পাকিস্তানের বিচারব্যবস্থার প্রশংসায় পঞ্চমুখ ইলন মাস্ক
অনলাইন ডেস্ক, বাংলাদেশ - Friday, June 5, 2026 5
অনলাইন ডেস্ক : পাকিস্তানের বিচারব্যবস্থার প্রশংসা করেছেন বর্তমান বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ ধনকুবের এবং বৈদ্যুতিক গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান টেসলার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সের মালিক ইলন মাস্ক। ২০২০ সালের বহুল আলোচিত লাহোর মোটরওয়ে ধর্ষণ মামলায় দুই আসামির মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখার পর তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে এই প্রতিক্রিয়া জানান। তিনি বলেন, গুরুতর অপরাধের ক্ষেত্রে পশ্চিমা দেশগুলোরও এমন বিচারব্যবস্থা অনুসরণ করা উচিত।
সংবাদমাধ্যম গালফ নিউজ বলছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেয়া ওই পোস্টে মাস্ক লিখেছেন, ‘বাহ, পাকিস্তান! পশ্চিমা বিশ্বে আমাদেরও এমনটাই করা উচিত’। লাহোর হাইকোর্ট দুই আসামির আপিল খারিজ করে বিচারিক আদালতের দেয়া সাজা বহাল রাখার পর তিনি এই মন্তব্য করেন।
অন্যদিকে জিও নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিচারপতি সৈয়দ শাহবাজ আলী রিজভি ও বিচারপতি তারিক মাহমুদ বাজওয়ার সমন্বয়ে গঠিত দুই সদস্যের বেঞ্চ আবিদ মালহি ও শফকত বাগার করা আপিল খারিজ করে দেন। একই সঙ্গে সন্ত্রাসবিরোধী আদালতের দেয়া সব সাজা বহাল রাখা হয়।
২০২০ সালের সেপ্টেম্বরে লাহোর-শিয়ালকোট মোটরওয়েতে ঘটে যাওয়া এক নৃশংস ঘটনার সূত্র ধরে এই মামলা দায়ের করা হয়েছিল। সন্তানদের নিয়ে ভ্রমণরত এক ফরাসি নারীর গাড়ি বিকল হয়ে গেলে সশস্ত্র কয়েকজন ব্যক্তি তাকে আক্রমণ করে। ওই ঘটনায় তাকে ধর্ষণের শিকার হতে হয়।
ঘটনাটি পাকিস্তানজুড়ে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি করে এবং নারীদের নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়। ওই ঘটনায় দুই আসামির বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয় এবং লাহোর হাইকোর্টও সেই রায় বহাল রাখে। এছাড়া ডাকাতি, অপহরণ ও অন্যান্য অপরাধের দায়ে বিচারিক আদালত যে কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড দিয়েছিল, সেগুলোও বহাল রাখা হয়েছে।
শুনানির সময় আসামিপক্ষের আইনজীবীরা দাবি করেন, বিচারিক আদালত মামলার তথ্য-প্রমাণ যথাযথভাবে মূল্যায়ন করেনি। তাই তারা দণ্ডাদেশ বাতিলের আবেদন জানান। অন্যদিকে প্রসিকিউটর রাহিলা শাহিদ আপিলের বিরোধিতা করে বলেন, বিচারিক আদালতের রায় শক্তিশালী প্রমাণের ভিত্তিতে দেয়া হয়েছে এবং তা আইনগতভাবে সঠিক।
শেষ পর্যন্ত আদালত প্রসিকিউশনের যুক্তির সঙ্গে একমত হয়ে আপিল খারিজ করে দেয়। পাঞ্জাবের প্রসিকিউটর জেনারেল ফারহাদ আলী শাহ বলেন, এই মামলা পাকিস্তানের ফৌজদারি বিচারব্যবস্থার জন্য একটি বড় পরীক্ষা ছিল। তিনি তদন্তকারী কর্মকর্তা ও প্রসিকিউটরদের প্রশংসা করেন।
প্রসিকিউটরদের ভাষ্য অনুযায়ী, মামলার তদন্তে ভুক্তভোগীকে শনাক্ত, ঘটনাস্থলের সঙ্গে এক আসামির সংশ্লিষ্টতা প্রমাণকারী ডিএনএ নমুনা এবং অন্য আসামিকে শনাক্ত করতে ব্যবহৃত মোবাইল ফোনের তথ্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল।
২০২০ সালের ৯ সেপ্টেম্বর লাহোরের গুজ্জরপুরা থানায় এ ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়। পরে ২০২১ সালের মার্চে সন্ত্রাসবিরোধী আদালত দুই আসামিকে ধর্ষণের দায়ে মৃত্যুদণ্ড দেয়। মৃত্যুদণ্ডের পাশাপাশি ডাকাতির দায়ে প্রত্যেককে ১৪ বছরের কারাদণ্ড ও আড়াই লাখ রুপি জরিমানা করা হয়।
এছাড়া ভুক্তভোগীর সন্তানদের অপহরণের দায়ে তাদের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং গাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত করার অপরাধে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেয়া হয়।
