ই-পেপার

অস্ত্র ঘাটতির তথ্য ফাঁসে ক্ষুব্ধ ট্রাম্প, কঠোর কারাদণ্ডের’ হুমকি

ইরানের বিরুদ্ধে চলমান সামরিক সংঘাত ও সামরিক অভিযানের

আপডেট: ০৭ আগস্ট ২০২৬, ২০:৫৭
১০ ভিউ
অস্ত্র ঘাটতির তথ্য ফাঁসে ক্ষুব্ধ ট্রাম্প, কঠোর কারাদণ্ডের’ হুমকি

ছবি সংগৃহীত: ফাইল ছবি

অনলাইন ডেস্ক : ইরানের বিরুদ্ধে চলমান সামরিক সংঘাত ও সামরিক অভিযানের প্রেক্ষাপটে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের গোলাবারুদ ও ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত ফুরিয়ে যাওয়া সংক্রান্ত প্রতিবেদন ঘিরে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মার্কিন প্রতিরক্ষা দফতর পেন্টাগনের গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্রের অভাব ও ক্যাবিনেট বৈঠকের অভ্যন্তরীণ তথ্য গণমাধ্যমে ফাঁস করার জন্য দায়ী কর্মকর্তাদের "রাষ্ট্রদ্রোহী" হিসেবে আখ্যা দিয়ে তাদের খুঁজে বের করার এবং দীর্ঘমেয়াদি কারাদণ্ড দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।

সম্প্রতি সিএনএন এবং ওয়াশিংটন পোস্টের এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, ক্যাম্প ডেভিডে অনুষ্ঠিত মার্কিন মন্ত্রিসভার এক বৈঠকে প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথের ওপর ক্ষোভ ঝাড়েন ট্রাম্প। সেখানে গাইড ক্ষেপণাস্ত্র (যেমন ATACMS, PrSM) এবং আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ইন্টারসেপ্টরের (যেমন Patriot ও THAAD) তীব্র ঘাটতি নিয়ে তিনি ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানান এবং জানতে চান কেন তাকে বিষয়টি আগে থেকে সঠিকভাবে জানানো হয়নি। প্রতিবেদনে বলা হয়, গোলাবারুদের পর্যাপ্ত সরবরাহ না থাকায় ইরানের বিরুদ্ধে বড় ধরনের কিছু সামরিক পদক্ষেপ স্থগিত রাখতে বাধ্য হয়েছে ওয়াশিংটন।

তবে এই প্রতিবেদনের কথা সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প ও হোয়াইট হাউস। ট্রাম্প তার সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম 'ট্রুথ সোশ্যাল'-এ লেখেন, "যুক্তরাষ্ট্রের কাছে প্রচুর পরিমাণে গোলাবারুদ মজুত রয়েছে। দেশের ইতিহাসে এখন সবচেয়ে বেশি অস্ত্র ও গোলাবারুদ কারখানা তৈরি করা হচ্ছে এবং চাহিদা অনুযায়ী তা সরবরাহ করা হচ্ছে।"

অন্য এক বার্তায় ট্রাম্প এসব তথ্য ফাঁসের ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, "এই ধরনের রাষ্ট্রদ্রোহী মন্তব্য যারা বাইরে ফাঁস করছে, তাদের কঠোরভাবে চিহ্নিত করা হচ্ছে। তাদের বিরুদ্ধে দীর্ঘমেয়াদি কারাদণ্ডের আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।"

একই সাথে ডিফেন্স সেক্রেটারি পিট হেগসেথের পাশে দাঁড়িয়ে ট্রাম্প বলেন, "পিট হেগসেথ যে কাজ করছেন তাতে আমি অত্যন্ত সন্তুষ্ট। মিডিয়ার এই খবরগুলো পুরোটাই ভুয়া।" হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লিভিট এবং পেন্টাগনের মুখপাত্রও ওয়াশিংটন পোস্ট ও সিএনএনের রিপোর্টকে "সম্পূর্ণ কাল্পনিক ও ফেক নিউজ" বলে উড়িয়ে দিয়েছেন।

তবে প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকরা বলছেন, গত কয়েক মাসের সংঘাত ও আন্তর্জাতিক সামরিক সহায়তার কারণে মার্কিন হাই-টেক ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত পুনর্গঠন করতে কয়েক বছর পর্যন্ত সময় লেগে যেতে পারে, যা স্বল্পমেয়াদে মার্কিন সামরিক সিদ্ধান্তগুলোতে কিছুটা চাপ তৈরি করছে।