শিক্ষা

নোবিপ্রবি’র পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক দপ্তরের কর্মচারীর বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ

অনলাইন ডেস্ক, বাংলাদেশ - Wednesday, May 6, 2026 11

অনলাইন ডেস্ক : নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন সনদ উত্তোলন সংক্রান্ত ফি ব্যাংকে জমা না দিয়ে ব্যাংকের গ্রহণ সংক্রান্ত নকল সীল তৈরিপূর্বক জালিয়াতির মাধ্যমে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক দপ্তরের এক কর্মচারীর বিরুদ্ধে। অভিযুক্ত কর্মচারীর হলেন অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার টাইপিস্ট মো. শাহাদাত হোসেন।

 

জানা যায়, শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন সনদ উত্তোলনের জন্য নির্ধারিত ফি বিশ্ববিদ্যালয়ের একাউন্টে জমা দিয়ে সে সংক্রান্ত রশিদ পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক দফতরে জমা দিতে হয়। শিক্ষার্থীরা সনদ উত্তোলন সংক্রান্ত তথ্যের জন্য পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক দপ্তরে আসলে অভিযুক্ত কর্মচারী সুকৌশলে তাদের থেকে টাকা নিয়ে তিনিই জমা দিয়ে দিবেন বলে জানাতেন এবং নির্ধারিত সময়ে সনদ প্রদানের বিষয়েও আশ্বাস দিতেন। কিন্তু তিনি সে টাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একাউন্টে জমা না দিয়ে ব্যাংকের গ্রহন সংক্রান্ত নকল সীল ব্যবহার করে সে টাকা আত্মসাৎ করতেন।

 

জালিয়াতির মাধ্যমে অর্থ আত্মসাতের এ প্রক্রিয়া চলতে থাকলেও বিপত্তি বাঁধে এক শিক্ষার্থীর সন্দেহ থেকে, সনদ উত্তোলনের জন্য ওশানোগ্রাফী বিভাগের এক শিক্ষার্থী পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক দপ্তরে গেলে সনদ উত্তোলন ফি ২ হাজার টাকা তিনি জমা দিবেন বলে  সুকৌশলে নিজের কাছে নেন। পরবর্তীতে ওই শিক্ষার্থীর সন্দেহ হলে তিনি অফিসের অন্যান্য স্টাফদের ঘটনার বিস্তারিত জানান, পরবর্তীতে তারা ব্যাংক একাউন্ট চেক করে দেখেন ওই তারিখে ব্যাংক টাকা গ্রহন সংক্রান্ত রশিদ থাকলেও ব্যাংক একাউন্টে কোন টাকা জমা হয়নি।

 

টাকা গ্রহণ সংক্রান্ত ব্যাংকের সীলের মধ্যেও অসঙ্গতি ধরা পড়ে, প্রকৃত সিলে যেখানে ‘Cash Receive’ লেখা থাকে, সেখানে ব্যবহৃত ভুয়া সিলে ‘Cash Received’ লেখা ছিল। অর্থাৎ ভুয়া সীলে অতিরিক্ত d ব্যবহার করা হয়েছে। এছাড়াও সীলের দৃশ্যমান পার্থক্যও পরিলক্ষিত হয়। পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক দপ্তরের অভ্যন্তরীণ তদন্তে বেরিয়ে আসে এ সংক্রান্ত গত ৩ মাসে করা তার আর্থিক জালিয়াতির তথ্য।

 

উক্ত ঘটনার পর অভিযুক্ত কর্মচারীকে অন্য বিভাগে বদলি করা হয়েছে। এবং আত্মসাত করা টাকাও বিশ্ববিদ্যালয়ের একাউন্টে জমা করা হয়েছে বলেও নিশ্চিত হওয়া গেছে।

 

এ ঘটনায় ৩ সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। রেজিস্ট্রার তামজিদ হোসাইন সাক্ষরিত এক অফিস আদেশে বলা হয়েছ, নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক দপ্তরে শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন সনদ উত্তোলন সংক্রান্ত ফি ব্যাংকে জমা না দিয়ে ব্যাংকের গ্রহণ সংক্রান্ত নকল সীল তৈরিপূর্বক টাকা জালিয়াতি ও অন্যান্য বিষয় তদন্তপূর্বক প্রতিবেদন প্রদানের লক্ষ্যে নিম্নোক্ত সম্মানিত ব্যক্তিবর্গের সমন্বয়ে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হলো।

 

এতে রসায়ন বিভাগ চেয়ারম্যান অধ্যাপক মোহাম্মদ সাইফুল আলমকে আহ্বায়ক, হিসাব পরিচালক দপ্তরের ডেপুটি রেজিট্রার মোঃ হুমায়ুন কবিরকে সদস্য এবং কাউন্সিল শাখার ডেপুটি রেজিস্ট্রার মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মামুনকে সদস্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।

 

এ বিষয়ে অভিযুক্ত মো. শাহাদাত হোসেনের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তা সম্ভব হয়নি।

এ বিষয়ে নোবিপ্রবি উপাচার্য ও পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক দপ্তরের কন্ট্রোলার অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ইসমাইল বলেন, এ ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে,  তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের আলোকে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।