস্মিক ঝুঁকিগুলো খতিয়ে দেখার একটি দায়বদ্ধতা থাকে।

এটি কেবলই ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা। মার্কিন আগ্রাসনের বিষয়টি কোনো স্বাভাবিক পরিস্থিতি নয়। তবে এর জন্য প্রস্তুতি না নেওয়াটা হবে দায়িত্বজ্ঞানহীনতা।’

কানাডায় মার্কিন আগ্রাসন এবং কানাডাকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ৫১তম অঙ্গরাজ্য বানানোর ব্যাপারে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বারবার বলা বক্তব্যের বিষয়ে চাপ দেওয়া হলে মার্ক কার্নি এই মন্তব্য করেন।

নিউইয়র্ক টাইমসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে কার্নি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ওপর তাদের অর্থনৈতিক ও কৌশলগত নির্ভরতা কমাতে অন্যান্য দেশের সঙ্গে সম্পর্ক বহুমুখীকরণের বেশ কয়েকটি উপায় তুলে ধরেন। শুল্ক আরোপ এবং অন্যান্য বাণিজ্য পদক্ষেপের পরিপ্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রী ও কানাডার অন্যান্য রাজনীতিবিদরা এখন মার্কিন নির্ভরতাকে একটি ঝুঁকি হিসেবে দেখছেন।

একটি উদাহরণ হিসেবে কার্নি বলেন, কানাডা ইলন মাস্কের স্পেসএক্স-এর দেওয়া স্যাটেলাইট ব্রডব্যান্ড সেবার ওপর নির্ভরতা কমানোর চেষ্টা করবে।

তিনি বলেন, ‘স্টারলিংক থেকে আমরা আমাদের নির্ভরতা সরিয়ে অন্য বিকল্পের দিকে যাব, এতে কোনো সন্দেহ নেই।

একই সঙ্গে এই সম্ভাব্য সম্পর্কচ্ছেদের কিছু সীমাবদ্ধতাও রয়েছে। কার্নি বলেন, একে অপরের সঙ্গে সংযুক্ত অটোমোবাইল খাতকে ভেঙে ফেলার কোনো যৌক্তিকতা নেই। সাক্ষাৎকারে কার্নি আরো বলেন যে, তিনি বিশ্বজুড়ে মার্কিন ডলারের বিকল্পের চাহিদা বাড়বে বলে আশা করছেন। আংশিকভাবে যার কারণ হলো বাণিজ্যিক অংশীদারদের বিরুদ্ধে ট্রাম্প প্রশাসনের এই চাপ সৃষ্টির কৌশল।

প্রতিবেদন অনুযায়ী কার্নি বলেন, ‘পুরোপুরি মার্কিন ডলারের ওপর নির্ভরশীল একটি বৈশ্বিক আর্থিক ব্যবস্থা টেকসই নয় এবং একাধিক রিজার্ভ কারেন্সি বা মুদ্রা সংবলিত একটি বহুমুখী ব্যবস্থা আরো বেশি নমনীয়তা দেবে।

দুই মেয়াদে সাবেক কেন্দ্রীয় ব্যাংকারের দায়িত্ব পালন করা কার্নি সাক্ষাৎকারে বলেন, ‘এটি মূলত—একবার বোকা বানালে দোষ তোমার, দ্বিতীয়বার বোকা বানালে দোষ আমার’; এমন একটি বিষয়। আপনি যখন একবার এটি দেখে ফেলবেন, তখন থেকেই আপনি ভাবতে শুরু করবেন যে কিভাবে এই নির্ভরতা থেকে সরে আসা যায়?’

উত্তেজনাপূর্ণ সম্পর্ক থাকা সত্ত্বেও কার্নি জানান যে, তিনি ট্রাম্পের সঙ্গে ঘন ঘন কথা বলছেন। গত আগস্টে নাটকীয়ভাবে বাণিজ্য আলোচনা ভেস্তে যাওয়ার এবং উভয় পক্ষ নতুন করে শুল্ক আরোপ করার পর থেকে তাদের মধ্যে বেশ কয়েকবার কথা হয়েছে বলেও জানান কার্নি।